২৪ জানুয়ারি ২০২০
সংসদ থেকে বিএনপি সদস্যদের ওয়াকআউট

সিটি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

-

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারি দলের আচরণবিধি ভঙ্গের জবাব না দিয়ে আওয়ামী লীগের সিনিয়র দুই সদস্যের বিরুদ্ধে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে গতকাল সন্ধ্যায় সংসদের বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করে বিএনপি। পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত আলোচনা চলাকালে বিএনপির হারুনুর রশীদের নেতৃত্বে এই ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে ফ্লোর নিয়ে প্রথমে হারুন অর রশীদ বর্তমান সরকারের সময় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচনের সমালোচনা করে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করার দাবি জানান। তিনি সরকারি দলের দুইজন সংসদ সদস্যকে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সমন্বয়ক করার কথা উল্লেখ করে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ করেন। তিনি নির্বাচন অবাধ করতে উদ্যোগ না নিলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করারও হুমকি দেন।
হারুনুর রশীদ বলেন, নির্বাচনটি আসলে হবে, নাকি প্রহসন চলবে? সারা দেশে নির্বাচনের ব্যাপারে সরকার বারবার বলছেন যে আপনারা নির্বাচনে আসেন শেষ পর্যন্ত থাকেন। আমরা শেষ পর্যন্ত থাকব কিন্তু আমাদের মিছিল থেকে লোক ধরে নিয়ে বলবেন ছিনতাইকারী, মিছিল থেকে ধরে নিয়ে বলবেন পকেটমার। মিছিল থেকে ধরে নিয়ে গায়েবি মামালা দেবেন। এটা কত দিন চলবে।
তিনি বলেন, দেশে কি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারব না। আমরা কি নির্বাচনের পরিবেশ দেশে আনতে পারব না। এটি সদিচ্ছার ব্যাপার। তার প্রমাণ আমার এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয়েছে একেবারে শান্তিপূর্ণ সেখানে কোনো ধরনের সহিংসতা হয়নি। মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছে। এটা সদিচ্ছার ব্যাপার। চট্টগ্রামে ২২ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়। কাজেই সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে মন্ত্রী, এমপিদের অংশগ্রহণ বা কোনো ঘরোয়া সভা করার সুযোগ নাই এমপিদের। আপনারা আইন পাস করেছেন, আইন করে আবার আপনারাই দাবি জানাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনের কাছে। পুলিশের ঘাড়ে কয়টা মাথা আছে সিনিয়র এমপিরা মন্ত্রীরা যদি পুলিশকে বলে এটা কর তার বাইরে পুলিশ কোনো কাজ করতে পারে? তিনি বলেন, জনপ্রিয়তা যাচাই করতে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ করুন।
হারুনুর রশীদের বক্তব্যের পর সরকার দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ ও আমির হোসেন আমু ফ্লোর নিয়ে তার জবাব দেন। তারা অতীতে বিএনপি সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত সংসদ উপনির্বাচনসহ নানা নির্বাচনে অনিয়মের কথা উল্লেখ করে তখনকার বিএনপি সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তাদের বক্তব্যের পর হারুনুর রশীদ আবারো ফ্লোর চাইলে স্পিকার ফ্লোর না দিলে হারুনুর রশীদ মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন। সরকারি দলের সদস্যরা অপ্রাসঙ্গিক কথা বলছেন দাবি করতে থাকেন। একপর্যায়ে দলীয় সদস্যদের নিয়ে তিনি ওয়াকআউট করেন।
ওয়াকআউটের বিষয়ে হারুনুর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। দুইজন সিনিয়র নেতা নির্বাচনে সমন্বয় দায়িত্ব পালন করছেন। এ প্রেক্ষাপটে সংসদে সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না তা জানতে চেয়েছি। কিন্তু তারা আমার বক্তব্যের জবাব না দিয়ে অপ্রসাঙ্গিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। তখন আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে ওয়াকআউট করেছি। তার আগে জবাব দিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ওনার কথাই চট্টগ্রামে ২২ শতাংশ ভোট কাস্টিং যদিও ২৪ শতাংশ। নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু হয়েছে, কারণ যদি সেখানে আওয়ামী লীগ প্রভাব খাটাতো তাহলে ৫০ শতাংশের বেশি ভোটে আমাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পারত। তা তো করেনি।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি বলেছেন ৯০ ভাগ মানুষ আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থাশীল। হারুন প্রশ্ন রেখেছেন ওনার কাছে কি জনমত মাপার যন্ত্র আছে? এর জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, মাপার যন্ত্র আছে হারুনুর রশীদের দলের চেয়ারপারসনের কাছে। কারণ ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরে তিনি বলেছিলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০টার বেশি আসন পাবে না। ওনার কাছে মাপার যন্ত্র আছে। এই সেই আওয়ামী লীগ যার অধীনে পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়েছিল।
এমপিদের প্রচারণা নিয়ে তোফায়েল বলেন, আমি নিজে ইসিতে গিয়েছিলাম, তাদের সাথে পরামর্শ করতে। তারা স্বীকার করেছে এটা আইন না। আইন হলে সংসদে পাস করা হয়। এটা হলো একটা বিধি। সেই বিধিতে লেখা আছে সুবিধা ভোগী এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। কিন্তু সংজ্ঞায় এমপির নাম আছে এটা ঠিক। আপনি বলেন, আপনি (হারুন) আমি কি সুবিধাভোগী?
সুবিধাভোগীর সংজ্ঞা কী? আমি মন্ত্রী ছিলাম, এমপি ছিলাম, এখনো আছি এটা আমার অপরাধ। আর মওদুদ আহমদ উত্তরের সমন্বয়ক। তিনি কি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন, তিনি এমপি নন, বিএনপির আমলে মন্ত্রী ছিলেন, এরশাদের আমলে উপপ্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। মওদুদ সাহেব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি না, গুরুত্বপূর্ণ হলাম আমরা। আমরা বলেছি মুজিববর্ষ শুরু হয়ে গেছে, আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে মুজিববর্ষ উপলক্ষে সভা করব, ভোট চাইব না।
আমির হোসেন আমু বলেন, সব সময় বিএনপির রাজনীতি নেগেটিভ, নির্বাচন নেগেটিভ পলিটিকস করে আসছিল। ১৯৮৬ সালে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নাই। তারা ক্ষমতা গ্রহণের অন্য পথ অবলম্বন করার চেষ্টা করেছিল। পরবর্তীকালে তারা নির্বাচন বিমুখতা প্রমাণ করেছে। পাঁচটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরেও যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে না তাদের চিন্তাচেতনা কোথায় ছিল। তারা নির্বাচন বিমুখতায় সব সময় থাকে। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হচ্ছে রাজনীতিবিরোধী।


আরো সংবাদ