১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

৩০ বছর পর সগিরা হত্যার রহস্য উদঘাটন : চার আসামি গ্রেফতার

-

রাজধানীর ভিকারুননেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে গৃহবধূ সগিরা মোর্শেদ হত্যাকাণ্ডের ৩০ বছর পরে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত চার আসামিকে শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পিবিআইয়ের ডিআইজি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের কথা জানানো হয়।
১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সগিরা মোর্শেদ। পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে দুষ্কৃতরা তাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে।
এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া চারজন হলোÑ হত্যাকাণ্ডের শিকার সগিরা মোর্শেদের স্বামীর ভাই ডা: হাসান আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা শাহীন, প্যান ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা আনাস মাহমুদ রেজওয়ান ও আবাসন ব্যবসায়ী মারুফ রেজা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১০ নভেম্বর আনাস মাহমুদ, ১১ নভেম্বর ডা: হাসান আলী চৌধুরী ও তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা শাহীন, ১৩ নভেম্বর মারুফ রেজাকে গ্রেফতার করা হয়। চারজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানান, ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে হত্যার শিকার হন সগিরা মোর্শেদ। তার স্বামী আব্দুছ ছালাম চৌধুরী রমনা থানায় মামলা করেন। এ মামলায় মন্টু নামে একজনকে দায়ী করে অভিযোগপত্র দাখিল করে ডিবি পুলিশ। এই মামলা দীর্ঘদিন আদালতে চাপা পড়ে থাকার পর চলতি বছরের ১১ জুলাই পিবিআইকে তদন্ত করার নির্দেশ দেন আদালত।
তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে চারজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। চারজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল করার জন্য আরো দুই মাস সময় চাওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
হত্যার কারণ সম্পর্কে পিবিআই প্রধান বলেন, নিহত সগিরা ও গ্রেফতারকৃত সায়েদাতুল মাহমুদা শাহীন সম্পর্কে জা। পারিবারিক দ্বন্দ্বে সগিরাকে শায়েস্তার জন্য মারুফ রেজাকে কন্টাক্ট দেয়া হয়। সায়েদাতুলের পরিকল্পনায় যুক্ত হন তার স্বামী ডা: হাসান আলী চৌধুরী। তার রোগী ছিলেন প্যান ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা আনাস মাহমুদ রেজওয়ান। শায়েস্তা করার কথা আনাস মাহমুদকে জানান হাসান আলী। তখন আনাস মাহমুদ মারুফ রেজাকে কাজ দেন। ওই অনুযায়ী মারুফ রেজা প্রথমে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। বাধা দেয়ার পর সগিরা মোর্শেদকে গুলি করে। এতেই তিনি মারা যান।


আরো সংবাদ




hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik