০৬ ডিসেম্বর ২০১৯
মুক্তিযোদ্ধা দলের আলোচনা

আ’লীগ স্বাধীনতার প্রতিনিধিত্ব করে না : মওদুদ

-

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, অনুপ্রবেশকারীদের ভিড়ে আওয়ামী লীগ এখন স্বাধীনতার প্রতিনিধিত্ব করছে না। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, আমি মনে করি বিএনপিতে যত মুক্তিযোদ্ধা আছে আওয়ামী লীগে তত মুক্তিযোদ্ধা এখন নাই। এখন তারা নিজেরাই বলছেন যে, তাদের দল অনুপ্রবেশকারীতে ভরে গেছে। অর্থাৎ তারা মুক্তিযোদ্ধা নয়, অনুপ্রবেশকারী। তারা নিজেরাই যদি এটা স্বীকার করে তাহলে ধরে নিতে হবে যে, আওয়ামী লীগ এখন আর স্বাধীনতার প্রতিনিধিত্ব করে না। বরং যে মুক্তিযুদ্ধের জন্য আমরা সংগ্রাম করেছি সেটাকে ভূলুণ্ঠিত করে দিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীতে সরকার এখন নিজেদের পরিচালনা করছে। বেগম খালেদা জিয়া আইনি প্রক্রিয়ায় নয়, আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্তি পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মওদুদ আহমদ। জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তৃতা করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা শিরিন সুরতানা, শামীমুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান প্রমুখ।
মওদুদ আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ চেষ্টা করেছিল যে তারাই স্বাধীনতার উত্তরাধিকার বহন করে। কিন্তু দেশের মানুষের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, এই স্বাধীনতার চেতনার নতুন সংজ্ঞা তারা দিয়েছেন। সংজ্ঞাটা হলোÑ স্বাধীনতার চেতনা মানে হলো একদলীয় শাসন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অর্থ হলো ভোট চুরি করে ক্ষমতা দখল করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা, স্বাধীনতার চেতনার মানে হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকতে পারবে না, আইনের শাসন থাকতে পারবে না এবং আমাদের গণমাধ্যমেও স্বাধীনতা থাকতে পারবে না। এই হলো তাদের নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী স্বাধীনতার চেতনা। মওদুদ বলেন, আজ আমাদের কথা বলা ও ভোটের অধিকার নাই। ২৪ বছর আন্দোলন করে, মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম। এখন ভাবতে হয় কেন আমরা এই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম?
সরকারে অস্বস্তি-অস্থিরতা চলছে দাবি করে তিনি বলেন, দেশে কোনো রাজনীতি নাই, বিরোধী দলও নাই। কিন্তু সরকারের মধ্যে বড় ধরনের একটি অস্থিরতা আমরা লক্ষ করছি। এর কারণ তাদের দুঃশাসন-দুর্নীতি-অত্যাচার-নিপীড়ন-নির্যাতন। তাদের অপকর্মেই তাদের পতন ঘটবে।
তিনি বলেন, আন্দোলন অনেক রকমের হতে পারে। আন্দোলন যে একেবারে রাস্তায় গিয়ে রাজপথে গিয়ে আন্দোলন হবে এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু তারপরও এমন ঘটনা হতে পারে যে, দেশের মানুষ নিজেরা স্বতস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে যাবে। তখন তাদের প্রতিরোধ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না।
জাবিতে আন্দোলন প্রসঙ্গে মওদুদ বলেন, কী এত আকর্ষণ এই ভিসির প্রতি? দেশের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। কেন? এরা তো আদর্শ পুরুষ হওয়ার কথা। এদের সম্মান করার কথা শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা তাদের সম্মান করেন না। কারণ তারা সম্মান রক্ষা করতে পারেন না। তারা সব ধরনের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik