০৬ ডিসেম্বর ২০১৯

সংসদে রাঙ্গাকে তুলোধোনা বহিষ্কার দাবি

-

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্য দেয়ায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গাকে তুলোধোনা করেছেন সংসদের সিনিয়র সদস্যরা। একই সাথে তাকে জাতীয় পার্টি ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ পদ থেকে বহিষ্কার এবং তার এ ধরনের কটূক্তিতে জাতীয় পার্টির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তারা রাঙ্গার ওই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং রাঙ্গাকে দুঃখ প্রকাশ ও সংসদে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ারও দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এক অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে এ দাবি জানান সংসদ সদস্যরা। আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সিনিয়র সদস্যরাও তাকে তুলোধোনা করেন। রাঙ্গা কিভাবে সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় পার্টির মহাসচিব হলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তার দলের সংসদ সদস্যরা। এক অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তাহজীব আলম সিদ্দিকী, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদ, মুজিবুল হক চুন্নু, গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। এ সময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।
পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ প্রসঙ্গের সূত্রপাত করে তাহজীব আলম সিদ্দিকী বলেন, নূর হোসেন দিবসে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন মশিউর রহমান রাঙ্গা। নূর হোসেনকে হত্যার পর সারা দেশের আনাচে কানাচে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। সেই নূর হোসেনকে নিয়ে অপমানজনক বক্তব্যের প্রতিকার চাই। তার বক্তব্য প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, রাঙ্গার বক্তব্যে বাংলার মানুষের হৃদয়ে আঘাত লেগেছে। আমি অবাক হলাম রাঙ্গা বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নূর হোসেনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। অথচ রাঙ্গা ভুলে গেছেন এরশাদও নূর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন, সংসদে ক্ষমা চেয়েছিলেন। রাঙ্গা তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে। তার এই বক্তব্যের ধিক্কার জানাই। তাকে ক্ষমা চাইতে হবে।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, নূর হোসেনকে যখন হত্যা করা হয়, তখন দেশে ফেনসিডিল বা ইয়াবা ছিল না। ভোট ডাকাতি, মিডিয়া ক্যুর কথা বলা হয়। ভোট ডাকাতি বা মিডিয়া ক্যু’র মূলহোতা ছিল এরশাদ। আজ সেটাকে ঢাকার জন্য রাঙ্গা এত বড় দুঃসাহস দেখাতে পারে না। রাঙ্গাকে অবশ্যই তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, রাঙ্গা যে কথা বলেছেন, এ কোনো সুস্থ মানুষ বলতে পারে না। তাকে শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না, জাতীয় পার্টিকেও তার এ বক্তব্যের ক্লারিফিকেশন দিতে হবে।
সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, রাঙ্গা প্রমাণ করেছেন, স্বৈরাচার ও দালালদের চরিত্র পরিবর্তন হয় না। এর জন্য তাকে ক্ষমা চাইতে হবে।
নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেন, রাঙ্গা শুধু নূর হোসেনের বিরুদ্ধে নয়, দেশের স্বাধীনতা, সংসদ ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধেও বক্তব্য দিয়েছেন। রাঙ্গাকে ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা না চাইলে জাতীয় পার্টি থেকে তাকে বহিষ্কার করতে হবে।
রাঙ্গার কড়া সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, বান্দরকে লাই দিলে গাছের মাথায় ওঠে। ও এ ধৃষ্টতা দেখায় কিভাবে? এ সংসদই তাকে লাই দিয়েছে। হঠাৎ তাকে মন্ত্রী বানানো হলো, একটার পর একটা প্রমোশন দেয়া হলো। সংসদে সে এখন চিফ হুইপ। রাঙ্গার এ বক্তব্যের জন্য জাতীয় পার্টি লজ্জিত, দুঃখিত।
মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, এটা রাঙ্গার ব্যক্তিগত বক্তব্য। জাতীয় পার্টি দলীয়ভাবে এটা সমর্থন করে না। তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা তিনি নিজেই দেবেন। তিনি বলেন, নূর হোসেন মারা যাওয়ার পর তার বাসায় গিয়ে আমাদের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া নূর হোসেনের পরিবারকে সাহায্য করেছেন।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik