১৬ নভেম্বর ২০১৯

খুলনা বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার ৫০০ কিমি বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’
-

প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় তিন জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় প্রায় ৫০০ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার মধ্যরাতে এই অঞ্চলে আঘাত হানার কথা।
অভিযোগ রয়েছে, অবৈধভাবে বেড়িবাঁধের নিচে ছিদ্র করে পাইপ বসিয়ে চিংড়ি ঘেরে তোলা হচ্ছে নদীর লবণপানি। ফলে দুর্বল হয়ে পড়ছে বাঁধ। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার মানুষকে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জানা যায়, খুলনার কয়রা-দাকোপ, সাতক্ষীরার শ্যামনগর-আশাশুনি ও বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সিডর-আইলাসহ বিভিন্ন দুর্যোগের কবলে পড়া এসব এলাকার সাধারণ মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন আতঙ্কে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে জোয়ারে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হলে বাড়িঘর, ফসল, মাছের ঘের ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ দিকে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৮৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্র।
খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বেলাল হোসেন বলেন, কয়রার বেড়িবাঁধের বেশ কিছু এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ। পানির যে চাপ তাতে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে গ্রাম তলিয়ে সিডর-আইলার মতো ক্ষতি হতে পারে। কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, আতঙ্কের নাম বেড়িবাঁধ, শঙ্কার নাম বেড়িবাঁধ, দুঃখের নাম বেড়িবাঁধ, নির্ঘুম রাতের নামও এই বেড়িবাঁধ।
গভীর সমুদ্রে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আতঙ্কে উপকূলের লাখ লাখ মানুষ। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করায় অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছেন। এ দিকে এ তিন জেলার প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিংসহ সব ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সার্বক্ষণিক খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
শনিবার সকালে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফকর উদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেত দেখানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর প্রভাবে সাগর ও সংলগ্ন সুন্দরবনের নদ-নদী খুবই উত্তাল রয়েছে। মংলা সমুদ্রবন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একইসাথে খোলা হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রীয় একটিসহ দুইটি সাব কন্ট্রোল রুম। জাহাজের পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে, জানান তিনি। এ দিকে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও বরগুনাসহ উপকূলীয় জনপদে ত্রাণ ও উদ্ধারতৎপরতার জন্য খুলনা নৌঘাঁটি তিতুমীরে পাঁচটি জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খুলনার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: সাইদুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান জরুরি মেরামত করে মোটামুটি একটি পর্যায় নিয়ে এসেছি।
কন্ট্রোল রুমগুলো থেকে প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি কতদূর পর্যন্ত আসছে তা রেকর্ডিং করা হচ্ছে। আমাদের প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, আমরা এসডি লেভেলে যারা আছি তারা সবাই মাঠপর্যায়ে রয়েছি, জানান তিনি।


আরো সংবাদ

যথাযথ মর্যাদায় ভেটারানস ডে উদযাপিত নাশকতা কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে : রেলমন্ত্রী বাবরি মসজিদ রক্ষায় মুসলিমদেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে : ইসলামী আন্দোলন কুমিল্লায় ২ কিশোর ও গেটম্যানের বুদ্ধিমত্তায় রক্ষা পেল যাত্রীবাহী ট্রেন রাষ্ট্রপতি দেশে ফিরেছেন সাভার উপজেলা আ’লীগের সম্মেলনে : হাসিনা-সভাপতি রাজিব-সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রী দুবাই এয়ারশোতে যোগ দিতে আমিরাত যাচ্ছেন আজ ঢাবি থেকে ২৬ জনের পিএইচডি লাভ ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের অবসর গ্রহণের সুযোগ নেই : মহানগর জামায়াত অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি জ্ঞাপনপত্র প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রত্যাখ্যান তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলো কমিটি

সকল