১৪ নভেম্বর ২০১৯

১২ নভেম্বর উপকূল দিবস পালনের প্রস্তাব

-

১২ নভেম্বর উপকূল দিবস পালনের প্রস্তাব করেছেন উপকূল দিবস বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী রফিকুল ইসলাম মন্টু। প্রস্তাবের যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপকূলবাসীর কাছে স্মরণীয় দিন হিসেবে ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরকেই ‘উপকূল দিবস’ হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। এ দিন বাংলাদেশের উপকূলের ওপর দিয়ে বয়ে যায় সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ভোলা সাইক্লোন’। এই ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দেয় উপকূল। বহু মানুষ প্রাণ হারান। ঘরবাড়ি হারিয়ে পথে বসেন। এই ঘূর্ণিঝড় গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। এটি সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ছিল। ঘূর্ণিঝড়টি ৮ নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়। ক্রমে শক্তিশালী হতে হতে এটি উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ১১ নভেম্বর এটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটারে পৌঁছায়। ওই রাতেই উপকূলে আঘাত হানে। জলোচ্ছ্বাসের কারণে উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপগুলো প্লাবিত হয়। ওই ঘূর্ণিঝড়ে দশ লাখের বেশি লোকের প্রাণহানি ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।
জাতিসঙ্ঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বিশ্বের পাঁচ ধরনের ভয়াবহ প্রাণঘাতী আবহাওয়া ঘটনার শীর্ষ তালিকা প্রকাশ করে গত বছরের ১৮ মে। ওই তালিকায় বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড়টিকে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রাণঘাতী ঝড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য দিকে উইকিপিডিয়ার সূত্র বলছে, এ পর্যন্ত রেকর্ডকৃত ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়।
’৭০-এর ১২ নভেম্বরের প্রলয়ঙ্করি ঘূর্ণিঝড় স্মরণে এই দিনটিকে ‘উপকূল দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি ওঠে ২০১৭ সালে। সে বছর থেকেই দেশের সমগ্র উপকূল অঞ্চলজুড়ে উপকূল দিবস পালিত হয়ে আসছে। প্রথমবারের মতো উপকূল দিবস পালনে উপকূলজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। তারা উপকূলের জন্য একটি দিবসের দাবি তোলেন এবং ১২ নভেম্বরকে ‘উপকূল দিবস’ হিসেবে ঘোষণার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। প্রথম বছরের বিপুল সাড়া পাওয়ার ধারাবাহিকতায় এ বছর তৃতীয় বছর আরো বৃহৎ পরিসরে উপকূল দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়া হলো।
প্রসঙ্গত, পূর্বে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর এবং পশ্চিমে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কালিঞ্চি গ্রাম পর্যন্ত সমুদ্র রেখা বরাবর উপকূলের প্রায় পাঁচ কোট মানুষ প্রতিনিয়ত বহুমুখী দুর্যোগের সাথে বসবাস করেন। কেবল দুর্যোগ এলেই সংবাদমাধ্যমে তাদের খবরাখবর দেখা যায়। কিন্তু স্বাভাবিক সময়েও তাদের জীবন যে কতটা অস্বাভাবিক, সে বিষয়ে খুব একটা খোঁজ রাখা হয় না। উপকূল দিবসের দাবি বাস্তবায়ন হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলেও উপকূলের বিশেষ খবরের দিকে সংবাদমাধ্যমের নজর পড়বে। বিজ্ঞপ্তি।


আরো সংবাদ