১৭ নভেম্বর ২০১৯

হতাহতের ঘটনা দুঃখজনক ভোলায় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালিয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

-

ভোলার বোরহানউদ্দিনে জনতার বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে। তবে গুলির অনুমতি কে দিয়েছে, এটি তদন্ত করে বের করা হবে। এ ঘটনায় পুলিশ কিংবা অন্য কারো দায়িত্বে অবহেলা আছে কি না সে বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কারো অবহেলা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি সেখানকার ওসি ও এসপির সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের হ্যাক করা ফেসবুক আইডি থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট’ দেয়াকে কেন্দ্র করে তারা (তৌহিদি জনতা) সমাবেশ করে। একটা পর্যায়ে সমাবেশ শেষে তারা চলেও গিয়েছিল। এই সমাবেশের ২০০ থেকে ৩০০ লোক পুলিশ কর্মকর্তা এবং ইউএনও যেখানে ছিলেন সেখানে এসে মারমুখী আচরণ এবং দরজা ভাঙা শুরু করে। তখন ইউএনও গুলির নির্দেশ দেন। এটাও অবশ্য শোনা কথা। তবে তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ হলেই বোঝা যাবে কে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে। গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।
পুলিশ জনগণের ওপর গুলি ছুড়েছে, তার অনুমতি কে দিয়েছে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনায় আমি যতদূর জানি পুলিশ আত্মরক্ষার্থেই গুলি ছুড়েছে। তবে গুলির অনুমতি কে দিয়েছে এটা তদন্ত কওে বের করা হবে। তদন্তে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। অহেতুক সাধারণ মানুষদের ওপর পুলিশ গুলি করে থাকলে অবশ্যই তার বিচার হবে। কোনো পুলিশ সদস্য যদি ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি দেয়ার জন্য গুলি করে থাকে সেটাও তদন্তে বের হয়ে আসবে। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে আত্মরক্ষার জন্য ওই দিন পুলিশ গুলি চালিয়েছিল বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এই ঘটনায় কেউ কেউ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই এলাকার সংসদ সদস্য তাৎক্ষণিক ওখানে যান। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং যারা মৃত্যুবরণ করে তাদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। এ বিষয়ে সরকার আরো ব্যবস্থা নিচ্ছে। যাতে করে তারা আর্থিক সহযোগিতা পায়। তিনি বলেন, তারা (তৌহিদি জনতা) যেসব দাবি করছে তার ভিত্তিতে এ ক্ষেত্রে কেউ (ওসি ও এসপি) যদি কর্তব্যে অবহেলা করে থাকে অবশ্যই তার বিচার হবে। তাকে সরিয়ে দেবো, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।

 


আরো সংবাদ