২৩ আগস্ট ২০১৯

গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায় : নারী সংহতি

-

নারী সংহতির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দোষী ব্যক্তিকেও বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের অভাব দেখা দিলে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা ও অস্থিরতা বেড়ে যায়। কোনো ন্যায্য বিষয়ে প্রতিবাদ, সমাবেশ করতে গেলে যেখানে দফায় দফায় পুলিশি বাধা, হয়রানির সম্মুখীন হতে হয় সেখানে দিনেদুপুরে গণপিটুনিতে মানুষ মারার মতো ঘটনা কিভাবে ঘটতে পারে- তারা এ প্রশ্ন রাখেন। পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর নীরব ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ এ ধরনের ঘটনার জন্য রাষ্ট্র ও প্রশাসনের নাগরিক নিরাপত্তার প্রতি চরম অবহেলা এবং অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন তারা।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসলিমা আখতার এবং সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা দেব গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে একথা বলেন। তারা বলেন, বাড্ডায় তাসলিমা বেগমসহ সারা দেশে গণপিটুনিতে গত ৫ দিনে সাতজন হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একইসাথে তারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি এবং এলাকাভিত্তিক প্রতিরোধ কমিটি গড়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ছেলেধরা গুজব তুলে গত ২০ জুলাই রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় তাসলিমা বেগমকে। একই গুজবে সারা দেশে গত ৫ দিনে সাতজন মানুষ গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, একটি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বোঝা যায় সে দেশের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার অবস্থা দেখে। এ বছরের প্রথম ৬ মাস অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ২০৮৩ নারী-শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ১১৩জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। মারা গেছে ২৬ জন। এদের মধ্যে ১০ মাসের শিশু থেকে ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ ক্ষোভের সাথে বলেন, একটি দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভঙ্গুর এবং পঙ্গু হলেই এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্তর থেকে পারিবারিক ক্ষেত্রেও নারীবিদ্বেষী ও নারীর প্রতি অবমাননাকর পুরুষতান্ত্রিক চিন্তা কাঠামো বিদ্যমান। যার নজির পারিবারিক আইনের নানা বৈষম্যমূলক ধারার মধ্যে স্পষ্ট। বিবাহের বয়স নিয়ে সাম্প্রতিক বয়স কমানোর আইনটি তার এক প্রমাণ। নেতৃবৃন্দ বলেন, ধর্ষণ এবং যৌননিপীড়নের হার বৃদ্ধি এবং এর ভয়াবহতা থেকে এটা পরিষ্কার যে, নারীর নিরাপত্তা প্রশ্নে রাষ্ট্র-সরকার ক্রমাগত ব্যর্থতা ও উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এ সব ঘটনার বিচার না করে রাষ্ট্র-সরকার ধর্ষক-খুনিদের রক্ষা করছে এবং পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। একদিকে ক্ষমতাসীনরা অপরাধ করে পার পাচ্ছে, অন্য দিকে সাধারণ মানুষও বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে গা ভাসিয়ে যা খুশি তাই করার সাহস পাচ্ছে। ফলে প্রতিদিন নারী-শিশুসহ সবাই ভীষণ আতঙ্ক ও ভীতির মধ্যে এই রাষ্ট্রে অনিরাপদ-অস্বাস্থ্যকর এবং মানসিক অবসাদের মধ্যে জীবনযাপন করছে। নারী সংহতির নেতারা দেশে নারী-শিশুসহ সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দাবি জানান।


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet