২৪ আগস্ট ২০১৯

রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত আজমত আলীকে মুক্তির নির্দেশ আপিল বিভাগের

-

রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার পরও প্রায় ১০ বছর ধরে কারাবন্দী জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পাখিমারা গ্রামের স্কুলশিক্ষক আজমত আলীকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আপিল বিভাগের যাবজ্জীবন সাজার রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আজমত আলীর করা রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আদালত বলেছেন, রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করে দেয়ার পরও তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো অন্যায্য ও দুর্ভাগ্যজনক।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ গত ২৭ জুন এক রায়ে এ নির্দেশ দিলেও গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে এই রায়ের কপি প্রকাশিত হয়। এই রায়ের কপি জামালপুর কারা কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দি এলাকার কলিম উদ্দিনের ছেলে রেজাউল করিম নিহত হন। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিচার শেষে ১৯৮৯ সালের ৮ মার্চ জামালপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত এক রায়ে আজমত আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। আজমত আলী সেই সময় টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঘোড়ামারা এলাকার ভেঙ্গুলা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন আজমত আলী। এদিকে ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতির দেয়া এক বিশেষ আদেশের পর ১৯৯৬ সালের ২১ আগস্ট জামালপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এরও কয়েক বছর পর ২০০৫ সালের ২ মার্চ হাইকোর্ট তাকে খালাস দিয়ে রায় দেন। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এই আবেদনে আপিল বিভাগ ২০০৮ সালের ২০ ফেব্রæয়ারি আজমত আলীকে নিম্ন আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি হাজির না হওয়ায় ২০০৯ সালের ২৯ অক্টোবর গ্রামের বাড়ি থেকে আজমত আলীকে গ্রেফতার করা হয়। সেই থেকে আজমত আলী কারাবন্দী। এরপর ২০১০ সালের ১১ আগস্ট আপিল বিভাগ আজমত আলীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। এ অবস্থায় আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেন আজমত আলী। সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কার্যালয় তাকে আইনি সহায়তা দেয়। তার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন। এই রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গত ২৭ জুন তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet