১৪ অক্টোবর ২০১৯

সুনামগঞ্জ হাওরের পরিবেশ রক্ষায় সিএনআরএস

-

লাল-সবুজের এই বাংলাদেশে প্রকৃতির মনোরম দৃশ্য পাহাড়ি অঞ্চল, সুন্দরবন, আর সমুদ্র সৈকতে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের যেমন হৃদয় আকৃষ্ট করে, তেমনি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার হাওরাঞ্চলে ফেনারবাঁক, শান্তিপুর, বীণাজুড়া, মাতারগাঁও সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি ও নয়নাভিরাম হিজল-করচ বাগান দর্শনার্থী ও ভ্রমণপ্রিয়দের স্বাগত জানাতে হাতছানি দিচ্ছে।
সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত পশ্চাৎপদ জামালগঞ্জ উপজেলা। ৩৩৮.৭৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে প্রায় দুই লাখ লোকের বসবাস। এক সময় পুরো হাওরাঞ্চলে ছোট ছোট নদী নালা, খাল, বিল, ডোবার তীর ঘেষে অবস্থান ছিল হিজল করচ গাছসহ নানাবিধ জলজ উদ্ভিদের। প্রজাস্বত্ব আইনে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে স্থানীয় জমিদাররা ওই সব গাছপালা কেটে উজাড় করে ফেলেন। ফলে ১৯৬০ দশক থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত ছিল বৃক্ষশূন্য এই হাওর এলাকা।
এ অবস্থায় প্রায় দেড় যুগ পূর্বে হাওরাঞ্চলকে পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে পরিবেশবাদী সংস্থা সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্ট্যাডিজ (সিএনআরএস)। সিএনআরএসের প্রকল্প ন্যাচারাল রিসোর্স গভর্ন্যান্স (এনার্জি) প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর হতদরিদ্র মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ সম্পদের সুষম বণ্টনে জোরালো ভূমিকা রাখে। পরিকল্পিত আহরণ ও সংরক্ষণ করার লক্ষ্য-উদ্দ্যেশ্য নিয়ে এই প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রয়েছে হাওরে।
উপজেলার ১০টিরও বেশি স্পটে সরকারি পতিত খাস কান্দা ও রেকর্ডীয় ৮৩ একর ভূমিতে লক্ষাধিক হিজল-করগ গাছের চারা রোপণ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে সিএনআরএস। উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের বিনাজুরা গ্রামে ৩.১৮ একর ভূমিতে ১১ হাজার, মাতারগাঁও গ্রামে ১১ একর ভূমিতে ১২ হাজার হিজল-করচ, ছয়হারা গ্রামে ১৭ একর ভূমিতে ১৭ হাজার, ফেনারবাঁক গ্রামে ১৫ একর ভূমিতে ১৪ হাজার, খোঁজারগাঁও গ্রামে ১০ একর ভূমিতে ১০ হাজার, ভাটি দৌলতপুর গ্রামের আওতায় তিন একরে ১২ হাজার ও সাচনা বাজার ইউনিয়নে রহিমাপুর-হরিপুর গ্রামের বাগানে ১০৩ একর ভূমির মধ্যে ২২ একর ভূমিতে ২৩ হাজার হিজল-করচ গাছ রোপণ করা হয়েছে এই সংস্থার পক্ষ থেকে। এ গাছগুলো বর্ষায় হাওরের প্রচণ্ড ঢেউ থেকে নিভৃত পল্লীর বসতি গ্রামগুলোকে রক্ষা করে। পাশাপাশি এ এলাকাগুলো বিভিন্ন জাতের মৎস্যের অভয়াশ্রম বা অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
হিজল করচ বাগানগুলোতে এখন মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় দিন দিন পর্যটকদের পদচারণার মুখরিত হয়ে উঠেছে। শীতে সাইবেরিয়ার বিভিন্ন জাতের অতিথি পাখি হাওরের শোভা বাড়াচ্ছে।
এ ব্যাপারে সিএনআরএসের নির্বাহী পরিচালক ড. এম মোখলেছুর রহমান নয়া দিগন্তকে জানান, সিএনআরএস দীর্ঘ প্রায় ১৮-১৯ বছর যাবত সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর ও হাইল হাওরে পরিবেশ রক্ষায় বনায়ন করে যাচ্ছে। এ ছাড়া মাছের অভয়ারণ্য ও পাখির বাসা নির্মাণেও আমরা কাজ করেছি।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum