১৭ জুন ২০১৯
আসল মোড়কে নকল প্রসাধনী

পাঁচ কারখানা সিলগালা, ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা

-

প্রসাধনীর মোড়ক ও বোতল দেখতে আসল হলেও পণ্যটা কিন্তু নকল। দিন দিন সক্রিয় হয়ে উঠেছে নকল প্রসাধনীসামগ্রী তৈরির বিভিন্ন চক্র। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের জেলা-উপজেলার মার্কেট ও বাজারে নকল, ভেজাল প্রসাধনী পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে। ঢাকার অভিজাত মার্কেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলার বিপণিবিতানেও ক্রেতারা আসল ও নকলের মধ্যে পার্থক্য করতে না পেরে দাম দিয়ে পণ্য কিনে ঠকছেন। খোদ রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জে গড়ে উঠেছে এমন শত শত অবৈধ কারখানা। যাতে তৈরি হয় নামী দামি ব্রান্ডের শিশুপণ্য ও বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী। গত রোববার কেরানীগঞ্জের বরিসুর এলাকায় পাঁচটি নকল কারখানা সিলগালা করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া ভেজাল ও নকল প্রসাধনী তৈরির অপরাধে কারখানার মালিক ও কয়েকজন কর্মচারীকে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা ও কারখানার মালিকসহ আটজনকে গ্রেফতার করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দুপুর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। র‌্যাব-১০-এর সহযোগিতায় অভিযানের নেতৃত্ব দেন র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল প্রসাধনী জব্দ করা হয়। সেগুলোর মধ্যে আছে জনসন বেবি পাউডার, কুমারিকা হেয়ার অয়েল, প্যারাসুট হেয়ার অয়েল, আমলা হেয়ার অয়েল, স্টিলম্যান (রূপচর্চা) বেটনোভেট, বার্নল ও এসব তৈরির কাঁচামাল।
জানা গেছে, ওই সব মোড়ক ও বোতল চীন থেকে অবৈধভাবে আমদানি করা। তাই এসব শিশুপণ্য দেখে বোঝার উপায় নেই এটি নকল। সদ্যজাত থেকে সব বয়সী শিশুদের জন্য জনপ্রিয় এই টেলকম পাউডারের নকল তৈরি হচ্ছে কেরানীগঞ্জের বরিশোর বাজারে। এখানে পটাসিয়াম, বেনজিন, মেন্থল আর সুগন্ধি মিশ্রণে অনায়াসে তৈরি হয়ে যায় ব্যথানাশক, আগুনে পোড়া কিংবা চর্মরোগের জনপ্রিয় ওষুধও।
র‌্যাবরে নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম জানান, দীর্ঘ দিন ধরে তারা নকল ও ভেজাল প্রসাধনী তৈরি করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের নামে বাজারজাত করে আসছিল। যা ব্যবহারকারীদের জন্য বিপজ্জনক। এমনকি এসব নকল প্রসাধনী ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এ কারণে কেরানীগঞ্জের এই কারখানাগুলোকে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে জরিমানাসহ কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া আলাউদ্দিনকে আট লাখ টাকা জরিমানা ও দুই বছরের কারাদণ্ড, সজলকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা এবং এক বছরের কারাদণ্ড, তাজুল ইসলামকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা এবং ছয় মাসের জেল, জামাল উদ্দিনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং ছয় মাসের কারাদণ্ড, শাওনকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা এবং এক বছরের কারাদণ্ড, শুভকে চার লাখ টাকা জরিমানা এবং ছয় মাসের কারাদণ্ড, আরিফ হোসেন জনিকে চার লাখ টাকা জরিমানা এবং ছয় মাসের কারাদণ্ড ও সাব্বিরকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া জব্দ করা নকল প্রসাধনীগুলো গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারদের জন্য ধার্য করা জরিমানা আদায় না হলে তাদের প্রত্যেকের ওপর আরো তিন মাসের অনাদায়ী কারাদণ্ড বহাল থাকবে। সেই সাথে ওই এলাকায় এমন নকল কারখানার বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। সস্তায় ক্রয় করতে গিয়ে অনেক সময় নকল পণ্যটা ক্রয় করা হয় এমনটি উল্লেখ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, এ ক্ষেত্রে আমাদের সবার সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি আমরা আরেকটি বার্তা দিতে চাই, যারা এই সমস্ত পণ্য বিভিন্ন শোরুমে বিক্রি করছেন, অনেক নামী দামি ব্রান্ডের দোকানে বিক্রি করছেন, তারা সর্তক হবে। কারণ এই ধরনের নকল পণ্য যেখানেই পাবো সেই জায়গার জড়িতদের শাস্তি দেয়া হবে।


আরো সংবাদ