২০ মে ২০১৯

অলসতা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসে অসংক্রামক রোগ

বছরে ব্যয় চার হাজার কোটি টাকা
-

কায়িক পরিশ্রম না করে অলস বসে থাকা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসের কারণে বাড়ছে অসংক্রামক রোগ (এনসিডি)। একই সাথে তামাক, অ্যালকোহল, বায়ুদূষণ বাড়াচ্ছে মৃত্যুঝুঁকি। বর্তমানে অকাল মৃত্যুর ১৭ শতাংশই মারা যাচ্ছে হৃদরোগের কারণে। কেবল উচ্চ রক্তচাপসংক্রান্ত হৃদরোগে ভুগছে ২৫ শতাংশ মানুষ। কিন্তু শুধু অসংক্রামক রোগ চিকিৎসা খাতে বার্ষিক খরচ হচ্ছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। এই ব্যয় প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গতকাল বুধবার বিকালে ‘এনসিডি চ্যালেঞ্জ : হেলথ ইন অল পলিসি হোল সোসাইটি অ্যাপ্রোচ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এই সেমিনার যৌথভাবে আয়োজন করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এনসিডিসি প্রোগ্রাম এবং দৈনিক ভোরের কাগজ। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা: মোরাদ হোসেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: এ এইচ এম এনায়েত হোসেন। সেমিনারে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো: আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: আবুল ফয়েজ, এনসিডিসি প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর ডা: নুর মোহাম্মদ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা: আফজালুর রহমান, জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা: নুরুল হুদা লেলিন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা: হেলাল উদ্দিন আহমেদ, আইসিডিডিআরবির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. শামস এল আরেফিন, ড. আলিয়া নাহিদ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের এপিডেমিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শামীম রেজা, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ প্রমুখ। ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সচেতনতা তৈরি করা ছাড়া অসংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধের কোনো উপায় নেই। পারিবারিক পর্যায় থেকে অসংক্রামক রোগের প্রতিরোধে সচেতনতার শিক্ষা শুরু করতে হবে। তিনি উপজেলা পর্যায় থেকে রেফারেল সিস্টেম চালু করার ওপর জোর দেন। এ পদ্ধতিতে একজন অধ্যাপককে দেখাতে মেডিক্যাল অফিসারের সুপারিশে দেখাতে হবে। এতে প্রাথমিক চিকিৎসাটা মেডিক্যাল অফিসারের মাধ্যমেই হওয়া সম্ভব এবং অধ্যাপক চিকিৎসক কেবল জটিল রোগগুলো দেখবেন।
স্বাস্থ্যসচিব মো: আসাদুল ইসলাম বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করতে হলে সব সেক্টরের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে এই রোগ দূর করা সম্ভব নয়। কেননা অসংক্রামক রোগের সাথে বায়ু, পানি, মাটি, খাদ্যসহ সব কিছু জড়িত। মূল প্রবন্ধে ডা: এনায়েত হোসেন বলেন, সবার আগে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এসব রোগ প্রতিরোধে মানসিকভাবে নিজেকে তৈরি করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক রোগ সম্বন্ধে জানার এবং কায়িক শ্রম বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। প্রয়োজনে এ-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
বক্তারা বলেন, অসংক্রামক রোগের মধ্যে মানসিক রোগ অন্যতম। দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ১৬ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে মানসিক রোগে আক্রান্ত। এ ছাড়া শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক রোগের প্রবণতা ১৮ শতাংশ। সপ্তাহে ৪৩ ঘণ্টার বেশি কাজ করার প্রবণতা থাকলে হৃদরোগসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়ে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।


আরো সংবাদ