১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কমিশন গঠনের সুপারিশ

-

জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গণপ্রতিনিধিত্বশীল কমিশনর গঠনের সুপারিশ করেছেন সংসদ সদস্য ও সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইন সংশোধনের মাধ্যমে কাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের কাঠামোগত পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের আইপিডি সম্মেলন কে নেটওয়ার্ক অন কাইমেট চেঞ্জ ইন বাংলাদেশ (এনসিসিবি) আয়োজিত ‘জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বৃদ্ধিতে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। ট্রাস্টের সহসভাপতি মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো: ফজলে রাব্বি মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারি প্রতিশ্রুতি সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, নবী নেওয়াজ এমপি, জাতীয় পার্টির মাহজাবিন মোর্শেদ এমপি ও ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট টিপু সুলতান এমপি। মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন এনসিসিবির কোঅর্ডিনেটর মিজানুর রহমান বিজয়। আলোচনায় অংশ নেন অ্যাকশন এইডের তানজীর হোসেন, সিপিআরডির মো: শামছুদ্দোহা, সাংবাদিক কাওসার রহমান ও নিখিল ভদ্র, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো: রশিদুজ্জামান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) মিহির বিশ^াস প্রমুখ।
ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত সমস্যা প্রকট হচ্ছে। উন্নত দেশগুলো শিল্পায়নের নামে যে হারে কার্বন নিঃসরণ করছে তার বিরূপ প্রভাব পরিবেশের ওপর পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য যে আর্থিক অনুদানের প্রতিশ্রুতি উন্নত দেশগুলো দিয়েছে তা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই একমাত্র সরকার প্রধান যিনি জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় আলাদা বরাদ্দ দিয়ে ফান্ড তৈরি করেছেন। এর আগে বাংলাদেশকে বিদেশী সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে হতো। সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে খরচ হচ্ছে কি না তা মনিটরিংয়ে কার্যকর অথরিটি থাকা দরকার। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করা যেতে পারে। তা হলে জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবেলায় বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
আবদুস শহীদ বলেন, আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি। এই তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের নিয়ে কমিশন গঠন করতে হবে। নবী নেওয়াজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত তহবিল ব্যবহারে সমন্বয় নেই। সমন্বয়হীনতার কারণে সঠিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে এর অর্থ পৌঁছাচ্ছে না। প্রকল্প বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। অ্যাডভোকেট টিপু সুলতান বলেন, সংসদ সদস্যরা জনপ্রতিনিধি হলেও জনগণের জন্য গৃহীত প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের হাতে কোনো ক্ষমতা নেই। জলবায়ু তহবিলের প্রকল্প বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত দেয়ার সুযোগ নেই। এতে জলবায়ু তহবিলের অর্থের অপচয় ঘটছে। মাহজাবিন মোর্শেদ বলেন, জলবাযু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির ভয়াবহতা সম্পর্কে আগামী প্রজন্মের স্বচ্ছ ধারণা থাকা আবশ্যক। কিন্তু স্কুল কলেজের জন্য এ সংক্রান্ত সিলেবাস এখনো প্রণয়ন করা হয়নি। ফলে এ বিষয়ে প্রকৃত জ্ঞানের অভাবে জলবায়ুর ক্ষতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণে আমরা পিছিয়ে পড়ছি।
মিজানুর রহমান বিজয় বলেন, বাংলাদেশ কাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত জাতীয় বাজেট থেকে তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে সরকার এই ফান্ডের আওতায় বিসিসিএসপির অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন শুরু করেছে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫৬০টি সরকারি-বেসরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন করেছেন। কিন্তু এই তহবিলের প্রকল্প, নির্বাচন, বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।


আরো সংবাদ