২০ জুলাই ২০১৯

কঠোর অবস্থানে বিটিআরসি, কী করবে গ্রামীণ আর রবি?

কঠোর অবস্থানে বিটিআরসি, কী করবে গ্রামীণ আর রবি? - ছবি : সংগৃহীত

দেশের শীর্ষ দুই টেলিকম অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির কাছে পাওনা আদায় নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স রেগুলেটরি কমিশন-বিটিআরসি। পাওনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত ব্যান্ডইউথ সীমিতই থাকবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। অন্য দিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন সিদ্ধান্তে শুধু টেলিকম অপারেটরই নয়, মোবাইল গ্রাহকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন জানিয়ে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে অপারেটর দু’টি। 

বিটিআরসির দাবি, গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তি দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং আরেক মোবাইল ফোন অপারেটর রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে তাদের। বারবার তাগাদা দেয়ার পরও ওই টাকা পরিশোধ না করায় গত ৪ জুলাই গ্রামীণফোনের ব্যান্ডইউথ ক্যাপাসিটি ৩০ শতাংশ এবং রবির ১৫ শতাংশ সীমিত করতে ইন্টারনেট গেইটেওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। 

আইআইজি অপারেটরদের পর রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম কোম্পানি বিটিসিএলকেও গ্রামীণফোন ও রবির ব্যান্ডউইথ কমাতে চিঠি দেয় বিটিআরসি। বিটিসিএলকেও গ্রামীণফোনের ব্যান্ডইউথ ক্যাপাসিটির ৩০ শতাংশ এবং রবির ১৫ শতাংশ সীমিত করার নির্দেশ দিয়ে তা অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়েছে চিঠিতে।
ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ সীমিত করার এমন পদক্ষেপকে অযৌক্তিক ও বেআইনি হিসেবে বর্ণনা করে আলোচনার মাধ্যমে (আরবিট্রেশন) গঠনমূলক নিষ্পত্তি চেয়েছে দেশের শীর্ষ এই দুই মোবাইল অপারেটর। তারা বলছে, অডিট আপত্তি নিয়ে সমস্যা থাকতে পারে। এটি কয়েকদিনের বিষয় নয়। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে বিটিআরসির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে অপারেটরগুলো। কিন্তু চূড়ান্ত কোনো রূপে আসার আগেই হুট করে নেয়া সরকারের এমন সিদ্ধান্তে অপারেটর, আইআইজি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী এবং গ্রাহকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন ভূমিকাকে ‘অনাকাক্সিক্ষত’ মন্তব্য করে গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি বলেছেন, ‘এ নির্দেশনা বাংলাদেশের মানুষ এবং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। আমরা বিটিআরসিকে এ নির্দেশনা তুলে নেয়ার অনুরোধ করছি এবং সেই সাথে সালিস আইন ২০০১-এর অধীনে অমীমাংসিত অডিট দাবির নিষ্পত্তিতে সহযোগিতা করতে অনুরোধ করছি।’

গতকাল রোববার হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী আরো বলেন, বিটিআরসির নির্দেশনাটি এমনভাবে দেয়া হয়েছে, যাতে নেটওয়ার্কের অধীনে থাকা গ্রাহকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, গ্রামীণফোনের ওপর চাপ তৈরি হয়। এ নির্দেশনার ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে স্থানীয় ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং সংশ্লিষ্ট আইআইজি অপারেটরদের ওপর। কারণ, নির্দেশনার ফলে রাজস্ব আয় কমার পাশাপাশি ব্যবসায়িক সুযোগ হারাবে প্রতিষ্ঠানগুলো, যদিও পুরো বিষয়টির ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’
অডিট দাবি নিষ্পত্তির জন্য গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে গত ২৩ জুন বিটিআরসিকে একটি সালিস নোটিশ (আরবিট্রেশন) পাঠানো হয়েছে জানিয় ফোলি বলেন, ‘নোটিশের বিষয়ে এখন পর্যন্ত নীরব ভূমিকা পালন করছে বিটিআরসি।’
ব্যান্ডইউথ সীমিত করার নির্দেশের বিরুদ্ধে গ্রামীণফোন আদালতে যাবে কি না-এই প্রশ্নে মাইকেল ফোলি বলেন, ‘অমীমাংসিত পাওনার বিষয়ে আমরা আদালত যেতে চাই না, আরবিট্রেশনের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করতে চাই।’

গ্রামীণফোনের হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সা’দাত বলেন, ‘বিষয়টি আমরা ঝুলিয়ে রাখতে চাই না। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাই।’
বিটিআরসির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে অন্য অপারেটর রবির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন সিদ্ধান্তে পুরো ব্যবসায় বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বলেন, যেকোনো বিষয় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। সেজন্য আরবিট্রেশনের মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতিরও সুরাহা হবে বলে আমরা মনে করি। আমরা সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। বিটিআরসির সাথে আমরা যোগাযোগ রক্ষা করছি। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাইলে বিষয়টির দ্রুত সমাধান হতে পারে। না হলে টেলিকম সেক্টর, ব্যবসায় বাণিজ্য এবং গ্রাহকদের চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে পরে। 
এদিকে টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি তাদের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়ে বলেছে, আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে সালিসের (আরবিট্রেশন) কোনো সুযোগ নেই। পাওনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত ব্যান্ডইউথ সীমিতই থাকবে।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান জহুরুল হক কমিশনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিটিআরসির আইন অনুযায়ী আরবিট্রেশনের কোনো উপায় নেই, তবে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। পাওনা টাকা অপারেটরদের দিতেই হবে।’ এখন আইনে না থাকলেও এ ধরনের বিরোধ মীমাংসার জন্য আরবিট্রেশনের সুযোগ থাকা উচিত মন্তব্য করে বিটিআরসির প্রধান বলেন, ‘আরবিট্রেশনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে আইন সংশোধনের জন্য ইতোমধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে আইন সংশোধনের ওই প্রক্রিয়া শেষ হতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।’

ব্যান্ডউইথ কমিয়ে দেয়ার পদক্ষেপ নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিটিআরসির কমিশনার রেজাউল কাদের বলেন, ‘এ পদক্ষেপে গ্রাহকদের কিছুটা সমস্যা হতে পারে, সেজন্য বিটিআরসির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।’


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi