১৯ নভেম্বর ২০১৯

ই-সিগারেটে বাড়ছে বিপদ

ই-সিগারেটে বাড়ছে বিপদ। বাংলাদেশে এটা নিয়ে খুব বেশি আলোচনা না হলেও ক্ষতিকর এই সিগারেটের ব্যবহার বাড়ছেই। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২৬ জন মারা গেছে ই-সিগারেট ব্যবহার করায়। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯ অঙ্গরাজ্যে এক হাজার ৩০০-এর বেশি আক্রান্ত হয়েছে বলেছে সেন্টার ফর ডিজিজ কনট্রোল (সিডিসি)। বাংলাদেশে মূলত চীনের তৈরি অত্যন্ত সস্তা দামের ই-সিগারেটের ব্যবহার বাড়ছে। আগে তো অভিজাত এলাকার নামী-দামি দোকানে পাওয়া যেত এবং ব্যবহারকারীও ছিল অভিজাত পাড়ার উঠতি বয়সের তরুণেরা। এখন সাধারণ সুপার মার্কেটের ফুটপাথেও পাওয়া যাচ্ছে ই-সিগারেট। আবার ব্যবহারকারীর সামাজিক অবস্থানেরও পরিবর্তন ঘটেছে। সাধারণ পরিবারের উঠতি বয়সের তরুণদের রাস্তায় যেতে যেতে ই-সিগারেট টানতে দেখা যাচ্ছে। আবার এর মধ্যে যোগ হয়েছে তরুণীরা। রিকশায় বসে অথবা বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেলের পেছনে বসে তরুণীদেরও ই-সিগারেট টানতে দেখা যাচ্ছে আজকাল।

ই-সিগারেট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অসুস্থতার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেখানে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। ই-সিগারেট থেকে ফুসফুস জটিলতায় ভুগছে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ-তরুণীরা। ই-সিগারেট থেকে সৃষ্ট রোগটি নিয়ে আলোচনা ও এর চিকিৎসা দেয়ার সুবিধার্থে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ডিজিজ কনট্রোল (সিডিসি) ই-সিগারেট-জনিত রোগটিকে বলেছে ‘ইভালি’। ইভালি ‘ই-সিগারেট অর ভ্যাপিং প্রোডাক্ট ইউজ-অ্যাসোসিয়েটেড লাং ইনজুরি’র সংক্ষিপ্ত রূপ।

গবেষণায় বলা হয়েছে যে, ই-সিগারেটে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা বলছে, ই-সিগারেট ব্যবহারকারীদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার দ্বিগুণ ঝুঁকি রয়েছে। আমেরিকান হার্ট ফাউন্ডেশন জার্নালে ২০১৮-এর আগস্টে এ-বিষয়ক গবেষণায় হার্ট অ্যাটাকের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বলেছে।

কিন্তু সিডিসি বলছে, ই-সিগারেটের কারণে ফুসফুসের রোগ বাড়ছে। তামাকজাত সিগারেট পানে অভ্যস্ত ধূমপায়ীদের চেয়ে যারা ই-সিগারেট পান করে তাদের হার্ট অ্যাটাকের তিন গুণ ঝুঁকি রয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, আরো বিস্ময়ের ব্যাপার হলোÑ যারা তামাকজাত সিগারেট ও ই-সিগারেট দুটোই পান করেন একই সাথে, অধূমপায়ীদের থেকে এদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি পাঁচ গুণ। আমেরিকান জার্নাল অব প্রিভেন্টিভ মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকো ও জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলেছেন, প্রায় ৬৬ শতাংশ ই-সিগারেটে অভ্যস্তরা একই সাথে তামাকজাত ধূমপানও করে থাকেন।

ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক সিগারেট তৈরি করা হয় নিকোটিনের স্ট্রে দিয়ে এবং এর সাথে অন্যান্য গন্ধযুক্ত তরল যুক্ত করে। ই-সিগারেট বাজারজাত করা হয়েছিল ধূমপানের নিরাপদ বিকল্প হিসেবে। বস্তুত ই-সিগারেট মোটেই ক্ষতিহীন নয়। এই সিগারেট তামাকের চেয়ে একটু কম মাত্রায় কার্সিনোজেন (ক্যান্সার উৎপাদক) তৈরি করে। তবে ই-সিগারেট আল্ট্রা ফাইন কণা তৈরি করে, যা ফুসফুস ও দেহের বায়ু চলাচলের রাস্তার ক্ষতি করে। এ ছাড়া এটি কার্ডিওভাস্কুলার ও ক্যান্সারহীন ফুসফুসের রোগের সাথে যুক্ত টক্সিন তৈরি করে। গবেষণা প্রতিবেদনের শেষে গবেষকেরা অবশ্য বলেছেন, ই-সিগারেট প্রকৃতপক্ষে ধূমপানের কোনো স্বাস্থ্যকর বিকল্প নয়। সবচেয়ে ভালো হয় ধূমপায়ীরা যদি তামাক অথবা ই-সিগারেট কোনোটাই ব্যবহার না করেন।

তরুণরা মনে করে ই-সিগারেট তামাকের চেয়ে ক্ষতিকর নয় অথবা একেবারেই ক্ষতিকর নয়। কিন্তু প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে ই-সিগারেটেও নিকোটিন থাকতে পারে। অনেক সময় এর মধ্যে নিকোটিনের পরিমাণ তামাকজনিত সিগারেটের চেয়ে বেশিও হয়ে থাকে।

বাষ্পজাত ধোঁয়া হয় বলে এটাকে ক্ষতিকর মনে করে না ই-সিগারেট ব্যবহারকারীরা। এটাকে কেবল পানি দিয়েই তৈরি করে না। এর মধ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে এবং রয়েছে খুব ক্ষতিকর ক্ষুদ্র কণা (পার্টিকল)। এই কণাগুলো অতিসূক্ষ্ম বলে এটা ফুসফুসে জ্বলা-পোড়ার মতো অনুভূতি সৃষ্টি করে। ই-সিগারেট ফুসফুসের ডিএনএর ক্ষতি করে থাকে। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল ফর দ্য মলিক্যুলার সায়েন্সে প্রকাশিত গত ৭ অক্টোবরের গবেষণায় বলা হয়েছে, ই-সিগারেটের ধোঁয়ার কারণে ৫৪ সপ্তাহে ৪০ ইঁদুরের মধ্যে ২২.৫ শতাংশের ফুসফুস ক্যান্সার হয়েছে।


আরো সংবাদ