১৫ অক্টোবর ২০১৯

দফায় দফায় উচ্ছেদের পরও যৌবন ফিরেনি বুড়িগঙ্গায়

দফায় দফায় উচ্ছেদের পরও যৌবন ফিরেনি বুড়িগঙ্গায় - ছবি : সংগৃহীত

দফায় দফায় উচ্ছেদের বিবরণ দেয়া হলেও বুড়িগঙ্গা এখনো ফিরে পায়নি তার যৌবন। নদীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এখনো সরকারি-বেসরকারি দখলে রয়ে গেছে। পরিবেশবাদীদের মতে, বুড়িগঙ্গা বাঁচাতে এবং এর প্রবাহ ঠিক রেখে যৌবন ফিরিয়ে দিতে আদি বুড়িগঙ্গার বিভিন্ন পয়েন্টে কঠোরভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে হবে। শুধু বিভিন্ন জায়গায় পিলার বসিয়ে বা ওয়াক ওয়ে বানিয়ে বুড়িগঙ্গার যৌবন ফিরিয়ে আনা যাবে না।

চলতি বছর ২৯-৩১ জানুয়ারি টানা তিন দিন বুড়িগঙ্গার তীরে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি বহুতল ভবনসহ ৪৪৪টি স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিআইডব্লিউটিএ। অপর দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর দুই তীর দখলমুক্ত করতে চতুর্থ দফায় উচ্ছেদ অভিযান চলে এ বছর জুলাইয়ে। বিআইডব্লিউটিএ কেরানীগঞ্জের খোলামোড়া লঞ্চঘাট থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়ে মান্দাইল গকুলচর পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ছোট-বড় ১৯৮টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও দুই একর জায়গা দখলদারদের হাত থেকে অবমুক্ত করে বিআইডব্লিউটিএ।

তবে সরজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যেদিক দিয়ে নদীটি আগে পানি পেত সে আদি বুড়িগঙ্গা নদীর কয়েক শত একর জমি এখন পর্যন্ত বেদখলেই রয়েছে। আদি বুড়িগঙ্গার বুকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের একাধিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। বিশেষ কুড়ারঘাট, বুলুর ঘাটের ওপাড়ে নদীর জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সরকারি হাসপাতাল। তার পাশেই পশ্চিম রসুলপুরে নদীর বুকে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সরকারি বিদ্যুৎ স্টেশন। এই ধরনের অসংখ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদী দখল করে। এ সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের দখলের কারণেই আদি বুড়িগঙ্গা নদী দখলে প্রশ্রয় পেয়েছে অন্যরা। দখলে মেতে উঠেছে ভূমিদস্যুরাও। হাজারীবাগের সেকশন বেড়িবাঁধ সংলগ্ন শাখা নদীর দুই পাশে সেমিপাকা ঘর, দোকান, গ্যারেজ গড়ে তোলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ‘নদী রক্ষা জোট’-এর আহ্বায়ক ও ‘নোঙর’ সভাপতি সুমন শামস নয়া দিগন্তের কাছে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে অভিযোগ করে বলেন, নব্বই দশকের পরেও আদি বুড়িগঙ্গা নদীতে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ছিল। কিন্তু আদালতের আইন অমান্য করে এখন তা দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নদীখেকোরা। আদি চ্যানেলের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন কোম্পানির নামে সাইনবোর্ড ঝুলছে। গত দুই যুগ ধরে চলতে থাকা আদি বুড়িগঙ্গা নদীর জায়গা দখলের কবলে পড়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, লালবাগ, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া রাজধানীর পশ্চিমের বুড়িগঙ্গার এই আদি চ্যানেলের প্রায় ৩৫০ একর জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, সিটি করপোরেশনের বর্জ্য-আবর্জনা ভরাট নদী দখলের অপচেষ্টায় বিশেষ সহযোগিতা করছে।

অথচ হাইকোর্টের ২০০৯ ও ২০১৯ এর নদী রক্ষায় দু’টি যুগান্তকারী রায় ঘোষিত হয়েছে। নদীকে চরম গুরুত্ব নিশ্চিত করতে হাইকোর্ট নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’, ‘আইনি সত্তা’ ও ‘আইনি ব্যক্তি’ হিসেবে ভূষিত করেছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এরপরও নদী জীবন্ত রূপ ফিরে পাচ্ছে না।

এক দিকে চলছে দখল উচ্ছেদ, অন্য দিকে অনেক অবৈধ স্থাপনার কারণে নদীর প্রবাহ আটকে যাচ্ছে। আর এসব মিলিয়েই আজ পালিত হচ্ছে বিশ^ নদী দিবস। বাংলাদেশের সামাজিক আন্দোলনগুলো যৌথভাবে পালন করে আন্তর্জাতিক এ দিবসটি। কানাডার বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, শিক্ষক ও নদী অন্তঃপ্রাণ ব্যক্তি মার্ক অ্যাঞ্জেলো এর প্রবর্তক। ২০০৫ সাল থেকেই সারা বিশে^ এটি পালিত হয়ে আসছে। এবার সারা বিশে^র প্রায় ৭০টির বেশি দেশে তা পালিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), রিভারাইন পিপল, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন, হাওর অঞ্চলবাসী, জাতীয় নদী রক্ষা আন্দোলন, গ্রিন ভয়েসসহ কিছু সংগঠন আলাদা বা যৌথভাবে তা পালন করে আসছে। এবারো তারা বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে দিবসটি পালনে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের জন্য এ দিবসটির বিশেষ গুরুত্ব বিবেচনা করেই আট বছর ধরে এটি যৌথ বা এককভাবে পালিত হচ্ছে। দেশে ক্রমেই এ দিবসের পরিচিতি বাড়ছে এবং এবারো বাংলাদেশে দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় ও বাইরে পালিত হতে যাচ্ছে। সারা বিশে^ বেসরকারি পর্যায়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এটি কোনো রাষ্ট্রীয় সরকার বা বৈশি^ক পর্যায়ের কোনো আন্তঃরাষ্ট্রীয় দিবস নয়।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum