২২ আগস্ট ২০১৯

পক্ষকালের বন্যায় আড়াই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ

পাঠদান ও সাময়িক পরীক্ষা বাতিল
পক্ষকালের বন্যায় সারাদেশে আড়াই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ - ফাইল ছবি

পক্ষকালের চলমান বন্যায় দেশের ১৪টি জেলায় প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এরমধ্যে নিম্ম মাধ্যমিক, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা পর্যায়ের সাড়ে ৯শ’ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে দেড় হাজার।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) প্রাথমিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিদিন এ সংখ্যা ও এলাকা বাড়ছে। ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়, শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন সর্বশেষ তথ্য অবহিত করতে অনুরোধ জানিয়েছে।

মাউশি ও ডিপিই সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তারা জানান, সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্তের পরিসংখ্যান প্রতিদিন ‘আপডেট’ করা হচ্ছে। বন্যার কারণে গত ১৫ দিন ধরে সারাদেশে বিভিন্ন জেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কোথাও বন্যার পানিতে ডুবে গেলে বিদ্যালয়ের ভবন, কোথাও বিদ্যালয়ের মেঝেতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও ক্লাসরুম, খেলার ডুবে গেছে। এ অবস্থায় অনেক প্রতষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম-পাঠদান বন্ধসহ বেশ কিছু বিদ্যালয়ের সাময়িক পরীক্ষা-দ্বিতীয় সেমিষ্টার পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

ডিপিই থেকে জানা গেছে, দেশের ১৪টি জেলায় মোট দেড় হাজার বিদ্যালয় পানিবন্দি বা ডুবে গেছে। তার মধ্যে- কুড়িগ্রামে ১২ উপজেলায় ৫৪০টি, সিরাজগঞ্জ ৪টি উপজেলায় ৭৩টি, বগুড়ায় তিনটি উপজেলায় ৮৩টি, লালমনিরহাট ৮টি উপজলোয় ৫৪টি, গাইবান্ধা ৯টি উপজেলায় ২৫৪টি, নীলফামারী ৩টি উপজেলায় ১৯টি, রংপুর দুইটি উপজেলায় ৯টি, রাঙ্গামাটি ৭টি উপজেলায় ৩১টি, কক্সবাজার ২টি উপজেলায় ১১৫টি, ফেনীর ৩টি উপজেলায় ১৫টি, সুনামগঞ্জ ১টি উপজেলায় ৬টি, বরগুনা ৩ টি উপজেলায় ২টি ও কুমিল্লা একটি উপজেলায় ৫টি বিদ্যালয় রয়েছে।

বন্যার পানির কারণে এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা চলছে। আর মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতে ক্লাস বন্ধ রয়েছে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর তাদের সকল নির্বাহী প্রকৌশলীদের চিঠি দিয়ে বলেছে, বন্যার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরে পাঠাতে। আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয় করছে।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্থ ভবন মেরামতের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর অতিরিক্ত ক্লাস নেয়া হবে। বলা হয়েছে, স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তারা অতিরিক্ত ক্লাসের বিষয়টি নজরদারি করবেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এফ এম মনজুর কাদির বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের জরুরি তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে জেলা-উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়ে বন্যায় প্লাবিত বিদ্যালয়গুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে বন্যার পানি নেমে গেলে সেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ নির্ণয় করে তা মেরামত কাজ শুরু করা হবে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও আক্রান্ত জেলাগুলোতে সাড়ে ৯ শতাধিক নিম্ম মাধ্যমিক, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার তালিকা করেছে, যেগুলো বন্যার কারণে বন্ধ রয়েছে বলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে বলা হয়েছে। জেলাওয়ারী তালিকার মধ্যে রয়েছে, গাইবান্ধায় ৬৮টি, লালমনিরহাট ৮৫টি, কুড়িগ্রাম ১২৮টি, রংপুরে ৮টি, সিরাজগঞ্জে ২৭টি, জামালপুরে ১৩৫টি, নেত্রকোনায় ৫১টি, সুনামগঞ্জে ২৫টি, গাইবান্ধায় ৭২টি, নীলফামারীতে ৬৫টি, নওগায় ৩৯টি, বগুড়ায় ৪৯টি, রাঙ্গামাটি ৬৯টি, কক্সবাজার ৮৫টি, ফেনী ৪২টি ও বরগুনায় ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আশিংক ও পুরোপরি প্লাবিত হয়েছে।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, সারাদেশে নিম্ম মাধ্যমিক, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে সাড়ে ৯ শ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যায় নজরদারি রাখতে জেলা ও উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বন্যায় পানি না নামা পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে না। তবে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে শিক্ষকদের বলা হয়েছে। 


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet