২১ আগস্ট ২০১৯

আশকোনা হজক্যাম্প এলাকায় দুই’শ গজে দেড়’শ ভিখারী (ভিডিও)

আশকোনা হজক্যাম্প এলাকায় দুই’শ গজে দেড়’শ ভিখারী - নয়া দিগন্ত

হজ্জ মওসুমে আশকোনা এলাকায় বেড়েছে ভিখারিদের আনাগোনা। বিমানবন্দর রেল ক্রসিং থেকে হজ্জ ক্যাম্প পর্যন্ত মাত্র দুই’শ গজের দুরত্বেও এই রাস্তার দু’পাশে প্রতিদিন প্রায় দেড়’শ ভিখারী থালা পেতে বসেন। হজের এই পুরো মওসুমটাতে তারা প্রতিনিয়ত সকাল থেকে রাত অবধি হজ ক্যাম্পে প্রবেশের রান্তার দু’পাশে ভিক্ষায় ব্যস্ত থাকেন।

স্থানীয় দোকানি আর ভিখারিদের সাথে কথা বলে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, আশকোনার এই এলাকায় যারা ভিক্ষা করতে আসেন তারা প্রায় সকলেই মওসুমী ভিখারী। বছরের অন্যান্য সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষার ঝুঁলি বয়ে নিয়ে ঘুরে বেড়ালেও শুধু হজ মওসুম শুরু হলেই তারা চলে আসেন আশকোনার এই হজ ক্যাম্পের সামনের সড়কে। অনেকে আবার সারা বছর গ্রামে-গঞ্জে ভিক্ষা করলেও শুধু হজের এই সময়টা এক মাসের জন্যই চলে আসেন আশকোনা এলাকায়।

আশকোনা এলাকায় ভিক্ষা করেন ষাটোর্ধ মরিয়ম বিবি। বাড়ি নেত্রেকোনা জেলায়। বছরের অন্যান্য সময়ে তিনি গ্রামে বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করলেও শুধু হজের এই সময়টাতে চলে আসেন ঢাকায়। থাকেন দক্ষিণখানে তারই ছোট বোনের বাসায়। তার ছোট বোন এখানকার পরিচিত এক সাহেবের বাসায় ঝি’ এর কাজ করেন। ভিক্ষা করে প্রতিদিন গড়ে এক হাজারের বেশি টাকা আয় করেন মরিয়ম বিবি। এভাবে এক মাসে তিনি সব খরচ বাদ দিয়ে ৩০ হাজার টাকা বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেন। কুরবানির ঈদের কয়েক দিন আগেই ঢাকা ছাড়বেন তিনি।
হজ্জ ক্যাম্পে প্রবেশের আগেই রাস্তার উত্তর পাশে বিদ্যুতের খুঁটির নিচে বসে ভিক্ষা করছেন আসগর মিয়া। তিনি সারা বছরই বিমানবন্দর এলাকাতেই ভিক্ষা করেন। তবে হজ্জ মওসুম শুরু হলে অন্য কোথাও আর যান না। হজ্জ ক্যাম্পের সামনের রাস্তায় বিদ্যুতের এই খুঁটির নিচে বসেই এক মাস ভিক্ষা করেন। বাড়ি তার শরীয়তপুর। নদী ভাঙ্গনের পরে বিষয়সম্পত্তি সব হারিয়েছেন তিনি। স্ত্রী বেঁচে নেই। ছেলেরা যে যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তাই ভিক্ষাকেই জীবিকা হিসেবে নিয়েছেন তিনি। থাকেন এয়ারপোর্টের কাছেই একটি বস্তি ঘরে। তারও হজ্জেও এই এক মাসে ইনকাম হবে ৩০ হাজার টাকা মতো। তবে অন্য সময়ের আয় ইনকাম হজ্জের এই সময়ের মতো হয়না বলেও তিনি স্বীকার করলেন।
শুধু মরিয়ম আর আসগর মিয়া নন, হজ্জ ক্যাম্পের সামনের এই সড়কের দু’পাশে বসে হজ্জের মওসুমের এই এক মাস ভিক্ষা করছেন সুলতান মোল্লা, গিয়াস ফকির, ছমিরন নেছাসহ অনেকে। তারা প্রত্যেকেই বছরের অন্যান্য সময়ে রাজধানীর অন্য এলাকায় ভিক্ষা করলেও শুধু হজ্জের এই এক মাসের জন্যই এখানে চলে আসেন।
আশকোনার হজ্জ ক্যাম্পে হাজীরা ছাড়াও হাজীদের আত্মীয় স্বজনরাও প্রতিদিন আসা যাওয়া করেন। মা বাবা কিংবা অন্য কোন আত্মীয় যেন ভালভাবে হজ্জ পালন করে দেশে ফিরতে পারেন সেই আশায় অনেকে দান করেন ভিখারিদের। অনেক হাজী দেশ ত্যাগ করার আগে অধিক সওয়াবের আশায় বড় অংকের টাকা দান করেন ভিখারিদের।


আরো সংবাদ




bedava internet