১৮ আগস্ট ২০১৯

ওসব শহরে আমার মতো পাপিষ্ঠার জায়গা হয়নি : তসলিমা নাসরিন

তসলিমা নাসরীন
তসলিমা নাসরীন - ছবি : ফেসবুক

বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরীনের কণ্ঠে বিষাদের সুর। অভিমান নিজের কপালকে নিয়ে। প্রকাশ করলেন আফসোসও।

গত ২৭ মার্চ ছিল বিশ্ব নাট্য দিবস। এ উপলক্ষে নাটক নিয়ে নিজের আবেগ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশী এ বিতর্কিত এ লেখিকা।

বিশ্ব নাট্য দিবস উপলক্ষে তৈরি নাটকগুলো দেখা হয়নি তার। সে জন্য প্রচণ্ড আফসোস করেছেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি আজ ( ১ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো :
‘ঢাকায় বা কলকাতায় থাকলে বিশ্ব নাট্য দিবস উপলক্ষ্যে যে নাটকগুলো হয়েছে তা দেখে নিশ্চয়ই আমার প্রাণ জুড়োতো। কিন্তু আমি তো আর সে কপাল নিয়ে জন্মাইনি। ওসব শহরে বড় বড় পূণ্যবান-পূণ্যবতী বাস করেন বলে আমার মতো পাপিষ্ঠার জায়গা হয়নি। তবে বাংলা নাটক দেখা হয়েছে বাংলার বাইরে, দিল্লিতে। বাংলা সংস্কৃতির পীঠস্থান মুক্তধারা গতকালই পালন করেছে বিশ্ব নাট্য দিবস। সারাদিনে ২৪টি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। অসাধারণ সব নাটক। যে কটাই দেখেছি, চমৎকার। কিছুদিন আগে চিত্তরঞ্জন ভবনে বাংলা নাটকের উৎসবেও দেখেছি কিছু নাটক। লক্ষ করেছি, সমাজ নষ্ট হয়ে গেলেও,রাজনীতি পচে গেলেও,মানুষ বদলে গেলেও, মূল্যবোধের অবক্ষয় হলেও নাটকে এখনও মানুষের কথা বলা হয়; এখনও বৈষম্যের বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ঘৃণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুনি। শুদ্ধ কিছু, সুন্দর কিছু, স্বপ্নবান কিছু মানুষ যেন পৃথিবীর আবর্জনা থেকে, মিথ্যে থেকে নিজেদের সরিয়ে এখনও সত্য উচ্চারণ করার দুঃসাহস দেখাচ্ছেন।

২৭ মার্চ ছিল বিশ্ব নাট্য দিবস। ১৯৬১ সালে আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইন্সটিউট ঘোষণা করেছিল এই দিবসটি। মূলত ইউরোপে পালন করা হতো বিশ্ব নাট্য দিবস। এখন তো সারা বিশ্বের নাট্যপ্রেমীরা পালন করেন এই দিবস।

শিল্প সংস্কৃতিতে যখন পচন ধরবে, বুঝবো যে আশা বলে কিছু আর কোথাও নেই। শিল্প সংস্কৃতি বেঁচে থাকুক। নাটক বেঁচে থাকুক। নাটক মানুষের কথা বলুক, মানুষকে চিরকাল সত্যের আর সুন্দরের স্বপ্ন দেখাক।’

আরো পড়ুন :
তসলিমা ও বিজেপি সাংসদের ‘অবৈধ’ সম্পর্ক ফাঁস করল মেয়ে
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ২৭ অক্টোবর ২০১৮
তাসলিমা নাসরিন আর বিতর্ক যেন সমার্থক শব্দ। বিতর্ক কখনো তাকে পিছু ছাড়েনি। এবার সংবাদ সম্মেলন এক তরুণী তাসলিমা নাসরিনকে তার ‘মা’ হিসেবে দাবি করলেন। আর বাবা হিসেবে দাবি করলেন ভারতীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সংসদ সদস্য জর্জ বেকারকে। এ নিয়ে ভারতের কলকাতা২৪ একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। পাঠকের জন্য কলকাতা২৪ এর সংবাদটি হুবহু তুলে দেয়া হল-

“আমি অঙ্কিতা ভট্টাচার্য। আমার স্বামীর নাম ইন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। আমার বাবার নাম জর্জ বেকার। মায়ের নাম তসলিমা নাসরিন।”

তসলিমা নাসরিনকে ঘিরে নানাবিধ বিষয় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য। অন্য একটি হল তার যৌন জীবন।

জীবনে তিন বার বিয়ে করেছেন তিনি। প্রথমটি আশির দশকে। পরের দু’টি ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে। বিয়ের বাইরেও যে তার যৌন সম্পর্ক ছিল সেই বিষয়ে অবশ্য কোনও লুকোচুরি রাখেননি তসলিমা। তবে ঠিক কার কার সঙ্গে তিনি নিজের যৌনতা ভাগ করে নিয়েছেন সেই বিষয়ে অনেক বিতর্ক আছে।

অন্যদিকে লোকসভার সাংসদ জর্জ বেকারের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বিশেষ কোনও তথ্য জানা যায় না। অসমের এক গ্রিক পরিবারে জন্ম নেওয়ায় জন্ম বেকার পেশায় অভিনেতা। অসমীয় ভাষার পাশাপাশি অনেক বাংলা এবং হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন। যাত্রার মঞ্চ এবং টেলিভিশনেও তাকে দেখা গিয়েছে।

২০১৪ সালে রাজনীতির ময়দানে আসেন জর্জ বেকার। লোকসভা ভোটে হাওড়া থেকে লড়াই করলেও জিততে পারেননি। তবে রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন পেয়ে তিনি অ্যাংলো ইন্ডিয়ান হিসেবে লোকসভার সদস্য হয়েছেন।

সেই জর্জ বেকারের সঙ্গেই নাকি সম্পর্ক ছিল তসলিমা নাসরিনের। এদের সন্তানই হচ্ছে বর্ধমানের ভাতার থানা এলাকার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা অঙ্কিতা ভট্টাচার্য। যাঁর ছোটবেলা কেটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বেহালায়। তাঁকে পালন করেছেন গৌরী ভট্টাচার্য নামের এক মহিলা যিনি আবার সম্পর্কে জর্জ বেকারের স্ত্রী অর্পিতার বোন। গৌরীদেবীর মৃত্যু হয়েছে। তবে তার এই পালিত কন্যা এই সম্পর্কে আগেই জানতেন বলে জানা যায়। স্মৃতিচারণের সুবিধার্থে দিয়েছেন কয়েকটি ছবি। একই সঙ্গে তাঁর জন্ম বৃত্তান্ত সম্পর্কে আরও তথ্য-প্রমাণ কোথায় রয়েছে তাও জানিয়েছিলেন।

জন্মের পরে বেশ কয়েক বছর জন্মদাতা বাবা-মা জর্জ বেকার এবং তসলিমা নাসরিনের সঙ্গেই কাটিয়েছিলেন অঙ্কিতা। সেই সময়ের বেশ কিছু ছবি গৌরীদেবী তাঁকে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে সেই ছোটবেলার স্মৃতি আবছা হলেও তাঁর মন থেকে মুছে যায়নি বলেও জানিয়েছেন অঙ্কিতা। আরও অনেক ছবি এবং প্রমাণ গৌরীদেবীর দাদা রণজিৎ-র কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অঙ্কিতা। গৌরীদেবীর জীবদ্দশায় ভাতারের বাসিন্দা ইন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিয়ে হয় অঙ্কিতার।

অঙ্কিতা ভট্টাচার্য আরও জানিয়েছেন যে নিজের প্রকৃত বাবা-মায়ের বিষয়ে জানার পরে জর্জ বেকারের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন। নিরাশ হতে হয়নি তাকে। অঙ্কিতা বলছেন, “জর্জ বেকারের কাছে আমি পিতৃস্নেহ পেয়েছি।” যদিও তা খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। অঙ্কিতার অভিযোগ স্ত্রী অর্পিতার চাপেই কন্যা অঙ্কিতাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন জর্জ বেকার। বন্ধ করে দিয়েছেন সমস্ত যোগাযোগ।

বাবার সম্মানের কথা ভেবেই সমগ্র বিষয়টি চেপে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন অঙ্কিতা। তবে যাতে তিনি চুপ থাকেন তার জন্য অনেক হুমকিও এসেছে। প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। “কিন্তু নিজের প্রাপ্য আদায়ের জন্য একপ্রকার বাধ্য হয়েই আর চুপ থাকতে পারলাম না,” বলছেন অঙ্কিতা।

মা তথা লেখিকা তসলিমা নাসরিনের যোগাযোগ হয়েছিল? এই বিষয়ে কিছু বলেননি অঙ্কিতা। নাগরিকত্ব না থাকলেও বর্তমানে ভারতের জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে রয়েছে তসলিমা নাসরিন। ওই শহরেই অবশ্য রয়েছে ভারতের সংসদ ভবন। সাংসদেরাও ওই শহরেই থাকেন। তাহলে কী আবার…?? প্রশ্ন থাকছেই।


আরো সংবাদ




bedava internet