২৫ এপ্রিল ২০১৯

একাই ১০০ দেশ পাড়ি বাংলাদেশী এ সাহসী নারীর

ভ্রমণ
একাই ১০০ দেশ ঘুরেছেন আসমা - ছবি: সংগৃহীত

বারো বছর আগে ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে থাইল্যান্ড দিয়ে শুরু। তার পরে ভারত আর নেপাল। তত দিনে বিশ্বদর্শনের ভূত ঘাড়ে চেপে বসেছে। বাড়ি থেকে পিছুটান আসেনি, বললে ভুল হবে। ‘মেয়েরা এ সব পারে না,’ প্রতিবেশী-স্বজনদের টিপ্পনী জেদটাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। তার পরে চলা... চলা... আর চলা কাজী আসমা আজমেরীর।

একেবারে একা বেড়াতে বেড়াতে দুনিয়ার ১০০টা দেশ ঘুরে ফেলেছেন খুলনার মেয়ে আসমা।

অস্ট্রেলিয়ার একটা বড় অংশ ঘুরেছেন হিচ হাইক করে— ট্রাক, মোটরগাড়ি বা যে যানবাহন যখন জুটেছে, তাতে সওয়ার হয়ে। ব্রাজিলে বিশ্বকাপের ভিড়ে। হন্ডুরাসের ইউটিলার সৈকতে ক্যারিবীয় সাগরে পা ভিজিয়ে ভেবেছেন— দুনিয়ার সব সৈকত কেন এত সুন্দর হয় না! লরিতে দীর্ঘ কাঁচা রাস্তা পাড়ি দিয়ে তার পর ১২ মাইল ধুলো ওড়ানো পথ হেঁটে পৌঁছে যান বলিভিয়ার ভালেগ্রান্দেতে। প্রত্যন্ত এই গ্রামের স্কুলে গুলি করে মারা হয়েছিল চে গুয়েভারাকে।

ফিজি, অস্ট্রেলিয়া হয়ে নিউজিল্যান্ডে পৌঁছে বড় সুন্দর লেগেছিল দেশটিকে। কাজও জুটে গেল সেখানকার রেডক্রসে। এখন বছর দেড়েক টানা কাজ করেন সেখানে আর অস্ট্রেলিয়ার পার্থে। তার পরে চার মাস বেড়ানো, এক মাস বাংলাদেশে গিয়ে বাবা-মা আর ভাইয়ের সাথে থাকা। ইউরোপীয় পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগ এসেছিল, নেননি। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের সন্তান তিনি। বাংলাদেশের পাসপোর্টই রেখেছেন, সেই পাসপোর্টেই দেশ-বিদেশ ঘুরছেন। বিপাকেও পড়তে হয়েছে। ভিয়েতনামে ঢোকার পরে ফিরতি বিমান টিকিট দেখতে চাওয়া হয়। অথচ কথা ছিল সড়ক পথে কাম্বোডিয়া যাবেন। বাংলাদেশের পাসপোর্ট বলেই যে অভিবাসন কর্তারা কানে কথা তুলছেন না, বিলক্ষণ বুঝেছিলেন।

ঠাঁই হল জেলে। ২৪ ঘণ্টা পর গলাধাক্কা দিয়ে ফেরত। তুরস্ক থেকে ট্যুরিস্ট বোটে সাইপ্রাস যাওয়ার পরেও আসমাকেই বেছে আলাদা করা হল। তিনি যে থেকে যাবেন না, নিশ্চয়তা কী? সে বারও ডিপোর্ট করার আগে ২৭ ঘণ্টার জেল। তবু বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছাড়েননি আসমা।

বলেন, কলকাতা আবার বিদেশ নাকি! এত বন্ধু মানুষ, নিজের ভাষায় কথা বলা। মার্চে আবার বেরিয়ে পড়া তানজানিয়া, কেনিয়া আর ইথিওপিয়া। সব চেয়ে সুন্দর দেশ?

এক মুহূর্ত না-ভেবেই জবাব আসমার— মন্টেনেগ্রো। কী যে সুন্দর প্রকৃতি সেখানে!

বেড়ানোর পাশাপাশি অবৈধ দেশান্তরের বিপদ নিয়েও প্রচার করেন আসমা। সারা জীবনের সঞ্চয় বাজি রেখে বেআইনি ভাবে অন্য দেশে পাড়ি জমানো যে প্রাণঘাতী হতে পারে, দালালরা সে কথা বলে না। বিপন্ন মানুষদের ভয়ানক সব অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিয়ে আসমা সাবধান করেন সবাইকে। বাংলাদেশে বন্ধুদের বলেন, বেরিয়ে পড়ো। ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের বাইরেও যে কী সুন্দর একটা পৃথিবী রয়েছে দেখো। সভ্যতা, জীবন যাপন, খাদ্যাভ্যাসে কত বৈচিত্র, কত আনন্দ। যেখানে যান, সেখানকার খাবার চেখে দেখেন আসমা। ঘোড়ার মাংসের ঝাল চচ্চড়ি, কুমিরের ডালনা, হাঁসের রক্তের বরফি।

বিয়ের জন্য চাপ আসায় বাড়িতে বলেছিলেন, ৫০টা দেশ দেখে তবে। ২০১৪ সালে ব্রাজিলে পা রাখতেই ৫০ পূর্ণ হয়। গত অক্টোবরে তুর্কমেনিস্তানে ১০০। শুধু বিয়েটা এখনো করা হয়ে ওঠেনি বছর ৩৩-এর বিশ্বনাগরিক আসমার। তবে করবেন। তাই বাদ রেখেছেন সুইজ়ারল্যান্ড আর নেদারল্যান্ডসকে। ভেবে রেখেছেন, বরকে সাথে নিয়েই যাবেন ওই দুই স্বপ্নের দেশে।

দেখুন:

আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat