২০ নভেম্বর ২০১৯

আমাদের লাইফস্টাইল কেমন হওয়া উচিত

আমাদের লাইফস্টাইল কেমন হওয়া উচিত - ছবি : সংগ্রহ

অনেক শিক্ষার্থী তাদের জন্য অস্বাস্থ্যকর পদ্ধতিকেই আপন করে নিয়েছে। তারা রাত জাগে, আর দিনে ঘুমায়। রাত আর দিনের পার্থক্য বুঝে না, বুঝতেও চায় না। তাদের ‘যুক্তি’ একটাই- পড়ালেখা করলেই হলো; সেটা দিন হোক কি রাত (যুক্তি প্রসঙ্গে পরে বলছি)। কিন্তু এতে তাদের অভ্যাস আর স্বাস্থ্য দুটোই খারাপ হচ্ছে।

এবার আসি তাদের যুক্তির প্রসঙ্গে- ‘পড়া পড়লেই হলো, সারা রাত পড়ি কি দিনের বেলায়, সেটা কোনো ফ্যাক্টর না’। তবে আসলে ব্যাপারটা এমন নয়। আমরা মেডিক্যাল সায়েন্সের আলোকে চিন্তা কিংবা স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করি- রাতে একটানা ঘুমিয়ে আমরা সকালে যখন উঠছি তখন ব্রেনটা থাকছে ফ্রেশ, পরে নাস্তা খেয়েও পাচ্ছি এনার্জি। এটা দুপুর ১২টা-১টা পর্যন্ত বহাল থাকছে। এরপর দুপুরের খাবার খেয়ে কেউ অল্প পড়ালেখা করে বিকেলে পড়ার টেবিল ত্যাগ করে; কেউ বা একটু ঘুমিয়ে নেয়। পরে সন্ধ্যার নাশতা খেয়ে একটানা পড়া এবং রাতের খাবার খেয়ে একটু পড়ালেখা করে ঘুমোতে যাওয়া।

কিন্তু কেউ যখন টার্গেট রাখছে, সে রাত জাগবে- তখন দেখা যাচ্ছে, নিজের ঘুম দিনের বেলায় পূরণ করার চেষ্টা করছে। তবে দিনের ঘুম আর রাতের ঘুমের মধ্যে অনেক পার্থক্য। প্রাকৃতিকভাবেই, দিন কোলাহলপূর্ণ আর রাত প্রশান্তিময়, নীরব...। ‘তিনি তোমাদের জন্য তৈরি করেছেন রাত, যাতে তোমরা তাতে প্রশান্তি লাভ করতে পারো... নিঃসন্দেহে এতে নিদর্শন রয়েছে সেসব লোকের জন্য যারা শ্রবণ করে’ (সূরা ইউনুস, আয়াত-৬৭)।

সুতরাং উল্টো নিয়মে প্রকৃত তৃপ্তি পাওয়া যায় না। আর অনেকেই রাত জাগতে গিয়ে কাপের পর কাপ চা-কফি গিলতে থাকে; ফলে পরে এরাই মারাত্মক গ্যাস্ট্রিকের রোগী হয়ে যায়। ঘটে স্বাস্থ্যহানি। কখনো রাত জাগার অভ্যাসটা হয়ে যায় একেবারে স্থায়ী। এ কারণে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ কিংবা ইয়াবার দিকেও ঝুঁকে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের এমন লাইফস্টাইলে বাধা দিলেও ওরা কথা শোনে না। বরঞ্চ উত্তেজিত হয়ে বেয়াদবি করে। আবার অনেক পরিবারে সন্তানের পাশাপাশি মা-বাবারাও ঘুম থেকে বেলা ১১টা-১২টায় ওঠেন। নাশতা খেতে খেতে জোহরের আজান হয়ে যায়। আর ভাত খেতে খেতে আসরের আজান। সন্ধ্যার নাশতা খেতে খেতে রাত সাড়ে ৮টা বা ৯টা, আর রাতে ভাত খেতে খেতে ১২টা। এসব পরিবারে ধর্মীয় ইবাদত, যেমন- মুসলমানদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ওপরও জোর দেয়া হয় না। সুতরাং এই যদি হয় ঘরের অবস্থা তাহলে কেমন বদভ্যাসে জড়িয়ে যাচ্ছে এ যুগের পরিবারগুলো?

অতএব, সম্ভাবনাময় জীবন গড়তে আমাদের এবং আমাদের পরিবারের অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করতে হবে। সন্তানদের বোঝাতে হবে। যেটা সঠিক, সেটাই প্রয়োগ করতে হবে, যাতে দুনিয়ার কাজ ও তার পাশাপাশি ইবাদতও অক্ষুণœ থাকে।


আরো সংবাদ