১৪ অক্টোবর ২০১৯

বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন বেড়েছে : এইচআরডাব্লিউ

বাংলাদেশে বিরোধী দলের ওপর নিপীড়ন বেড়েছে, একইসঙ্গে বাক স্বাধীনতা খর্ব হয়েছে বলে মনে করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে এমন দাবিই করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ২০১৮ সালের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই নিপীড়ন কয়েকগুণ বেড়েছে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী জবাবদিহিতার আওতায় আসার পরিবর্তে সহিংসতা, নির্যাতন, জোরপূর্বক গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে।

২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এ নির্বাচনে গুরুতর কারচুপি হয়েছে। এছাড়া বিরোধীদলীয় কর্মীদের ওপর হামলা, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগও তোলা হয়।

এদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অব্যাহত আগমনকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মনে করে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, আশ্রয় সক্ষমতাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণ কঠিন হয়ে যাবে যদি না মিয়ানমার তাদের ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। অচিরেই বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে এই শরণার্থীরা– এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া বিভাগের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। এই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠেছে প্রশাসন। পাশাপাশি বাকস্বাধীনতা হরণের মতো ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি এমন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যে-কোনো মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকতে নিজেদের জনগণের অধিকার খর্বসহ নানা অপব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছেন।’’

প্রতিবেদনে মাদক নির্মূল অভিযানের নামে কয়েকশত লোক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, পাশাপাশি কোটা সংস্কার আন্দোলনে ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে সরকারী দলের ছাত্র সংগঠনের হামলার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে শহীদুল আলমের ১০৭ দিনের কারাভোগের ঘটনা উল্লেখ করে সরকারের তীব্র সমালোচনা করা হয়।

পাশাপাশি ধর্ষণ, পারিবারিক নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ রোধে কোনো অগ্রগতিই হয়নি বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে। রানা প্লাজার মতো দুর্ঘটনার ৫ বছর পরেও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো জোর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলেও মনে করে এইচআরডাব্লিউ।

৬৭৪ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে শতাধিক দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কেনেথ রথ প্রতিবেদনটির ভূমিকায় বলেন, আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, অনেক দেশে জনভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিশ্বজুড়ে ঘৃণার বিস্তার করছে। এতে জনরোষ ও অসহিষ্ণুতা ছড়াচ্ছে। একইসঙ্গে বিশ্বজুড়ে স্বৈরাচারি প্রশাসনের উত্থানের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধও বেড়েছে।

এই প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে জার্মানির হিউম্যন রাইটস ওয়াচের পরিচালক ভেনজেল মিশালস্কি বলেন, ‘‘দেশটিতে অস্ত্র ব্যবসায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে স্বৈরাচারী আচরণ বেড়েছে।

তবে মালোয়েশিয়া ও মালদ্বীপে জনগণের ভোটে দুর্নীতিবাজ প্রশাসনের পতনকে স্বাগত জানানো হয়।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum