২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কোন পথে ২০১৯ সাল

-

২০১৯ সালে বিশ্ব কোন দিকে মোড় নিতে পারে, এ নিয়ে নানা ধরনের পর্যালোচনা চলছে। বিশ্লেষকেরা বিশ্বের নানা ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে পরিস্থিতির গতি নিরূপণ করার চেষ্টা করছেন। সার্বিক পর্যবেক্ষণে মনে হয়, ২০১৮ সালের মতোই বেশ ঘটনাবহুল হবে ২০১৯ সাল। এ সময় বিশ্বের উল্লেখযোগ্য প্রবণতা কেমন হতে পারে, তার ওপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা হয়েছে এই লেখায়। উল্লেখিত বিশ্লেষণ প্রধানত স্ট্যাটফোরের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

বিশ্ব শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা : বিশ্বব্যাপী ২০১৯ সালে বিশ্ব শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা জোরদার হবে। চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক নিষেধাজ্ঞা, বিকাশমান প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ, তাইওয়ানের প্রতি জোরালো সমর্থন এবং দক্ষিণ চীন সাগরে ভূমিকা আরো বাড়িয়ে কৌশলগত চাপ বাড়াবে। সেই সাথে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে ব্যর্থ হওয়ার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতা জোরদার হবে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজক পরিস্থিতি পোল্যান্ড ও তাইওয়ানের মতো দুর্বল সীমান্তীয় শক্তিগুলোর জন্য কৌশলগত সুযোগ সৃষ্টি করবে। তবে তুরস্ক, ভারত ও ভিয়েতনামের মতো যারা নিরপেক্ষ অবস্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে; এমন মধ্যম ক্ষমতার দেশগুলোর জন্য সৃষ্ট পরিস্থিতি ব্যাপক মাথাব্যথা সৃষ্টি করবে।

ভূরাজনৈতিক পরিবেশে ব্যবসার জন্য ঝুঁকি : ভূরাজনৈতিক উত্তেজক পরিবেশের কারণে ২০১৯ সালে ব্যবসার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির ইস্যুতে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানকে চীনা বিনিয়োগের ব্যাপারে জোরালো বাধা সৃষ্টি করবে। এটি ২০১৯ সালে কৃত্রিম গোয়েন্দাবৃত্তি থেকে ৫জি নেটওয়ার্ক পর্যন্ত কৌশলগত ক্ষেত্রে গবেষণা ও বাণিজ্যকে প্রভাবিত করবে। এয়ারস্পেস এবং উচ্চপর্যায়ের সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো ধরতে চীনের প্রয়োজনীয়তা কেবল করপোরেশনগুলোর জন্য সাইবার হুমকি বাড়িয়ে দেবে এবং সামগ্রিকভাবে সাইবারস্পেস নীতির ব্যাপারে আরো আক্রমণাত্মক হতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করবে। এ ছাড়া, করপোরেশনগুলোর জন্য ডাটা সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাপ্রাপ্ত হবে এবং মোটা অঙ্কের জরিমানা আর ডাটা ভাঙার ব্যাপারে মামলার মুখে পড়তে হতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে বাণিজ্য অস্থিতিশীলতা : বিশ্ব অর্থনীতির বাণিজ্য অস্থিতিশীলতা চাঙ্গা হতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়াকে অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে। এর ফলে দেশগুলো তাদের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বয়ংক্রিয় শুল্কের হুমকিকে নমনীয় করার জন্য কোটা সমঝোতার ক্ষেত্রে কানাডা, মেক্সিকো, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া একটি নিষ্পত্তিতে পৌঁছতে পারে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হতে পারে। আর চীনের ওপর অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক আরোপ বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা যুক্ত করবে। ২০১৯ সালে হোয়াইট হাউজের বাণিজ্য নীতির প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির ওপর তুলনামূলক নমনীয় হবে।

ইতালি এবং ব্রেক্সিট : ইতালি এবং ব্রেক্সিটের ব্যাপারে উত্তেজক দৃশ্যকল্প সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৯ সালে ইতালির ক্রমবর্ধমান ঋণের মাত্রা এবং ব্যাংকিং খাতের মন্দাবস্থা দেশটির জনতুষ্টিবাদী সরকারের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দেবে। ব্রাসেলস থেকে হুমকির চেয়েও আর্থিক বাজার এবং বিপজ্জনকভাবে সুদ হার রোমের জন্য বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার কারণ হতে পারে। ব্রাসেলস যুক্তরাজ্যের সাথে একটি চুক্তিহীন ব্রেক্সিট দৃশ্যকল্প পরিত্যাগ করতে কাজ করবে কিন্তু ব্রিটিশ সংসদীয় ভেটো ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে প্রস্থান করার পথে বৃহত্তম বাধা হয়ে থাকবে।

ইরানবিরোধী প্রচারণা : ইরানবিরোধী প্রচারণার পরবর্তী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দূরবর্তী দ্বিতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞার সাথে সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে আঞ্চলিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে চেষ্টা করবে। একই সাথে ভেতর থেকে দেশটিকে দুর্বল করার চেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সঙ্ঘাত বাড়িয়ে দেবে এবং দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার সম্ভাবনা কমিয়ে দেবে। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বের ওপর রাজকীয় পরিবারের একটি অংশ এবং বেশ ক’টি প্রভাবশালী বিদেশী সরকারের চাপ রয়েছে। এর পরও ইরানের বিরোধিতা করার সাধারণ এজেন্ডার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যে কৌশলগত উচ্চস্তরের সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার : বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ক্রমবর্ধমান সরবরাহের ওপর নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর। সৌদি আরব ও রাশিয়া বাজারে ইরানি তেল রফতানির প্রভাবগুলোর ওপর নজর রাখবে এবং তেলের মূল্য পতন প্রতিরোধে এর উৎপাদনের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। ইরাক ও লিবিয়ায় তেল উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বছরের শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তেল রফতানি সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হ্রাস পেতে পারে। ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী শীর্ষ তিনটি এলএনজি রফতানিকারকের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন নিজের অবস্থান করে নেবে, তখন বিশ্বব্যাপী তরলকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

ল্যাটিন আমেরিকা : ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার হার্ডলাইন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রপন্থী সরকারগুলো ভেনিজুয়েলার চলমান সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটি সক্রিয় আঞ্চলিক প্রচেষ্টা চালাতে পারে। ব্রাজিলের প্রচেষ্টা ভেঙে মরক্কোর ট্রেডিং ব্লকের সংস্কার চেষ্টা আর্জেন্টিনাকে রাজনৈতিকভাবে অস্থির করতে পারে। গণভোটের ক্ষমতা মেক্সিকোর জন্য পরীক্ষা হবে, যেখানে আগ্রাসী জনতুষ্টিবাদী কর্মসূচি বিনিয়োগ ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে।

ইথিওপিয়া : ইথিওপিয়া আফ্রিকায় বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে। ইথিওপিয়ার উচ্চাভিলাষী এজেন্ডা বাইরের দেশগুলোতে অর্থনৈতিক আগ্রহ তৈরি করছে এবং আফ্রিকার প্রবেশমুখের এ দেশটিতে বিদেশীদের আকৃষ্ট করছে। কিন্তু বর্তমান নেতৃত্ব ও জাতিগত দ্বন্দ্বের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলো আদ্দিস আবাবার গতিবেগ ধীর করতে পারে।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme