২০ নভেম্বর ২০১৮

প্রধানমন্ত্রীর আশাবাদ

আওয়ামী লীগ পুনর্নির্বাচিত হলে দেশের আরো উন্নয়ন হবে : প্রধানমন্ত্রী - ছবি : বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে ৩২১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ পুনর্নির্বাচিত হলে দেশের আরো উন্নয়ন সাধিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতটুকু একটা দেশ, ১৬ কোটি মানুষ, তাদের জন্য যতটুকু দরকার তা এই অল্প সময়ে আমরা করতে পেরেছি এবং আমাদের অনেক পরিকল্পনা এবং তা আমরা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করে যাব। জনগণ আগামীতে ভোট দিলে আরো উন্নয়ন হবে।’
তিনি এসময় বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকমুক্ত করে দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানকে অব্যাহত রাখার এবং আরো জোরদার করাও নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষকে একটা সুস্থ, সুন্দর জীবন দেয়া এবং সমাজটাকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ-মাদক থেকে মুক্ত করে একটা উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা পূরণ করবো, সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আওতাধীন দেশের ৫৬টি জেলায় এসব প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এরমধ্যে ২৯৭টি প্রকলপ তিনি উদ্বোধন করেন এবং ২৪টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান থেকে এদিন সুন্দরবনকে আনুষ্ঠানিকভাবে দস্যুমুক্ত এলাকা ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, ‘এখন থেকে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত। আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দস্যুরা আত্মসমর্পণ করেছে। আমরা তাদের এক লাখ করে টাকা দিচ্ছি। তারা নিজ নিজ গ্রামে কাজ করে খেতে পারবে। পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতে পারবে।’

দস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী র‌্যাব, পুলিশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় দস্যুতা ছেড়ে দেয়া লোকজনকে সমাজে পুনর্বাসনে সবরকমের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সুন্দরবনের ছয়টি দস্যু বাহিনীর প্রধানসহ ৫৪ সক্রিয় সদস্য বাগেরহাটের শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়ামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে বাগেরহাট ছাড়াও, পিরোজপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ঢাকার উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টর এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকার সঙ্গে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে পৌঁছে দিয়েছি। আজকে তৃণমূল পর্যায়ে সেই গ্রামের মানুষেরর ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মানুষের জীবনমান উন্নত হয়েছে এবং আরো উন্নত হবে।’

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি পুনরায় নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমাদের সময় শেষ হয়ে এসেছে এটা ঠিক। নির্বাচন খুব সামনে। হয়তো যেকোন সময় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে, আবারো আমরা জনগণের কাছে আসবো- নৌকা মার্কায় ভোট আমরা চাই।’

‘আমরা চাইব যে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে যাচ্ছি সেগুলো যেন আগামী দিনে এসে আমরা সম্পন্ন করতে পারি এবং মানুষের চাকরি ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করার সে কাজ যেন সম্পন্ন করতে পারি। সেই সহযোগিতাও আমি দেশবাসীর কাছে চাই, ’যোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশের জনগণের প্রতি যে তারা ’৯৬ সালে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের সরকার গঠন করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন এবং ’৯৬ থেকে ২০০১ বাংলাদেশের জন্য ছিল স্বর্ণযুগ।

তিনি বলেন, যে সময় বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, কমিউনিটি ক্লিনিক চালু সহ বিভিন্ন পুল-ব্রীজ, রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করে অবকাঠামো উন্নয়নে আমরা কাজ করি। অর্থাৎ যে মৌলিক চাহিদাগুলো নিশ্চিতের কথা জাতির পিতা সংবিধানে দিয়েছিলেন সেগুলোর জন্য আমরা কাজ শুরু করি।

দুর্ভাগ্যক্রমে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে না পারায় ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আরেকটি অন্ধকার যুগে উপনীত হয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি পূর্ববর্তী সরকারের উন্নয়র প্রকল্প এবং দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচিগুলো বন্ধ করে দেওয়া, দেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বোমা হামলা গ্রেনেড হামলা, সংসদ সদস্যদের হত্যা, শত শত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্র্মীকে হত্যা এবং তাঁদের সম্পদ লুন্ঠন এবং দেশকে পর পর পাঁচবার দুর্নীতি চ্যাম্পিয়ন করানো বিএনপি-জামায়াতের দু:শাসনের কথা স্মরণ করেন। ২০১৩, ১৪ এবং ১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের নামে অগ্নি সন্ত্রাস এবং প্রায় ৫ শ’ মানুষকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা এবং সরকার ও জনগণের সম্পদ বিনষ্ট করার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই অবস্থা মোকাবেলা করে তারপর বিশ্ব অর্থনীতির চলমান মন্দা মোকাবেলা করেও আমরা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি।’

মানুষের দিন বদল হতে শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যে দিন বদলের সনদ আর ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা করেছিলাম- তাতে আজকে আমরা এইটুকু দাবি করতে পারি- মানুষের দিন বদল হয়েছে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শুধু যে বর্তমানে যারা রয়েছেন তারাই নয়, আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যতটা যেন সুন্দর হয়,তাদের জীবনটা যেন উন্নত হয়, তাদের ভাগ্যেরও যেন পরিবর্তন হয়, বিশ্বের সাথে তারা যেন তাল মিলিয়ে চলতে পারে, আর বিশ্ব প্রতিযোগিতায় যেন টিকে থাকেতে পারে-সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই দেশ পেয়েছি, এই দেশবাসী যেন বিশ্বে মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, যেখানেই যাবে মাথা উঁচু করে চলবে, সেটাই আমার লক্ষ্য। এই লক্ষ নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক, নৌপরিবহন মন্ত্রী মো. শাজাহান খান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ডাক ও টেলি যোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মুস্তাফা জব্বার উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গোপালগঞ্জ থেকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন বাগেরহাট থেকে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন উত্তরা থেকে যুক্ত হয়ে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড.তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এবং ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালিক, বিদুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন সিকদার, এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ সহ সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিববৃন্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ১৭টি প্রকল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ৩১টি প্রকল্প, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দুইট প্রকল্প, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৯৮টি প্রকল্প, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ১১টি প্রকল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ছয়টি প্রকল্প, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন তিনটি প্রকল্প, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি প্রকল্প, বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ১১২টি প্রকল্প, এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চারটি প্রকল্প, তথ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন তিনটি প্রকল্প, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দু’টি প্রকল্প, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পাঁচটি প্রকল্প, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ১৩টি প্রকল্প, মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দুটি প্রকল্প এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন বেপজা’র একটি প্রকল্প।


আরো সংবাদ