১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

স্ত্রীর অধিকার পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অন্ত:সত্তা ফারজানা

স্ত্রীর অধিকার পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অন্ত:সত্তা ফারজানা - সংগৃহীত

ফারজানা আক্তার (২৪)। ভালোবেসে বিয়ে করেছেন একই পাড়ার বাসিন্দা স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান সাহাদাতকে। কিন্তু ফারজানা দরিদ্র ঘরের হওয়ায় তাদের এই বিয়ে মেনে নেয়নি সাহাদাতের পরিবার। এরই মধ্যে ফারজানা সাত মাসের অন্ত:সত্তা। কিন্তু এই খুশির খবরের মধ্যেও চারদিকে অন্ধকার দেখছেন তিনি।

শ্বশুর বাড়ির লোকজনের প্ররোচনায় ভালোবাসার মানুষটিও এখন তাকে অস্বীকার করছে। এতেই খ্যান্ত নয়, যৌতুক না দেয়ায় শারীরিকভাবে নির্যাতন করে তাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় স্ত্রীর অধিকার ফিরে পেতে আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের হুমকিতে নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছেন ফারজানা ও তার পরিবার।
নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া পুর্নবাসন কেন্দ্র এলাকার বাসিন্দা মোঃ আব্দুল আজিজের কন্যা ফারজানা আক্তার। বাবা এলাকায় ছোটখাট ব্যবসায় করে সংসার চালান।

দৈনিক নয়া দিগন্ত কার্যালয়ে এসে অন্ত:সত্তা ফারজানা স্ত্রীর অধিকার ফিরে পেতে আকুতি করেন। জানান, একই পাড়ার বেলায়েত হোসেনের ছেলে সাহাদাতের সঙ্গে তার দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে। এক পর্যায় দুজনের ইচ্ছাতেই পরিবারকে না জানিয়ে তারা চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে করেন এবং পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে তাদের কাবিনামা সম্পন্ন হয়।

ফারজানা জানান, বিয়ের পরেই ভালোবাসার মানুষটির রুপ পাল্টে যায়। তাদের বিয়ে এক পর্যায় ফারজানার পরিবার মেনে নিলেও সাহাদাতের পরিবার মেনে নেয়নি। তবুও স্বামীর ভরসায় তিনি শ্বশুর বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে বেশি দিন টিকতে পারেননি। কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামীর আচরন পাল্টে যায়। শ্বশুর বাড়ির লোকজনের প্ররোচনায় সাহাদাত স্ত্রীর কাছে যৌতুকের বায়ণা ধরে। বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে দেয়ার জন্য ফারজানার ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। অন্যথায় তাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হবে এবং তাদের বিয়ে হয়নি বলেও হুমকি দেয়। এরই মধ্যে ফারজানা অন্ত:সত্তা হন। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। যৌতুকের বায়নায় এক পর্যায় ফারজানাকে মারধর করে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়।

ফারজানার বাবা আব্দুল আজিজ জানান, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিয়ের বিষয়টি মেনে নেন। এমনকি মেয়ের সুখের কথা ভেবে ব্যবসার জন্য জামাই সাহাদাতকে আড়াই লাখ টাকা তুলে দেন। কিছুদিন সে ওই টাকা দিয়ে ব্যবসাও করে। কিন্তু হঠাৎ করেই সাহাদাত তার বাবার বাড়ির লোকজনের প্ররোচনায় পড়ে ফারজানার কাছে যৌতুকের বায়না ধরে। তিনি জানান, মেয়েকে মারধর করে শ্বশুর বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর তিনি এলাকার জনপ্রতিনিধি ও গন্যমান্যদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।

কিন্তু কোনভাবেই সাহাদাতের পরিবার ফারজানাকে ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছেনা। উল্টো সাহাদাত ফারজানাকে বিয়ে করেনি বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অন্ত:সত্তা মেয়েকে নিয়ে তিনি অন্ধকার দেখছেন বলে জানান। এঅবস্থায় আইনের আশ্রয় পেতে তিনি কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। কিন্তু মামলা করায় সাহাদাত ও তার পরিবার নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরো পড়ুন : সন্তান সম্ভাবা নারীর উপর ঝাপিয়ে পড়লো ভাড়াটিয়া
নয়া দিগন্ত অনলাইন ০৮ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:৪৭

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নবীনগর হাউজিংয়ের একটি বাসায় সন্তান সম্ভাবা এক নারীকে (১৯) যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক মেহেদীকে (২২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে ওই নারীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে গত রোববার দুপুর একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় মঙ্গলবার ভুক্তোভোগী ওই নারীকে মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

গৃহবধূর স্বজনরা জানান, রোববার দুপুরে তার স্বামী কাজের জন্য বাসার বাইরে ছিলেন। বাসায় একা ছিলেন দেড় মাসের সন্তান সম্ভাবা ওই নারী। এসময় পাশের বাসার ভাড়াটিয়া মেহেদী তাদের রুমের দরজায় কড়া নাড়ে। পরে ওই নারী দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে মেহেদী রুমের ভেতর ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। বাধা দিলে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মেহেদীর হাঁটুর আঘাত লাগে ওই নারীর পেটে। এতে রক্তপাত শুরু হয় তার। দুপুরের খাবার খেতে এসে গৃহবধূর স্বামী এ ঘটনা দেখতে পান। পরে মেহেদীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি স্থানীয় হাসপাতালে যান। হাসপাতাল থেকে পরে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন তারা। এলাকায় প্রভাব থাকায় আটক অবস্থা থেকে বের হয়ে মেহেদীও থানায় যায় ওই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে। পুলিশ তখন মেহেদীকে গ্রেফতার করে। গতকাল স্থানীয় ক্লিনিক থেকে ওই গৃহবধূকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী জানান, তিনি পেশায় একজন নির্মাণ শ্রমিক। তার স্ত্রী একজন গৃহিণী। ১০-১২ দিন আগে তারা গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে নবীনগর হাউজিংয়ের ওই বাসায় ভাড়া ওঠেন।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি মোঃ জামাল উদ্দিন মীর ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্ত যুবক মেহেদীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


আরো সংবাদ