২৬ এপ্রিল ২০১৯

মধ্যপ্রাচ্যে মধ্যস্থতাকারীর মর্যাদা হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে মধ্যস্থতাকারীর মর্যাদা হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র - সংগৃহীত

২৫ বছর আগে যখন যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজে অসলো চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ফিলিস্তিনের নেতা ইয়াসির আরাফাত ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিন হাত মেলাচ্ছিলেন, তখন সে দৃশ্যটি পাশে দাঁড়িয়ে অবলোকন করছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। ১৯৭৯ সালে যখন ইসরাইল ও মিসরের মধ্যে ঐতিহাসিক ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তখন সে বৈঠকের আয়োজক ছিলেন সেই সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার।

ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ ধরনের কিছু প্রায়ই আশা করেন, তবে সেগুলো কেবল স্বপ্নেই সম্ভব। ঘটনাক্রমের ধারাবাহিকতায় এখনো যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে অনভিজ্ঞ ট্রাম্প বিষয়টির গুরুত্বই বুঝতে পারেননি। ফলে প্রথম দফায় ঘোষণা করে বসেন, তিনি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শতাব্দীর সেরা চুক্তি বাস্তবায়ন করতে চলেছেন। এর জন্য তিনি নিজের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের নেতৃত্বে একটি দলের ওপর এ দায়িত্ব ন্যস্ত করেন। তবে কুশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি বড্ড ইসরাইলঘেষা এবং বিশ্বের উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতি সম্পর্কে অনভিজ্ঞ।


গত বছরের মে মাসে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, সবাই বিষয়টিকে যতটা কঠিন মনে করে আসলে তা নয়। কিন্তু এক বছরের মাথায় এসে তার সেই ধারণা পুরোপুরি বিদায় নেয়। গত সপ্তাহে তিনি ঘোষণা দেন, আমার পুরো জীবনধরেই আমি শুনে এসেছি এই শান্তিপ্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন বিষয়। এখন আমি তা বিশ্বাস করতে শুরু করেছি। তবে এখনো আমি এর বাস্তবায়নে আশাবাদী।
শক্তির পথে শান্তি!

ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে আসার পর আসলেই পরিস্থিতি অনেকটা পাল্টে গেছে। ফিলিস্তিনিরা প্রথমদিকে ট্রাম্পকে কিছুটা ছাড় দিতে চেয়েছিল। কিন্তু যখন তিনি জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী বলে স্বীকৃতি দিলেন, তখন থেকে তারা ওয়াশিংটনের সাথে তাদের সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে। মূলত বিষয়টি ছিল খুবই স্পর্শকাতর এবং দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঐকমত্যেই ছিল যে, পবিত্র শহরের বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারণ করা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ফিলিস্তিনের সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে ফিলিস্তিনি নেতৃবৃন্দের ওপর শাস্তির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় অন্যদিকে ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ দ্বিগুণ করে। এমনকি ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুকে সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা ইউএনআরডাব্লিউএকেও সাহায্য দেয়া বন্ধ করে দেয় ওয়াশিংটন। গত সোমবার মার্কিন প্রশাসন ওয়াশিংটনে পিএলও মিশন বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেয়। ইয়াসির আরাফাতকে হোয়াইট হাউজে স্বাগত জানানোর পর থেকে ২৫ বছর ধরে মিশনটি সেখানে চালু ছিল।

ট্রাম্প বলেছেন, তিনি শক্তি প্রয়োগ করে শান্তি আনতে চান। কিন্তু তা কি টেকসই হবে? কার্নেগি এন্ডোওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গবেষক মিখাইল ডুনে বলেন, শক্তি প্রয়োগের চেয়ে মার্কিনীদের উচিত ফিলিস্তিনিদের সংকটপূর্ণ ইস্যুগুলো যেমন জেরুসালেমের স্ট্যাটাস কী হবে, ফিলিস্তিনিরা নিজেদের ভূমিতে কবে ও কিভাবে ফিরবে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র ঘোষণা-ইত্যাদি বিষয়গুলোতে নজর দেয়া।
ডুনে বলেন, পরিষ্কারভাবেই এ বিষয়গুলো ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি আরব ও মুসলমানদের জন্যও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এগুলো বাদ দিয়ে আসলে শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হওয়া সম্ভবপর নয়।

রহস্যময় শান্তি পরিকল্পনা
মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যে ভূমিকা ওয়াশিংটন দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে উপভোগ করে আসছিল, ট্রাম্পের কারণে সেই ভূমিকায় যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিন।

তবে এতে বিস্মিত হননি রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক উভয় সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে আলোচকের ভূমিকায় দায়িত্ব পালনকারী অ্যারন ডেভিড মিলার। তিনি বলেন, আমরা আসলে কখনোই বিশ্বাসযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হতে পারিনি। ইসরাইলের সাথে আমাদের সম্পর্ক আমাদেরকে এক্ষেত্রে সৎ থাকতে দেয়নি। ফলে বেশ কয়েকটি বড় ইস্যুতে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করার পরও আমাদের কার্যকর মধ্যস্থতাকারী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ফলে আমরাই এর আশা পরিত্যাগ করেছি।

তিনি বলেন, আমি কোনো প্রশাসনকেই ইসরাইলের প্রতি এতটা অস্বাভাবিক সমর্থন দিতে এবং একই সময়ে ফিলিস্তিনের প্রতি এতটা শত্রুতা পোষণ করতে দেখিনি। এ সমস্যাটি এতই গভীর যে, কুশনারের দল এখন পর্যন্ত তার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তি প্রক্রিয়াটি প্রকাশ করতে পারেনি। তবে হোয়াইট হাউজ বলছে, পরিকল্পনাটি এখনো পরিত্যক্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন গত সোমবার বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নেয়া এই পরিকল্পনাটি খুবই অসাধারণ ও উচ্চাভিলাষী।

ডুনে বলেন, ওই পরিকল্পনায় পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এতে নেতিবাচক সায় আসবে ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে। অবশ্য হোয়াইট হাউজের অনেকেরও এ প্রস্তাব পছন্দ নয়। কিন্তু তারা এ বিষয়টিকে ফিলিস্তিনের প্রত্যাখ্যান হিসেবে ব্যবহার করবে। এমন একটি বিষয়ই অবশ্য হোয়াইট হাউজের কাম্য। তখন তারা ফিলিস্তিনের এই প্রত্যাখ্যানটিকে বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলের পক্ষে ব্যবহার করতে পারবে।


আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat