১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার না হলে দেশে গৃহযুদ্ধ হবে’

‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার না হলে দেশে গৃহযুদ্ধ হবে’ - সংগৃহীত

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী বলেছেন, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। এর আগে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচনের আগে ও পরে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন করতে হবে। এসব দাবী এখন জাতীয় দাবীতে পরিণত হয়েছে।

এসব দাবী না মেনে সরকার তার মানসিকতার উপর অটল থাকলে দেশে গৃহযুদ্ধ বাঁধতে পারে। আর তখন দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অনিরাপদ হয়ে পড়বে। তাই টালবাহানা না করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গতকাল ২০ দলীয় জোটের শরীক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। আল্লামা কাসেমী আরো বলেন, প্রত্যেক ভোটার যেন নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচনি প্রচারণায় সব দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে। তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করেন এবং তাঁর পছন্দমত হাসপাতালে সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, সহকারী মহাসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ মাহমুদী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী নাসিরুদ্দীন খান, দফতর সম্পাদক মাওলানা আব্দুল গাফ্ফার ছয়ঘরি, মুফতী বশীরুল হাসান খাদিমানী ও মাওলানা ওমর আলী প্রমুখ।

আরো পড়ুন : অক্টোবরের মাঝামাঝি নির্বাচনকালীন সরকার : ওবায়দুল কাদের
নয়া দিগন্ত অনলাইন  ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:০২

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এবারও নির্বাচনকালীন সরকারের আকার গতবারের কাছাকাছি হবে। আর আগামী মাসের মাঝামাঝি এই সরকার গঠন হতে পারে।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকারে টেকনোক্র্যাট কেউ থাকবেন না। সরকারের আকারটা ছোট হবে।

ওবায়দুল কাদের জানান, জাতীয় পার্টি তাদের আরও দু-একজনকে এই সরকারে অন্তর্ভুক্ত করতে অনুরোধ জানিয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বিবেচনা করবেন।

জোটগতভাবে নির্বাচন করলে শরিকদের জন্য ৬৫ থেকে ৭০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

১০০ জনের তালিকা করা হয়েছে বলে যে কথা শোনা যাচ্ছে, সে প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, এমন কোনো তালিকা যদি হয়ও, তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউ জানেন না।

আরেক প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলে জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে নির্বাচন করবে বলে তারাই ঘোষণা দিয়েছে। মেরুকরণ যেভাবে হবে, জোটের সমীকরণ সেভাবেই হবে।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার দরকার উন্নতমানের চিকিৎসা। উন্নত চিকিৎসার জন্য যে হাসপাতালে চিকিৎসা সম্ভব, সেখানে যেত আপত্তি কোথায়? আসলে বিএনপি খালেদা জিয়ার চেয়ে তার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করছে। এটাকে ইস্যু বানিয়ে আন্দোলন করতে চাইছে।’

 

আরো পড়ুন: মিডিয়ার একটি অংশ সরকার উৎখাতের চেষ্টা চালাচ্ছে : কাদের

মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী), ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মিডিয়ার একটি অংশ সরকার উৎখাতের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের কাছে খবর আছে বিএনপি দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র করছে, তাদের দোসরদের নিয়ে তারা ছক তৈরি করছে নির্বাচন বানচাল করার জন্য। ১০ মিনিটের জন্য বিএনপি আন্দোলন করতে পারে নাই। আন্দোলনের নামে দলীয় অফিসে বসে প্রেস বিফ্রিং করে। পুলিশের কাছে মোবাইল করে খবর নেয় দলীয় অফিসে পুলিশ অভিযান চালাবে সে ভয়ে বিএনপি আতঙ্কিত।

উত্তরবঙ্গের ট্রেন যাত্রা শেষে সৈয়দপুরে বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জে আজ রোববার সকালে সাংবাদিকদের সাথে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন সিডিউল মোতাবেক অনুষ্ঠিত হবে। অক্টোবর মাসে পদ্মা সেতু চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে। রেল ও রোড সংযোগ করা হবে অক্টোবর মাসে। আমাদের প্রতিপক্ষ বিএনপি কিছু অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি করে।

তিনি আরো বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের গুজবে কান ভারী করে আন্দোলনে নামানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ যেমন সুশৃঙ্খল ভাবে সমাবেশ করে, বিএনপি’র যদি এরকম সমাবেশ হতো তাহলে বিশৃঙ্খলা হতো। নির্বাচন সামনে আমরা পার্টির মধ্যে কিছু কিছু এলাকায় অন্তঃকলহ রয়েছে। সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ট্রেনে যাত্রীদের দুর্ভোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের এই ট্রেনযাত্রাকে স্বাগত জানিয়েছে যাত্রীরা। তারা এটাকে দুর্ভোগ হিসেবে দেখেনি। রাত ১১টা পর্যন্ত রেল স্টেশনে হাজার হাজার মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে।

এসময় তার সাথে ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ চৌধুরী, নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র দেওয়ান আহমেদ কামাল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক, রেলওয়ে শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন বাদল, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম সরকার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সমাজকল্যাণ বিষয়ক নাফিউল করিম নাফা প্রমুখ।


আরো সংবাদ