১৯ এপ্রিল ২০১৯

ঢাকায় লেগুনা বন্ধ : কী বলছেন যাত্রীরা?

যানবাহন
অনেকেই বলছেন ‘লেগুনা বন্ধ করার আগে বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিৎ ছিল’ - ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার কয়েকটি প্রধান সড়কে হিউম্যান হলার বা লেগুনা চলাচল ছিল স্বাভাবিক চিত্র, কারণ বাসের বিকল্প হিসেবে অনেকে এই লেগুনায় চড়েন।

তবে কয়েকদিন ধরে ঢাকার প্রধান কয়েকটি রাস্তায় এই স্বাভাবিক চিত্র দেখা যাচ্ছে না। কারণ গত মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া এক সংবাদ সম্মেলনে জানান ‘রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে এখন থেকে লেগুনা চলবে না’।

প্রধান সড়ক বলতে ফার্মগেট থেকে মিরপুর ১০, ফার্মগেট থেকে মহাখালী, ফার্মগেট থেকে জিগাতলা, ফার্মগেট থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে নিউমার্কেট, ট্যানারি মোড় থেকে নিউমার্কেট, গাবতলী থেকে বাড্ডা ভায়া মহাখালী-গুলশান-উত্তরা মাস্কট প্লাজা ও দিয়াবাড়ি, গুলিস্তান থেকে মালিবাগ রেলগেট-সিপাহীবাগ-গোড়ান, ডিএসসিসি নগর ভবন থেকে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা অন্যতম।

ঢাকার রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরাতে মাসব্যাপী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রধান সড়কে লেগুনা চলাচল বন্ধের ঘোষণা আসে ডিএমপির পক্ষ থেকে।

তবে অনেক সাধারণ যাত্রী রাস্তায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে যেমন লেগুনার ওপর নির্ভরশীল, তেমনি এই যানটির রুট পারমিট, চালক ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও রয়েছে।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘অনুমোদিত রুট পারমিট নিয়েই লেগুনাগুলো চলছে। বন্ধ করার ঘোষণার ক্ষেত্রে সে বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।’

তবে ডিএমপি থেকে বলা হয়েছে যে, শহরের বাইরে বা উপকন্ঠে লেগুনা চলতে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
এদিকে প্রধান সড়তে লেগুনা চলাচল বন্ধ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। কারণ রাজধানী ঢাকার অনেক মানুষ যাতায়াত করেন এই লেগুনাতে করে। অনেকেরই মন্তব্য বাসের বিকল্প এই যানটি বন্ধ হওয়াতে সাধারণ মানুষ পড়েছেন বিপাকে।

এই বিষয় নিয়ে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় অনেকেই নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

যেমন সাঈদ হাসান নামে একজন লিখেছেন- ‘লেগুনার বিকল্প ব্যবস্থা না করে লেগুনা উঠিয়ে দেওয়া অন্যায়, এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় জনগণকে। নেতারা এসি গাড়িতে বসে তা বুঝে না। জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের থেকে আর কিইবা আশা করা যায়?’

এমডি খান নামের আরেক ব্যক্তি লিখেছেন- ‘সরকারের উচিত প্রাইভেট গাড়ির উপর নীতিমালা প্রয়োগ করা, কিন্তু তা না করে পাবলিক পরিবহনের উপর নীতিমালা প্রয়োগ করছে।

যে সাইজের প্রাইভেট গাড়িতে ১-৪ যাত্রী চলাচল করে, ঠিক সেই একই সাইজের লেগুনাতে ১৪-১৬ যাত্রী চলাচল করে। রাস্তায় যানজটের জন্য লেগুনা দায়ী না, দায়ী প্রাইভেট কার। তাই এমন নীতিমালা গ্রহণ করুন, যা সাধারণ মানুষের উপকার হয় এবং ঢাকা শহরের যানজট দূর হয়।’

‘যেখানে আগে খিলগাঁও থেকে গুলিস্তান যেতাম ১২ টাকা দিয়ে আর সেখান থেকে রিকশায় যেতে লাগে ৮০ টাকা তারপর আবার রিকশাদের তেল মারা লাগে।’

‘ডিএমপির আগে এসব রুটে বিকল্প যানবাহন দিয়ে লেগুনা বন্ধ করা উচিত ছিলো। লেগুনা দিয়ে অনেক চিপাচাপা গলিতে যাওয়া যেতো অনেক সহজে, আর এখন ওইসব জায়গা ৩ গুন ভাড়া বেশি দিয়ে যাওয়া লাগে’- লিখেছেন সোয়েব লস্কর।

তবে ভিন্নমত দিয়েছেন সায়িদ এ সায়িদ । তার মতে, ‘লেগুনার চালকের বয়স অনেক কম থাকে, এছাড়া তারা অদক্ষ। লেগুনায় উঠলে নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হয়। শহরে ব্যক্তিগত গাড়ি কমিয়ে সাধারণ পরিবহন বাড়িয়ে যানজট পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা দরকার।’

প্রিন্স রনি লিখেছেন- ‘লেগুনা বন্ধ করার আগে বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। এখন আমাদের অনেক দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।’

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ অটো-রিকশা অটোটেম্পু পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদেরকে পাওয়া যায়নি।

আরো পড়ুন :
ঢাকায় বাসযাত্রীদের উঠানামা করতে হবে ১২১ স্টপেজে : ডিএমপি কমিশনার
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
ঢাকায় যানবাহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে মোট ১২১টি বাস স্টপেজের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্টপেজ ছাড়া কোথাও বাস না থামানোর নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এছাড়া হেলমেট ছাড়া কোনো রাইডারকে পাম্প থেকে তেল না দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাজধানীতে প্রধান সড়কগুলোয় লেগুনা চলবে না বলেও জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব ঘোষণা দেন।

কমিশনার বলেন, আমরা বাস থামানোর জন্য ১২১টি স্থান নির্ধারণ করেছি। এগুলোতে বোর্ড লাগানো হচ্ছে। এসব স্থানের বাইরে কেউ বাস থামাতে পারবে না। পাশাপাশি বাস স্টপেজ ছাড়া কোথাও বাসের দরজা খুলবে না, বন্ধ থাকবে। যাত্রীরাও বাস স্টপেজ ছাড়া অন্য কোথাও নামতে পারবেন না।

ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, আমরা ইতোমধ্যে পেট্রোল পাম্প মালিকদের সাথে কথা বলেছি। তারা হেলমেট না থাকলে তেল না সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

কমিশনার বলেন, সড়কে যাত্রীরা যত্রযত্র দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে পারবেন না। তাদের শুধুমাত্র জেব্রা ক্রসিং কিংবা বাস স্টপেজে দাঁড়াতে হবে। এছাড়া প্রতিটি বাসের সামনে চালকের ছবি ও ফোন নম্বর থাকতে হবে। বাসচালক সিটবেল্ট বেঁধে গাড়ি চালাবেন। চুক্তিভিত্তিক নয়, বাসের ড্রাইভার হবে বেতনভুক্ত।

তিনি আরো বলেন, এ মাসেই জাহাঙ্গীরগেট থেকে জিরো পয়েন্ট রুটে অটো ট্রাফিকিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালের মাধ্যমে এ সড়কের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এটি আমরা মডেল প্রোজেক্ট হিসেবে নিয়েছি। পর্যাক্রমে অন্যান্য রুটেও এ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ অভিযান নিয়ে তিনি বলেন, যানবাহনে অবৈধভাবে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড লাগিয়ে আইন লঙ্ঘন করা যাবে না। অনুনোমোদিত কোনো ব্যক্তি ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ব্যবহার করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সাইডে চেকপোস্ট করে আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা শহর রিকশার রাজ্যে পরিণত হয়েছে। আমরা দেখেছি, বাইরের অনেক রিকশা ঢাকায় চলাচল করছে। এগুলো পেলে সঙ্গে সঙ্গে আটক করা হবে। ঢাকার মূল সড়কে কোনো লেগুনা চলাচলের কথা না। আমরা কোনোভাবেই ঢাকা মহানগরের মূল সড়ক দিয়ে লেগুনা চলাচল করতে দেব না।

ফুটপাথের অবৈধ দোকান বসানোর কারণে পথচারীদের বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এ বিষয়ে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, আপনার তথ্য সঠিক। দোকানের কারণে পথচারীরা ফুটপাথ দিয়ে হাঁটতে পারেন না। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে রাজউক এবং সিটি কর্পোরেশনকে বলা হয়েছে, তারা ব্যবস্থা নেবে।


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al