২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

হিজাব পরেই মিস ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতার ফাইনালে

হিজাব
হোদারসফিল্ডের বাসিন্দা ২০ বছর বয়সী সারা একজন আইনের ছাত্রী। - ছবি : ডেইলি মেইল

হিজাব পরেই মিস ইংল্যান্ড-২০১৮ প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেছেন মুসলিম নারী সারা ইফতেখার। এখন স্বপ্ন দেখছেন চূড়ান্ত বিজয়ের। অবশ্য এজন্য তাকে আরো ৪৯ জন প্রতিযোগীর সাথে লড়াইয়ে জিততে হবে।

আজ মঙ্গলবার নটিংহ্যামশায়ারের কেলহ্যাম হলে মিস ইংল্যান্ডের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

হোদারসফিল্ডের বাসিন্দা ২০ বছর বয়সী সারা একজন আইনের ছাত্রী। এই প্রতিযোগিতায় জয়ী হলে চীনে মিস ওয়ার্ল্ড ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।

নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সারা জানান, প্রতিযোগিতার ফাইনালের পৌঁছানো ‘কতটা দারুণ’ তা তিনি বোঝাতে পারবেন না।

নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি সেলফি দিয়ে সারা লিখেন, ‘ওয়াও!!! ২০১৮ সালের মিস ইংল্যান্ডের ফাইনালে পৌঁছানোর অনুভূতি বোঝাতে পারবো না। আলহামদুল্লিাহ।’

সারা বলেন, ‘এটা একটা অবিশ্বাস্য অনুভূতি এবং আমি কখনো ভুলবো না।’

সারা মাঝে মধ্যেই পাকিস্তানি ফ্যাশনের পোশাক পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ছবি আপলোড করে থাকেন। এ অ্যাকাউন্টে তার বহু ফলোআর রয়েছে।

হুদারসফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সারা ১৬ বছর বয়সে নিজের ব্যবসা চালু করেন। সারা তার জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার যে অর্থ পেয়েছেন তা দিয়ে একটি দাতব্য সংস্থা খুলেছেন। ‘সারা গোফান্ডমি’ দাতব্য সংস্থাটি দক্ষিণ আমেরিকা, শ্রীলঙ্কা, রাশিয়া, ভিয়েতনামের বাস্তুচ্যুত শিশু এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করে থাকে।

গোফান্ডমি পেজে সারা লিখেন, ‘আমি মিস ২০১৮ প্রতিযোগিতায় যে সৌন্দর্য প্রদর্শনের জন্য অংশ নিয়েছি, তার আসলে কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। প্রত্যেকেই তার নিজের উপায়ে, নির্বিশেষে ওজন, বর্ণ, রং বা আকৃতিতে সুন্দর।

সূত্র: ডেইলি মেইল

আরো পড়ুন :
হিজাব পরেই রেফারিং করব
ক্রীড়া প্রতিবেদক, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
গতকাল থেকে বাফুফে ভবনে শুরু হওয়া নতুন রেফারিং কোর্সে অংশ নেয়া একজন মৌসুমী আক্তার এপি। কাস থ্রি রেফারিদের এই কোর্স করতে এসেছে ৯০ জন। এর মধ্যে ৬ মহিলার একজন এই এপি। ২৫ বছর বয়সী এই মহিলা অন্যদের তুলনায় ব্যতিক্রম। কারণ তিনি কোর্স করছেন হিজাব পরে।

ঢাকার সি জি এস স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে কর্মরত এপি জানান, আমি কোর্সে পাশ করলে হিজাব পরেই রেফারিং করব। আমি একজন মুসলমান। হিজাব আমাদের মুসলিম কালচারের অংশ। এখন বহু মুসলিম মেয়ে হিজাব পরে খেলছেন।

এপি সাবেক ফুটবলার। বাফুফের প্রথম মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছিলেন নওগাঁর হয়ে। এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে হ্যান্ডবল ও অ্যাথলেটিকসে প্রতিনিধিত্ব ছিল।

ফুটবল রেফারিংয়ে আসা প্রসঙ্গে তার জবাব, বাংলাদেশে মহিলা রেফরির সংখ্যা খুব কম। এ ক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা আছে। আশা করি পারব।

কোর্স পরিচালনা করতে আসা সাবেক রেফারি মুন্নাফ সরকার তার জর্ডান সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, সেখানে দেখেছি হিজাব পরে মহিলাদের রেফারিং করতে।

হিজাব পরা ফৌজদারি অপরাধ যেসব দেশে
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ২৪ জুলাই ২০১৮
পৃথিবীর অনেক দেশেই হিজাব পরা ফৌজদারি অপরাধ। নেদারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, স্পেন, ফ্রান্স, চাদ ও ক্যামেরুনে হিজাব পরায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

নেদারল্যান্ডে মুখ ঢেকে রাখা তথা নিকাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এটিকে একটি ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আইন অনুযায়ী, যে কেউ বোরকা পরবে- যেটি তার পুরো মুখ এবং শরীর ঢেকে রাখে বা নিকাব যেটি জনসমাগম স্থানে শুধু মুখ ঢেকে রাখে সে ব্যক্তিকে ৪৫০ ইউরো বা ৪৭২ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হবে।

সুইজারল্যান্ডে ১ জুলাই ২০১৬ স্কার্ফ-বোরকা-নেকাব পরিধানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আইন অনুযায়ী টিচিনো নামক ইটালিয়ান ভাষাভাষীর একটি স্থান যেটি দক্ষিণ সুইজল্যান্ডে অবস্থিত সেখানকার মুসলিম মহিলারা ৯,২০০ ইউরো জরিমানার সম্মুখীন হয়েছিলেন। অধিকাংশ সুইস নাগরিক সমগ্র দেশে জনসমাগম স্থানে মুখ ঢেকে রাখে এমন পর্দার উপর নিষেধাজ্ঞা চায়।

২০১১ সালে বেলজিয়াম মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ আইন অনুযায়ী যে কেউ পর্দা বা এমন পোশাক যা জনসমাগম স্থানে মানুষের মুখ ঢেকে রাখে বা মুখ চিনতে কষ্ট হয় এমন পোশাক পরিধান করে সে ব্যক্তি ৭ দিনের কারাবাস অথবা ১,৩৭৮ ইউরো জরিমানার সম্মুখীন হবেন।

উত্তর-পূর্ব স্পেনের কাতালোনিয়া নামক স্থানের কিছু অংশে মুখ ঢেকে রাখে এমন পর্দার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০১৩ সালে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট এ আইন উঠিয়ে দেয় এবং মতামত প্রদান করেন যে, ‘এটি ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সীমিত করবে’। তবে কিছু কিছু অঞ্চলে এখনো নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

ফ্রান্স ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে মুখ ঢেকে রাখে এমন পর্দার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এটা হয়েছিল ২০১১ সালে। এ আইন অনুসারে কোনো মহিলা যদি এ আইন ভঙ্গ করে তবে তাকে ১৫০ ইউরো জরিমানা করা হবে এবং যদি কেউ কোনো মহিলাকে তার মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করে তবে তাকে ৩০,০০০ ইউরো জরিমানা করা হবে।

২০১৫ সালের জুন মাসে সেখানে পর পর দুইবার আত্মঘাতী বোমা হামলার দুদিন পরেই মুখ ঢেকে রাখে এমন পর্দা নিষিদ্ধ করে চাদ। উক্ত হামলার পরেই, দেশটির প্রধানমন্ত্রী কালজেউব ফাহিমি ডেউবেট বোরকা পুড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। বোরকা পরার দন্ড হিসেবে গ্রেফতার অথবা কারাবাসের আইন করা হয়।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ক্যামেরুনও মুখ ঢেকে রাখে এমন পর্দা পরিধান নিষিদ্ধ করেছে।


আরো সংবাদ