১৭ নভেম্বর ২০১৮

প্রস্তুত হাট, আসছে কোরবানির পশু

গোপীবাগ হাটে ট্রাক থেকে গরু নামাচ্ছেন দুই শ্রমিক - ছবি : নয়া দিগন্ত

প্রস্তুত হাট, আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। আগামী ২২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর কোনবানির পশুর হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে ইতোমধ্যেই। বিক্রেতারা আশা করছেন বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার তারা ভালো ব্যবসায় করতে পারবেন। আর ক্রেতাদের আশা নিজ নিজ বাজেটের মধ্যে নির্ঝঞ্ঝাটে কোরবানির পশু কিনে ফিরবেন বাসায়।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানী গোপীবাগ কোরবানির পশুর হাটে দিয়ে দেখায় একের পর এক ট্রাকে বোঝাই করে আসছে কোরবাণির পশু। হাটের মূল প্রস্তুতির কাজ শেষ হয়েছে। শেষ মুহূর্তের ছোট খাট কিছু কাজ চলছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে চলছে মাইকিং।

সবগুলো প্রবেশদ্বারে নির্মাণ করা হয়েছে বাহারি তোরণ। তোরণের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে পুলিশ বক্স। রয়েছে হাট কর্তৃপক্ষের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল। পাইকার ও ক্রেতাদের জন্য নামাজের স্থান, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

হাটের তোরণ

 

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পশুগুলো ট্রাক থেকে নামিয়ে শ্রমিকরা নিয়ে যাচ্ছেন হাটের নির্দিষ্ট স্থানে। গোপীবাগ হাটের প্রায় অর্ধেক জায়গা পূর্ণ হয়ে গেছে, শনিবারের মধ্যে পুরোপুরি ভরে যাবে হাট- এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিক্রেতারাও আশা করছেন, শুক্র-শনিবারের মধ্যেই ক্রেতাদের আগমন পুরো মাত্রায় শুরু হবে। সেই সাথে শুরু হবে বেচাকেনা। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে ৫০টি গুরু নিয়ে গোপীবাগ হাটে এসেছেন মাহবুবুর রহমান। আশা করছেন ভালো দামে সবগুলো গুরু বিক্রি করে ফিরতে পারবেন। এই বেপারি বলেন, এবারের হাটের পরিবেশ বেশ ভালো, তাই ভালো বেচাকেনার আশায় আছি। আশা করছি গত বারের তুলনায় ভালো হবে।

আলমডাঙ্গা থেকে আসা মাহবুবুর রহমান তার এই গরুটির দাম হেঁকেছেন সাড়ে ছয় লাখ টাকা

 

ক্রেতারাও আসতে শুরু করেছেন হাটে, তবে সংখ্যায় কম। অল্প কিছু বেচাকেনা হলেও মূল কেনাকাটা শুরু হতে আরো দুএকদিন লাগবে বলে আশা করছেন বেপারিরা। এদিন হাটে যাদের ক্রেতা হিসেবে দেখা গেছে, তাদের অনেকেই এসেছেন মূলত হাটের অবস্থা যাচাই করতে। দাম, পশুর সরবরাহ দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন পশু কেনার।

বাসাবো এলাকা থেকে গোপীবাগ কোরবাণির পশুর হাটে এসেছে আমিনুল ইসলাম ও আবদুল মজিদ। তারা বলেন, ‘দেখতে এলাম হাটের কী অবস্থা। পছন্দ মতো পেলে কিনতেও পারি, না হলে আরো দু-একদিন পরে কিনবো। প্রয়োজনে আরো দু’একটি হাটে ঘুরে দেখবো।’

হাটে পাশে চলছে পশুর খাবারের বেচাকেনাও

 

আমিনুল ইসলাম ও আবদুল মজিদের সাথে যখন কথা হচ্ছিল তখনই দেখা গেল একটি বড় খাসি নিয়ে হাট থেকে বের হয়ে আসছেন দুই ক্রেতা। দাম জানতে চাইলে বললেন ১৭ হাজার। ক্রেতারা জানালেন, ‘আজ কেনার জন্য কোন তাড়াহুড়ো ছিলো না। পছন্দ হলো, দামেও মিললো তাই কিনে ফেললাম।’

১৭ হাজার টাকায় খাসি কিনে বাড়ি ফিরছেন দুই ক্রেতা

 

 

আরো পড়ুন : আমেরিকা থেকে আনা বাহাদুর বিক্রি হল ২৮ লাখ টাকায়
ট্রাক নয়, ট্রলার নয় সুদুর আমেরিকার টেক্সাস থেকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে করে আনা হয়েছে বিশাল আকৃতির গরু। যার ওজন প্রায় এক হাজার ৫৫২ কেজি। ১১ ফুট লম্বা ও ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘বাহাদুর’। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাদিক এগ্রো লিমিটেড এর কর্ণধার মোঃ ইমরান হোসেন এবছর কোরবানীর বাজার মাতাতে আমেরিকার টেক্সাস থেকে নিয়ে আসেন ব্রাংগাস প্রজাতির বাহাদুরকে। তবে হাটে নেয়ার আগেই বিক্রি হয়ে যায় বাহাদুর। শিল্পপতি শাকের আহমেদ ২৮ লাখ টাকায় কিনে নেন বাহাদুরকে।

বুধবার মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ ভাঙ্গা মসজিদের কাছে সাদিক এগ্রোতে গিয়ে দেখা যায় বাহাদুরের জন্য আলাদা করে ঘর তৈরী করা হয়েছে। যার চারপাশে শা শা করে ঘুরছে একাধিক সিলিং ও ষ্ট্যান্ড ফ্যান। পরিস্কার মেঝেতে দাঁড়িয়ে তার পছন্দের খাবার খাচ্ছে।


সাদিক এগ্রোর মালিক ইমরান হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, বাহাদুরের প্রতিদিনের তালিকায় থাকে প্রায় ৫৫ কেজি খাবার। যার মধ্যে থাকে ২০ কেজি কাচা ঘাস। এছাড়া কাচা ছোলা, মুসুর-খেসাড়ির ডাল, চাউল ও গম খেয়ে থাকে বাহাদুর। ফলের মধ্যে আপেল তার প্রিয় খাবার। তবে আপেলের সাথে প্রতিদিন তাকে গাজর ও মিষ্টি কুমড়া খাওয়ানো হয়। এছাড়া বিভিন্ন দানাদার জাতীয় খাবার তো রয়েছেই। তিনি আরো বলেন, আমেরিকার টেক্সাস এর একটি খামার থেকে প্রায় একমাস আগে ক্রয় করেন বাহাদুরকে। এরপর কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে করে ঢাকায় আনায় হয় তাকে। বিমানে ওঠানোর জন্য ৩০০ ডলার খরচ করে একটি বিশেষ আকৃতির খাঁচা তৈরী করা হয় বাহাদুরের জন্য। যাতে করে বিমানের মধ্যে সে কোন ধরনের অসুবিধবার সৃষ্টি করতে না পারে।


ইমরান বলেন, বাহাদুরকে আমেরিকা থেকে আনতে বিমান ভাড়া ও অনুসঙ্গিক খরচ পড়েছে প্রায় ১১ লাখ টাকা। এ বছর কোরবানীর বাজারে তিনি বাহাদুরের দাম হাকিয়ে ছিলেন ৪০ লাখ টাকা। শেষ পর্যন্ত শিল্পপতি শাকের আহমেদ ২৮ লাখ টাকায় কিনে নেন গরুটি। এর আগে গত বছর কোরবানীর আগে ইমরান হোসেন আমেরিকা থেকে সুলতান নামে আরো একটি গুরু এনেছিলেন। তবে সুলতান বাহাদুরের চাইতে ছোট ছিলো।


আরো সংবাদ