১৫ নভেম্বর ২০১৮

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ট্রাম্প

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ট্রাম্প - সংগৃহীত

ধীরে ধীরে পাকিস্তানের সাথে সবরকমের সহযোগিতার রাস্তা বন্ধ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাড়তি খরচ হচ্ছে, এই যুক্তি দেখিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে শিক্ষাগত প্রশিক্ষণ ও সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন।

বিষয়টি নিয়ে ইসলামাবাদ বা ওয়াশিংটনের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পিছনের কারণটি ভালই বোঝা যাচ্ছে বলে দাবি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞমহলের। চীন ও রাশিয়ার সাথে পাকিস্তানের সখ্যতাকে যে ভালো চোখে দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র, এই সিদ্ধান্ত তারই ফলাফল বলে মনে করছে তারা।

সন্ত্রাস দমনের বদলে আর্থিক নিরাপত্তা দানের শর্তে পাকিস্তানকে ১.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিত যুক্তরাষ্ট্র। যা গত মাসেই বন্ধ করেছেন প্রেসিডেট ট্রাম্প। এবার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষিত করার কাজও বন্ধ করলেন তিনি।

ইন্টারন্যাশনাল মিলিটারি এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং প্রোগ্রাম খাতে, পাকিস্তানের জন্য গত পনেরো বছরে যুক্তরাষ্ট্র খরচ করেছে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর পুরোটাই নষ্ট হয়েছে বলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মার্কিন সেনাবোহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তার মতে, এই আর্থিক সাহায্যের বিনিময়ে জঙ্গি দমনে ভূমিকা নেওয়ার কথা ছিল ইসলামাবাদের। কিন্তু এই কাজে  সম্পূর্ণ ব্যর্থ সেই দেশ। সন্ত্রাস বিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ তো দূরে থাক, নিজেদের দেশকে সন্ত্রাসীদের জন্য স্বর্গরাজ্য বানিয়ে ফেলেছে পাকিস্তান। 

তবে কেবল এই একটা কারণেই এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প? এই যুক্তি মানতে নারাজ আন্তর্জাতিক মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে কাজ করছে চীন ও রাশিয়ার সাথে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সখ্যতা।

একদিকে বেইজিং-এর সঙ্গে যৌথ ভাবে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর তৈরি করছে ইসলামাবাদ ও বেইজিং। তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বন্ধুত্বের সম্পর্ক।

অন্যদিকে, তাঁদের কায়দায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য রাওয়ালপিণ্ডির সঙ্গে চুক্তি সাক্ষর করেছে মস্কো। রুশ সেনাবাহিনীর মিলিটারি ট্রেনিং স্কুলেই হবে সেই প্রশিক্ষণ। এতে হতবাক হয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। বিষয়টি যে ভারতের পক্ষে সুখকর নয়।

 

রাশিয়া-পাকিস্তান সামরিক চুক্তিতে চাপে ভারত

১১ আগস্ট ২০১৮

রাশিয়ার সাথে পাকিস্তানের সামরিক চুক্তির বিষয়ে আলোচনা এগোচ্ছে।  দুদিন আগেই রাশিয়ার উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল আলেক্সান্ডার ভি ফোমিন ঘুরে গিয়েছেন পাকিস্তানে। পাকিস্তানের তরফ থেকে এই বার্তা দেওয়ার পর চাপে রয়েছে ভারত। রাশিয়ার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ থাকছে বলেও উল্লেখ করছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তান পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ ফয়জল জানান, পাকিস্তানের সাথে রাশিয়ার সামরিক সম্পর্ক অগ্রগতির পথে। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার সাথে আমাদের সামরিক সম্পর্কে ক্রমশ তরান্বিত হচ্ছে। নিয়মিত কথাবার্তাও হচ্ছে দু দেশের। সম্প্রতি, পাকিস্তানে এসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল বাজওয়ার সাথেও দেখাও করেছেন রাশিয়ার মন্ত্রী।

২০১৬ ও ১৭-তে একসঙ্গে সামরিক মহড়া চালিয়েছিল রাশিয়া ও পাকিস্তান। ১৬-তে পাকিস্তানে হয়েছিল এক্সারসাইজ DRUZBA আর পরের বছরেই রাশিয়ার মাটিতে হয় ও একই মহড়া। এর আগে ২০১৪ ও ১৫-তে দুই দেশ অংশ নেয় এক বিশেষ নৌ মহড়ায়, যার নাম ছিল Arabian Monsoon.

এখানেই শেষ নয়। গত মঙ্গলবার পাকিস্তান ও রাশিয়ার মধ্যে এক বিশেষ চুক্তিও হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়ার মিলিটারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলিতে গিয়ে ট্রেনিং নিতে পারবে পাকিস্তানের সেনা সদস্যরা।

অন্যদিকে, ভারতকে অবাক করে কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানকে সুখোই বিমান রপ্তানি করার ভাবনাচিন্তার কথা জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর সাথে ভারত যৌথ উদ্যোগে ফিফথ জেনারেশন এয়ারক্রাফট তৈরি করতে চায়নি বলেই নাকি ক্ষুব্ধ রাশিয়া। এমনটাই অনুমান করছেন কূটনীতিবিদরা।

রাশিয়ার এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি, ভারতের বিষয়ে বেশি উৎসাহী হতে নিষেধ করছে রাশিয়ান থিংক ট্যাংক। যদিও আজও ভারত অস্ত্রভাণ্ডারের বেশির ভাগ জিনিসই রাশিয়া থেকে কিনে থাকে।

রাশিয়ার Center for Analysis of Strategies and Technologies-এর কর্ণধার বলেছেন, ‘ভারতকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে না, তবে এই মুহূর্তে পাকিস্তানকে সুখোই বিমান না দেওয়া হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাজার ধরে ফেলবে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, এমনকি তুরস্কের মত দেশ।’

২০০৭-এ ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে যৌথভাবে এয়ারক্রাফট তৈরি করার চুক্তি হয়। কিন্তু এবছর জুলাইতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, রাশিয়া একাই ওই প্রজেক্ট চালাক। প্রয়োজনে শেষের দিকে ভারত যোগ দেবে। ভারত এইভাবে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ায় অসন্তুষ্ট রাশিয়া।

ওই বিশেষজ্ঞ আরো জানান, ‘এর আগে ভারতের স্বার্থে পাকিস্তানের সাথে অনেক লোভনীয় চুক্তি বাতিল করেছে রাশিয়া। কিন্তু এবার নিজেদের আর্থিক উন্নতির দিকে নজর দেওয়া উচিৎ। রাশিয়ার এক অন্যতম তুখোড় যুদ্ধবিমান এই Su-35.

পাকিস্তানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানকে রাশিয়ার কাছাকাছি আসতে দেখা গিয়েছে। কারণ ৯/১১-র পর থেকে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কে কিছুটা ছেদ পড়ে আমেরিকার।

পাকিস্তান-তুরস্ক সামরিক সম্পর্ক জোরদার
আনাদুলো এজেন্সি, ১৭ জুলাই ২০১৮

পাকিস্তানের কাছে ৩০টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিক্রি করার চুক্তি চূড়ান্ত করেছে তুরস্ক। টি-১২৯ মডেলের মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার সব ধরনের আবহাওয়ায় তৎপরতা চালাতে পারে।

তুর্কি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পখাতে এটাই সবচেয়ে একক বড় রপ্তানি চুক্তি। চুক্তির কথা নিশ্চিত করেছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা বিষয়ক সচিবালয়।

আগামী পাঁচ বছর ধরে পাকিস্তানের কাছে ধাপে ধাপে এসব হেলিকপ্টার হস্তান্তর করা হবে। হেলিকপ্টার সংক্রান্ত সব রকমের প্রশিক্ষণ, এর যন্ত্রপাতি এবং প্রয়োজনীয় গোলাবারুদও সরবরাহ করবে তুরস্ক।

গত বছরের নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের সাবেক প্রতিরক্ষা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী রানা তানভির জানিয়েছিলেন, তার দেশ তুরস্ক থেকে ৩০টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা করছে।

 

সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে পাকিস্তান, চীন থেকে কিনছেই যুদ্ধজাহাজ
আনাদুলো এজেন্সি, ০২ জুন ২০১৮

পাকিস্তান চীন থেকে দুটি যুদ্ধ জাহাজ ক্রয় করতে যাচ্ছে। শুক্রবার পাকিস্তানের নৌবাহিনীর বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।বাহিনীটি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই যুদ্ধ জাহাজ ক্রয় করার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা বন্ধন জোড়ালো হবে।

চায়না শিপিং ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড এবং রাওয়ালপিন্ডির গ্যারিসন শহরের প্রতিরক্ষা প্রোডাকশন মন্ত্রণালয়ের মধ্যকার এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে এ চুক্তি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।     

সূত্রের বরাতে বলা হয়, এ যুদ্ধজাহাজ ক্রয় করার মাধ্যমে পাকিস্তানের নৌবাহিনী আরোও শক্তিশালী হবে এবং তাদের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি পাবে।    

পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতকে চাপে রাখতেই অত্যাধুনিক যুদ্ধ জাহাজ কিনছে পাকিস্তান। এর মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা ফের বৃদ্ধি পেতে পারে মন্তব্য করেছেন তারা। তবে এই যুদ্ধজাহাজ পাকিস্তান নৌবাহিনীর আলাদা শক্তি যোগান দেবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।   


আরো সংবাদ