২৩ এপ্রিল ২০১৯

১০ ফুট লম্বা গরুটি বিক্রি হয়েছে ২৮ লাখ টাকায়

১০ ফুট লম্বা গরুটি বিক্রি হয়েছে ২৮ লাখ টাকায় - সংগৃহীত

ঈদের প্রায় ১০ দিন বাকি থাকলেও পশুর হাটে নেওয়া হয় ‘বাহাদুর’কে। তার আগেই ২৮ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঝকঝকে তকতকে পুরো শরীর। বাদামি রঙের শরীরে আলো পড়লে জ্বলজ্বল করে। হাঁটাচলার সময় গম্ভীর ভাব নিয়ে পা ফেলে ধীরে ধীরে। বেশ রাগ নিয়ে তাকিয়ে থাকে। সঙ্গী থাকে তিন-চারজন। নাম তার ‘বাহাদুর’। এবারের কোরবানি ঈদে ওর কদর বেশ চলছে। যত্নআত্তির কমতি নেই।

তবে আপাতত ‘বাহাদুর’ নামের এই গরুটি খামারেই থাকবে। ঈদের আগের দিন পাঠানো হবে ক্রেতার কাছে। ‘বাহাদুরের’ দেখা পাওয়া গেল মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো ফার্মে। গত বছর এই খামার থেকেই বিক্রি হয়েছিল ‘সুলতান’। সুলতানের মতো বাহাদুর এসেছে সুদূর মার্কিন মুলুকের টেক্সাস থেকে। বাহাদুর অবশ্য সুলতানের চেয়ে উচ্চতায় কিছুটা খাটো। তবে দৈর্ঘ্যে কিছুটা বড়। সব মিলিয়ে বাহাদুর উচ্চতায় সাড়ে পাঁচ ফুট। আর মুখ থেকে লেজ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য সাড়ে ১০ ফুট। ওজন ১৫০০ কেজি। মাথায় শিং নেই বললেই চলে।

সাদিক অ্যাগ্রোর স্বত্বাধিকারী ইমরান হোসেনের দাবি, গরুটির মাংস হবে ১২০০ কেজি বা ৩০ মণ। রাজধানী ঢাকায় এবারের কোরবানির জন্য এটিই সবচেয়ে বড় আকারের গরু।

ইমরান হোসেনের কাছ থেকে জানা গেল ‘বাহাদুরের’ জীবনবৃত্তান্ত। তিনি বলেন, এটির বয়স এখন চার বছর। চলতি বছরের শুরুর দিকে গরুটিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আনা হয়। মাসখানেক ধরে এটি সাদিক অ্যাগ্রো ফার্মে রয়েছে।

বাহাদুরকে প্রতিদিন বেশ আদরযত্নের মধ্যে রাখতে হয় জানিয়ে ইমরান হোসেন বলেন, সুলতানের মতো এই গরুকে প্রতিদিন তিন বেলা গোসল করাতে হবে। প্রতিবারই গোসলের পর চলে বাহাদুরের গা মুছে দেওয়ার পর্ব। এ ছাড়া গরুটিকে প্রতিদিন গম-ভুসি মিলিয়ে ৩০ কেজি দানাদার খাবার দিতে হয়। এর সঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ কেজি সবুজ ঘাস খাওয়ানো হয়। খুব বেশি গরম আবার বাহাদুর সহ্য করতে পারে না। তাই যেখানে রাখা হয়েছে সেখানে ফ্যানের বাতাস দেওয়া হয়। তবে বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে ফেলেছে বাহাদুর। এই গরুটি ব্রাংগুস প্রজাতির।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহমা ও আংগুস প্রজাতির শংকরে ব্রাংগুস প্রজাতির গরুর প্রজনন করা হয়। মাংস উৎপাদনের জন্য মার্কিন ব্রাংগুস জাতের গরুর প্রজনন করানো হয়ে থাকে। এই জাতের গরু থেকে অন্যান্য জাতের গরুর চেয়ে তুলনামূলক বেশি মাংস পাওয়া যায়। এর স্বাদ অনেকটা দেশি জাতের গরুর মতোই। কারণ ব্রাহমা থেকে ব্রাংগুসের উদ্ভাবন। আর ব্রাহমা জাতের গরুর আদি নিবাস হচ্ছে ভারতীয় উপমহাদেশ। ১৮৬৫ সালে এর শুক্রাণু নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

আরো পড়ুন : কেরানীগঞ্জে যেভাবে কোরবানির পশু মোটা করা হচ্ছে
বাসস (১১ আগস্ট ২০১৮, ১৪:৫১)
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নের পাড়ায়-মহল্লায় চলছে কোরবানির পশু মোটা-তাজাকরণ প্রক্রিয়া। কেউবা শখের বসে । কেউবা আবার বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পুষছেন এসব পশু। কেউ পুষছেন নিজেরা কোরবানি দেয়ার জন্যও । এসব পশু পালকদের গোয়ালে দেশীয় গরুর পাশাপাশি রয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত-নেপাল ও ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের গরু। এসব পশু পালকদের মধ্যে পেশাদার গরু-ছাগল ব্যবসায়ীরা কোরবানির ৭-৮ মাস আগেই পছন্দের পশু ক্রয় করে যত্নের সাথে লালন পালন করে থাকেন। স্থানীয় এসব পশু পালকদের বেশির ভাগ কোরবানির পশুই নিজ নিজ গোয়াল থেকেই বিক্রি হয়। এছাড়া কেরানীগঞ্জের অভ্যন্তরীণ পশুর হাট এবং রাজধানীর নয়াবাজার, শ্যামপুর ও জুরাইনসহ বিভিন্ন হাটে বিক্রি হয়ে থাকে। তবে স্থানীয় অনেকেই আগেভাগে তাদের পছন্দসই গরু কেনার পর ওই গোয়ালেই রেখে দেয় কোরবাণীর আগ পর্যন্ত।

এজন্য তারা অবশ্য পশুর খাবার খরচ ও রাখালের জন্যও কিছু খরচ বহন করে থাকে । যারা সাধারণত বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পশু পালন করে তাদের প্রত্যেকেই ৪০ থেকে ৫০টি গরু পালন করে। এর বাইরেও তাদের অনেকেরই রয়েছে সারা বছরজুড়ে ডেইরি ফার্মের ব্যবসা। তাছাড়া কোরবানির পশু পালন একদিকে যেমন পরিশ্রমের কাজ অপরদিকে এ ব্যবসা অনেক ব্যয়বহুল বলেও জানান স্থানীয় পশুপালকরা। মোটামুটি একটু ভালো ও বড় সাইজের এক একটি ভারতীয়-বার্মা কিংবা নেপালি গরুর দাম এক থেকে দুই লাখ টাকায় কিনতেই হয়। তারপর এদের লালন পালন খরচ মিটিয়ে পরে ব্যবসা।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কেরাণীগঞ্জে ছোট-বড় মিলিয়ে ৫৩০জন পশুর খামারী রয়েছে। এসব খামারে ৩ হাজার ৪ শ' ৯৫টি ষাড়। ৭ শ' ৪৬টি বলদ। ৯ শ' ৬৫টি গাভী ও ১১০টি মহিষসহ মোট ৫ হাজার ৩ শ' ১৬টি গরু মহিষ রয়েছে। এছাড়া ৬ শ' ৫টি বিভিন্ন জাতের ছাগল ও ২ শ' উনাশিটি ভেড়া রয়েছে। এসকল খামারিদের পশুর স্বাস্থ্য তদারকির জন্য উপজেলা পশুসম্পদ অধিদপ্তর থেকে ৩জন ভেটারিনারি ফিল্ড অফিসার সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জহির উদ্দিন। তিনি আরো বলেন, এখানকার খামার মালিকরা সচেতন। তারা গরু মোটা-তাজাকরণের জন্য প্রাকৃতিক পদ্ধতি ছাড়া কোন ধরনের মেডিসিন ব্যবহার করেন না।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী এখানকার গরুখামারীদের মধ্যে রয়েছে আনোয়ার সিটি এগ্রোভেট, শরীফ এগ্রোভেট, আলম ডেইরী ফার্ম, সামায়রা এগ্রোভেট, শাহজালাল ডেইরি ফার্ম, আনোয়ার হোসেন, আলী আহম্মেদ ডেইরির নাম উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও উপজেলার জিনজিরা,শুভাঢ্যা, রাজেন্দ্রপুর, আব্দুল্লাহপুর, দড়িগাও, খোলামোড়া, নরুন্ডী, শাক্তা, আটি, কলাতিয়া, তারানগর ও হযরতপুর ইউনিয়নের অনেকেই কোরবানির পশু পালন করে নিজেরা কোরবানি দেয়ার পাশাপাশি ব্যবসার উদ্দেশ্যে বিক্রিকরে থাকেন। এ সকল ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা কৃত্রিম উপায়ে গরু-ছাগল মোটাতাজা না করে ভালো খাবার ও যত্নের সাথে লালন পালন করে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে তাদের পশুকে বেশি দামে বিক্রয়ের জন্য লোভনীয় করে তোলেন।

আনোয়ার সিটি এগ্রোভেটের মালিক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এবছর তার ফার্মে দেড় শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গরু ও মহিষ রয়েছে। তবে তা বিগত সব বছরের তুলনায় অনেক কম। গরু মোটা-তাজাকরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের পালিত পশুকে খৈল, ভূষি, কুড়া, কচুরিপানা ও প্রাকৃতিক ঘাস খাওয়াই। এর বাইরে কোনো রকম প্রযুক্তির আশ্রয় নেই না। আনোয়ার হোসেন আরো বলেন আমার উদ্দেশ্য কেবল ব্যবসায়িক নয়। কেরানীগঞ্জবাসী যাতে ভালো মানের পশু কোরবানির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত নির্ভেজাল কোরবানির গোশত খেতে পারে। তিনি বলেন, ইনজেকশন,ট্যাবলয়েট কিংবা বৈজ্ঞানিক আবিস্কৃত সব খাবারের মাধ্যমে পশু খুব তাড়াতাড়ি মোটা-তাজা হলেও এতে পশুর জীবনের জন্যও যেমন ঝুঁকি তেমনি এ সকল পশুর মাংস খাওয়া আমাদের জীবনের জন্যও ঝুঁকি। কোরবানির পশুর হাট থেকে এ ধরনের পশু কিনে অনেকেই প্রতারণার শিকার হয়ে থাকেন। অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষার পশুটি বাজার থেকে ৫/৭ দিন আগে কিনে আনার পর দেখা যায় তাকে আর বাঁচিয়ে রাখা যায় না। গত কয়েক বছরে জিনজিরা ও তার আশপাশের এলাকার অনেকেই এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

জিনজিরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ ওয়ারিশ উদ্দিন এবছর বিভিন্ন দেশের নানান প্রজাতির বেশ কয়েকটি গরু সঠিকভাবে লালন-পালনের মাধ্যমে সঠিক পরিচর্যায় কোরবানির উপযোগী করে তুলছেন। এর থেকে তিনি নিজে কোরবানি দেয়ার জন্য পছন্দসই দুটি গরু রেখে বাকিসব বিক্রির করবেন বলে জানান।

তিনি বলেন, আমরা কোন কৃতিমতার আশ্রয় না নিয়ে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে পশুকে মোটা তাজা করে তুলি। আমরা আমাদের পালিত পশুকে খৈল, ভূষি, কুড়া, কচুরিপানা ও প্রাকৃতিক ঘাস খাওয়াই। এর বাইরে কোনো রকম প্রযুক্তির আশ্রয় নেই না। কথাহয় রাজেন্দ্রপুর বাঘৈর আলিয়া পাড়া এলাকার পশু ব্যবসায়ী মোঃ শাহজানের ছেলে নুরুল ইসলামের সাথে। তাদের রয়েছে সারা বছরের ডেইরি ফার্মের ব্যবসা। পাশাপাশি তারা প্রতি বছরই কোরবানির জন্য পশু পালন করে থাকেন। এ বছরও তারা কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন প্রজাতির ৩৭টি গরু পালন করছেন। যার প্রতিটির ক্রয়কৃত দামই পড়েছে এক থেকে দুই লাখ টাকার মধ্যে। পরিচিতজনরাই বেশি কিনে থাকে বিধায় আমরা কোনো রকম ইনজেকশন কিংবা ট্যাবলয়েট বা এ ধরনের অন্য কোন অবৈধ খাবারের মাধ্যমে পশু মোটা-তাজা করণের আশ্রয় নেই না। তবে অনেকেই এ ধরনের পদ্ধতির মাধ্যমে কোরবানির পশু মোটা-তাজা করে থাকে বলে তিনি শুনেছেন বলে জানান। কোরবানির বাজারে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে আব্দুল্লাহ পুরের দড়িগাও এলাকার সাহেদ পুষছেন ৪০টি গরু।

একই এলাকার জামালসহ খোলামোড়া, শাক্তা, কলাতিয়া .তারানগর ও হযরতপুরের অনেকেই পালন করছেন কোরবানির পশু। যে পশু গুলো হযরতপুর, কলাতিয়া, খাড়াকান্দি, দড়িগাও,আটি ও জিনজিরা- আগানগর পশুর হাটে বিক্রয় করা হবে বলে জানিয়েছে পশু পালকরা ।


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat