২৪ জুলাই ২০১৯

ইসলামের শিক্ষা মানুষকে দেয় প্রশান্তি ও আত্ম-বিশ্বাস: নওমুসলিম জয়নাব

ইসলামের শিক্ষা মানুষকে দেয় প্রশান্তি ও আত্ম-বিশ্বাস: নওমুসলিম জয়নাব - সংগৃহীত

অস্ট্রিয়ার নও-মুসলিম 'জয়নাব ল্যান্টসেল'-এর মুসলমান হওয়ার কাহিনী খুবই চমকপ্রদ।  ইসলাম সম্পর্কে  তাঁর কিছু বক্তব্য ও চিন্তাধারা খুবই যুক্তিপূর্ণ।   ইসলাম হচ্ছে যুক্তি, বিবেক, মানবীয় সম্মান ও মানুষের প্রকৃত স্বাধীনতার ধর্ম।  এ ধর্ম মানুষকে দেয় ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্যের দিশা। মিসেস ক্লারা ল্যান্টসেল মুসলমান হওয়ার পর নিজের জন্য 'জয়নাব' নামটি বেছে নেন। ব্যাপক গবেষণার পর মুসলমান হন তিনি। ক্লারা ল্যান্টসেল জন্মসূত্রে ছিলেন খ্রিস্টান। কিন্তু এ ধর্ম তার প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি।

তিনি প্রচলিত খ্রিস্ট ধর্ম প্রসঙ্গে বলেছেন- ‘যেসব কারণে খ্রিস্ট ধর্ম যুব সমাজ ও জনসাধারণের কাছে আকর্ষণ হারাচ্ছে সেসবের মধ্যে সুদৃঢ় ভিত্তি না থাকা অন্যতম। কারণ, এ ধর্মের বিধি-বিধানগুলোর নির্দিষ্ট কোনো মানদণ্ড নেই। প্রত্যেকেই খ্রিস্ট ধর্মের বিধি-বিধানগুলোকে নিজের সুবিধামত ব্যাখ্যা করে।’

মিসেস ক্লারা ল্যান্টসেল আরো বলেছেন- ‘কেউ যদি উচ্চতর লক্ষ্যে উপনীত হতে চায় তাহলে তার উচিত বেশি বেশি প্রচেষ্টা চালানো এবং দিক-নির্দেশনা ও উপদেশের আলোকে বেশি বেশি পদক্ষেপ নেয়া, ঠিক যেভাবে একজন ক্রীড়াবিদ মেডেল অর্জনের জন্য ব্যাপক পরিশ্রম করেন ও নানা উপদেশ মেনে চলেন। তাই আধ্যাত্মিক লক্ষ্য অর্জনের জন্যও ন্যূনতম প্রচেষ্টাগুলো চালানো জরুরি। এই সর্বনিম্ন কর্তব্যগুলো হল ধর্মের মূল ভিত্তি–কেন্দ্রীক যার অভাবে ধর্ম ক্রমেই ধ্বসে পড়ে। খ্রিস্ট ধর্ম ঠিক এই দশারই শিকার হয়েছে। এ ধর্মে তথাকথিত যেসব বাইবেল ও পবিত্র বাণী দেখা যায় সেগুলোর বেশিরভাগই মতামত মাত্র এবং খ্রিস্ট ধর্মে মানুষের জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত ও যথাযথ বিধান নেই। কিন্তু আমি সব সময়ই পূর্ণাঙ্গ জীবন-বিধানের সন্ধানে ছিলাম যাতে তা আমাকে সবচেয়ে ভালো পথে পরিচালিত করতে পারে।’

শৈশবে যুদ্ধাহত একদল ইরানির সাথে পরিচয়ের সূত্রে ইসলামের সৌন্দর্য দেখেছিলেন অস্ট্রিয়ার নও-মুসলিম জয়নাব ওরফে মিসেস ক্লারা ল্যান্টসেল যা ইসলামের দিকে তার আকৃষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন: 'ইসলামের রয়েছে আকর্ষণীয় বহু দিক। এইসব আকর্ষণের মধ্যে আমার কাছে যে দু'টি দিক সবচেয়ে মধুর ও সুন্দর মনে হয়েছে তার একটি হল, ইসলাম মানুষকে প্রফুল্ল থাকার ও সুন্দর আচার-আচরণের শিক্ষা দেয়। চিকিৎসার জন্য অস্ট্রিয়ায় আসা একদল যুদ্ধাহত ইরানির মধ্যে আমি আধ্যাত্মিক নানা আকর্ষণসহ এই দিকটি দেখতে পেয়েছি। তাদের অনেকেরই ছিল না হাত ও পা এবং রাসায়নিক হামলার কারণে অনেকের চেহারাও বিকৃত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা ছিলেন বেশ উৎফুল্ল ও প্রফুল্ল। তাদের এমন আনন্দিত ভাব আমাদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলত। এইসব আচরণ ছিল খুব দৃঢ় ও গভীর বিশ্বাসের সুফল। শৈশবের সেই অভিজ্ঞতার কারণেই আমি ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়েছিলাম। ধর্মের প্রভাবে মানুষের এতটা দৃঢ়-বিশ্বাস বা আত্মবিশ্বাস ও প্রশান্ত চিত্ত এক অবিশ্বাস্য বিস্ময়।'

অস্ট্রিয়ার নও-মুসলিম জয়নাব ওরফে মিসেস ক্লারা ল্যান্টসেলের মতে, দ্বিতীয় যে বড় দিক ইসলামের দিকে তার আকৃষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে তা হল ইসলামী বিধি-বিধানের সুদৃঢ় অস্তিত্ব। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন: 'ইসলামী শরিয়তে রয়েছে মানুষের জন্য জীবনের সব দিকের বিধান। এইসব বিধান নানা সমস্যার ক্ষেত্রে মানুষকে দেয় সর্বোত্তম সমাধান ও মানুষকে পরিচালিত করে পূর্ণতার দিকে।'

ইসলাম সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি পরিবার ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করার বিধান ও দিক-নির্দেশনা দিয়েছে। পরিবার সম্পর্কে অস্ট্রিয়ার নওমুসলিম জয়নাব ওরফে মিসেস ক্লারা ল্যান্টসেল বলেছেন-'ইসলাম ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনসহ জীবনের সব ক্ষেত্রের খুঁটি-নাটি দিক সম্পর্কেও বিস্তারিত এবং নিখুঁত দিক-নির্দেশনা দেয়। একমাত্র ইসলামেরই রয়েছে এই বিশেষ বৈশিষ্ট। ইসলাম মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তার জীবন্ত উপস্থিতি বজায় রাখতে সক্ষম। ইসলামের বিধি-বিধানগুলো মানুষের বিবেক ও যুক্তির সঙ্গেও মানানসই। ফলে এ মহান ধর্ম মানুষের অসহায় একাকীত্ব ও অর্থহীনতার ভাবকে এ পার্থিব জীবনেই দূর করতে সক্ষম।'

অস্ট্রিয়ার নওমুসলিম ল্যান্টসেল আরো বলেছেন- 'বাইবেলে দয়া প্রদর্শনের কথা যদি থেকেও থাকে তা বাস্তবায়নের পদ্ধতি বা রূপ সম্পর্কে তাতে কোনো দিক-নির্দেশনা পাবেন না। ফলে এ সংক্রান্ত উপদেশ পালনের ক্ষেত্রে বাস্তবতার ময়দানে মানুষ ভুল করতে পারে। অস্ট্রিয়ায় একজন নিষ্ঠাবান বা বিশ্বাসী ক্যাথলিক ও সাধারণ নাগরিকের মধ্যে পার্থক্য হল ওই ঈমানদার ক্যাথলিক প্রতি রোববারে এবং কয়েকটি বিশেষ দিনে গির্জায় হাজির হন। এ ছাড়া তাদের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু একজন মুসলমান যদি আন্তরিকভাবে ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে চলেন তাহলে তিনি সর্বোত্তম কল্যাণ লাভ করেন।' 

অস্ট্রিয়ার নও-মুসলিম নারী জয়নাব ওরফে ল্যান্টসেল ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় পরিবার ও সমাজের পক্ষ থেকে নানা বাধা-বিপত্তির শিকার হয়েছেন। কিন্তু ইসলাম তাকে দিয়েছে আত্মিক প্রশান্তি। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন- 'যে ধর্মের বিধান মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের পদে পদে উপস্থিত পাশ্চাত্যে সে ধর্মের বিধান মেনে চলা বেশ কঠিন। কিন্তু এই কষ্টের মধ্যেও আল্লাহর উপস্থিতিকে অনুভব করা যায়। খোদার সাথে সম্পর্ক ও নৈকট্য আর ভালোবাসা নানা কাজ বা আমলের মধ্যে প্রকাশিত হয়।  আসলে ইসলামের মহান শিক্ষাগুলো মানুষকে দেয় প্রশান্তি ও আত্ম-বিশ্বাস। অথচ এই প্রশান্তি আজ পাশ্চাত্যে পুরোপুরি অস্তিত্বহীন।'


আরো সংবাদ

গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায় : নারী সংহতি ডিএসসিসির মশার ওষুধে সমস্যা নেই : মেয়র সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে যাচ্ছে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশে সরকার আছে বলে মনে হয় না : দুদু গুজব ছড়িয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ছাড় নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাখাইনে জাতিসঙ্ঘের তৎপরতা অত্যন্ত সীমাবদ্ধ : ক্রিস্টিন বার্গনার সুপ্রিম কোর্ট প্রিমিয়ার লিগ উদ্বোধন করলেন প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশ-মাল্টা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন বাড্ডায় গণপিটুনিতে রেণু হত্যা : হৃদয় সন্দেহে তরুণ আটক শাসক নয়, সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ শিল্পমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর চোখে সফল অস্ত্রোপচার

সকল




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi