২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সৌদি আরব-মালয়েশিয়া সম্পর্কে অবনতি, সালমান সেন্টার বন্ধ ঘোষণা

সৌদি আরব-মালয়েশিয়া সম্পর্কে অবনতি, সালমান সেন্টার বন্ধ ঘোষণা - সংগৃহীত

সৌদি আরবের দ্য কিং সালমান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস (কেএসসিআইপি) বন্ধ করে দিলো মালয়েশিয়ার নতুন সরকার। যাত্রা শুরুর ১৩ মাস পার না হতেই কোনো কারণ ছাড়াই সন্ত্রাসবিরোধী এই কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া সৌদি অর্থায়নে চলা সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্র কেন বন্ধ করে দিলো তা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

কুয়ালালামপুরে অস্থায়ী অফিস থেকে এর কর্মকাণ্ড চলছিল। রাজধানী পুত্রজায়াতে এর স্থায়ী ভবনের যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ সাবু বলেন, দ্রুতই কেএসসিআইপি’র কুয়ালালামপুরের কার্যক্রম স্থগিত করা হবে এবং এটির কার্যক্রম মালয়েশিয়ান প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটের অধীনে পরিচালিত হবে। তবে তিনি কেন্দ্রটি বন্ধ করার কোনো কারণ জানাননি।

বন্ধের নির্দেশ পাওয়ার পর সেন্টারের কাজ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয়। ওই কেন্দ্রের ওপর নজরদারি করছে মালয়েশিয়ান ইনস্টিটিউট অব ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি। এর আগে ২০১৭ সালের মার্চে কেন্দ্রটি চালু করতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিশাম্মুদ্দিন হুসেইন। বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড লেভান্টসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংস চরমপন্থা রোধের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

কুয়ালালামপুরের একটি অস্থায়ী ভবনে কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। মালেয়শিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ার একটি স্থায়ী ভবনে কেন্দ্রটি স্থানান্তরিত হওয়ার অপেক্ষাই ছিল। কিন্তু দেশটির জাতীয় নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের পরাজয়ের পর ক্ষমতায় আসেন মাহাথির মুহাম্মদ। এরপর থেকেই ইয়েমেনে সৌদি জোটের আগ্রাসন নিয়ে সরব হন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাবু।

মালয়েশিয়ার সেনাদের তিনি সৌদি জোটে থাকার বিষয় নতুন করে ভাবা হবে বলে ঘোষণা দেন। এর আগে ২০১৫ সালে সৌদি আরবে সেনা পাঠান নাজিব রাজাক। শুধু সেন্টারই বন্ধ নয়, সৌদিতে থাকা মালয়েশিয়ার সেনাদের ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ সাবু। সাবু পার্লামেন্টকে বলেন, সৌদি আরব থেকে মালয়েশিয়ার বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। গত জুনে সৌদি আরবে থাকা মালয়েশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে এক পর্যালোচনায় সাবু বলেছিলেন, এর মাধ্যমে ‘পরোক্ষভাবে মালয়েশিয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ঢুকে যাচ্ছে’।

২০১৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক সৌদিতে থাকা মালয়েশিয়ান নাগরিকদের ইয়েমেনে যেতে সহায়তা করতে সেখানে বাহিনী পাঠিয়েছিল। মালয়েশিয়ার কত সেনা সৌদিতে আছে, তা নিশ্চিত নয়। সাবু বলেন, সৌদি ও আমিরাতের জোট যেখানে ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে, সেখানে মালয়েশিয়ার সেনারা কখনো ইয়েমেনের ওপর কোনো হামলায় অংশ নেয়নি।

নাজিব রাজাকের সময় মালয়েশিয়ার প্রতি সৌদি আরবের সৌহার্দ্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া বিষয়টিতে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে সৌদি আরব মালয়েশিয়ায় কয়েকটি স্কুল ও মসজিদ নির্মাণ করেছে। এমনকি সৌদি আরবে পড়তে আগ্রহী মালয়েশিয়ান শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ঘোষণা করেছে। গত মে মাসের জাতীয় নির্বাচনে নাজিবের দল ইউনাইটেড মালয়েস ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও) বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে ধরাশায়ী হয়। এরপর থেকে নতুন সরকারের দুর্নীতিবিরোধী তৎপরতা, বিশেষ করে ওয়ানএমডিবি দুর্নীতি নিয়ে জোরেশোরে তদন্ত শুরু হয়।

 


আরো সংবাদ