১৪ নভেম্বর ২০১৮

মার্কিন হুমকির কারণে কমছে না তেলের দাম, ক্ষুব্ধ শিল্পোন্নত দেশগুলো

মার্কিন হুমকির কারণে কমছে না তেলের দাম, ক্ষুব্ধ শিল্পোন্নত দেশগুলো - সংগৃহীত

রাশিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হুমকির কারণে জ্বালানি তেলের দাম আর কমছে না। তিনি শুক্রবার সাংবাদিকদের এ কথা বলেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৭৪ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। এই দাম আর কমছে না। 

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় শিল্পোন্নত দেশগুলো ক্ষুব্ধ হয়েছে এবং এসব দেশ তেলের উত্তোলন বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে। এ অবস্থায় তেলের দাম না কমার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন আলেকজান্ডার নোভাক।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮ মে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছেন। একইসাথে তিনি ইরানের তেল বিক্রি শূন্যের কোঠায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যেই ইরানের তেল বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, তারা তেল বিক্রি করতে না পারলে অন্যরাও পারবে না।

তেল রফতানি বন্ধ রাখবে সৌদি আরব

সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ বলেছেন, বাবুল মান্দেব প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের মতো নিরাপত্তা না ফিরে আসা পর্যন্ত ওই রুটে সৌদি আরব তেল রফতানি বন্ধ রাখবে।

খালিদ আল-ফালিহ জানিয়েছেন, হুথি হামলায় জাহাজ দুটির সামান্য ক্ষতি হয়েছে এবং সেগুলোকে কাছের কোনো সৌদি বন্দরে নেয়ার চেষ্টা চলছে। হুথি যোদ্ধারা সৌদি আরবের খুব বড় দুটি তেলবাহী জাহাজে (ভিএলসিসি) হামলা চালিয়েছে। লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ দুটি যাচ্ছিল এবং প্রতিটি জাহাজে ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করা হচ্ছিল।

এডেন উপসাগরের বাবুল মান্দেব প্রণালী দিয়ে অস্থায়ীভাবে তেল রপ্তানি বন্ধ করেছে সৌদি আরব। সৌদি আরবের একটি যুদ্ধাজাহাজে ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর রিয়াদ এই ব্যবস্থা নিল।

 ইয়েমেনের আল-মাসিরা টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছিল, আনসারুল্লাহ যোদ্ধারা সৌদি আরবের দাম্মাম যুদ্ধজাহাজের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আরেক খবরে ইয়েমেনের সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছিল, হুথি আনসারুল্লাহ যোদ্ধারা হুদায়দা বন্দরনগরীর দক্ষিণে সৌদি জোটের আরেকটি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেনি নৌবাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, সৌদি জোটের জাহাজে করে হুদায়দা বন্দরের দিকে অস্ত্র ও সেনা নেয়া হচ্ছিল। এছাড়া, ইয়েমেনি নৌবাহিনীর বরাত দিয়ে লেবাননের আল-মায়াদিন টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছে, অস্ত্রবাহী জাহাজে হামলার কারণে জাহাজটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং এর সব আরোহী নিহত হয়েছে।

 

হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল রফতানিতে ইরানের হাতে নিরাপত্তা 

ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান সমন্বয়কারী রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি বলেছেন, ইরান নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই কেবল হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল রফতানি অব্যাহত থাকবে। তবে ইরান শুধু নিজের জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিচ্ছে না। সব দেশের জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করা সব দেশের জাহাজের নিরাপত্তা ইরানের হাতে। ইরান তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই কেবল সেখান থেকে জাহাজ চলাচল করতে পারে।

হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি আরো বলেন, ইরানের নৌবাহিনী পারস্য উপসগার, হরমুজ প্রণালী, এর পূর্বাঞ্চল, ভারত মহাসাগরের উত্তর অংশ এবং ওমান সাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে চলেছে। ইরান বারবারই এ কথা ঘোষণা করেছে যে, পারস্য উপসাগরে বিদেশি সেনা উপস্থিতির প্রয়োজন নেই। আঞ্চলিক দেশগুলো সেখানকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম।

ইরান এর আগে হুমকি দিয়ে বলেছে, ইরানকে তেল বিক্রি করতে দেয়া না হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অন্যরাও তেল বিক্রি করতে পারবে না।


আরো সংবাদ