২০ নভেম্বর ২০১৮

তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা

তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা - সংগৃহীত

সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে তুরস্কে একজন মার্কিন ধর্মযাজককে আটকের ঘটনায় ওয়াশিংটন-আঙ্কারা সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দু’দেশের কর্মকর্তারা পরস্পরের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করছেন।

সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, তুরস্ক কারো কথায় চলে না। আমরা কখনো কারো হুমকি সহ্য করি না। আইনের শাসন সবার জন্য সমান। এখানে কোনো ব্যতিক্রম নেই।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগ্লু বলেছেন,  ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অন্যায্য। কাজেই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া নিষেধাজ্ঞা তুরস্ক মানবে না। তুরস্কের এ সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে। আমরা বলেছি তুরস্ক নিষেধাজ্ঞা মানবে না। আমরা উপযুক্ত শর্তে ইরানের কাছ থেকে তেল কিনে থাকি। এর বাইরে অন্য কী অপশন রয়েছে? আমরা বলেছি মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে আমরা ন্যায্য বলে মনে করি না।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় লিখেছিলেন, ধর্মযাজক অ্যান্ড্রিউ ব্রানসনকে দীর্ঘদিন ধরে আটক রাখার পরিণতিতে তুরস্কের ওপর কঠিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে আমেরিকা। তিনি তুরস্কে আটক মার্কিন খ্রিস্টান ধর্মযাজকের প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন।

তুর্কি সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষিত দু’টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করার দায়ে তুরস্কের আদালতে ৫০ বছর বয়সি মার্কিন যাজকের বিচার চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে ৩৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া হতে পারে।

ওই দুই কথিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর একটি হচ্ছে আমেরিকা প্রবাসী বিরোধী নেতা ফতেউল্লাহ গুলেনের রাজনৈতিক দল। ২০১৬ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে গুলেনের হাত ছিল বলে অভিযোগ করছে তুর্কি সরকার। গুলেন অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মার্কিন যাজকের বিরুদ্ধে অপর যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে সেটি হচ্ছে, কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী পিকেকে। গত কয়েক দশক ধরে কুর্দিদের জন্য আলাদা আবাসভূমির দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন করে যাচ্ছে এই গোষ্ঠী।

তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইজমির শহরে একটি প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জা পরিচালনা করতেন মার্কিন যাজক ব্রানসন। সম্প্রতি তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে গৃহবন্দি করার হলেও ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপকে যথেষ্ট মনে করছে না।

তুরস্ক নিয়ে ভয়ঙ্কর নীলনকশা যুক্তরাষ্ট্রের!

০৫ জুলাই ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক পারমাণবিক বোমা হচ্ছে বি-৬১ পারমাণবিক বোমার ১৩তম সংস্করণ। গত সপ্তাহে বি-২ যুদ্ধবিমানে করে এই বোমা নিক্ষেপের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র এ পরীক্ষা চালানোর পর এর নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞ ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এ ঘটনায় উদ্বেগও প্রকাশ করেছে রাশিয়া সরকার।

যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই সর্বাধুনিক পারমাণবিক বোমা তুরস্কে মোতায়েন করার চিন্তা করছে বলে রাশিয়ার গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাশিয়ান সেনাবাহিনীর সাবেক কর্নেল ও সামরিক বিশ্লেষক আলেকজান্ডার ঝিলিন দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আরআইএকে বলছেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এখনো আগ্রাসী মানসিকতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ মানসিকতা বর্বর।

রাশিয়ার গণমাধ্যম আরআইএ এ মন্তব্য করা হয়েছে, তুরস্কের ইনকিরলিক বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র তার নতুন এই বোমা ও বহকারী বিমান মোতায়েন করবে। এছাড়া এটি ইতালি, বেলজিয়াম, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডেও করা হতে পারে।

ইসরাইলের পরবর্তী টার্গেট তুরস্ক
বিবিসি, ইয়ানি শাফাক ও রয়টার্স, ২৬ জুলাই ২০১৮

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানকে লক্ষ্য করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। টুইটারে তিনি এরদোগানকে ‘সিরিয় এবং কুর্দিদের গণহত্যার’ জন্য দায়ী করেছেন।  এরদোগান ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কের বৈরিতা বহুদিনের হলেও সাম্প্রতিক বাদানুবাদ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ধারালো এবং স্পর্শকাতর। বিবাদের শুরু হয় যখন মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার ক্ষমতাসীন একে পাটির এক সভায় ইসরাইলকে ‘হিটলারের প্রেতাত্মার’ সাথে তুলনা করেন। 

নেতানিয়াহু লিখেছেন, ‘এরদোগানের অধীনে তুরস্ক একটি অন্ধকার একনায়কতান্ত্রিক দেশে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে নতুন আইনের পরও ইসরাইল তাদের সমস্ত নাগরিকের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত রেখেছে।’

সম্প্রতি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর ট্যাঙ্ক ও আর্টিলারি দিয়ে আক্রমণ করে ইসরাইল নিজেই নিজেকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছে। সন্ত্রাসী দেশটির এই পদক্ষেপ এই অঞ্চল ও বিশ্বকে রক্ত ও যন্ত্রণায় ডুবিয়ে দিয়েছে। ইসরাইলের জাতিরাষ্ট্র বিলের উদ্দেশ্য নিপীড়নকে বৈধতা দেয়া। এটি প্রমাণ করে যে ইসরাইল একটি ফ্যাসিবাদী ও বর্ণবাদী রাষ্ট্র যেখানে অ্যাডলফ হিটলারের আত্মা পুনর্জন্ম নিয়েছে। 

পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন একে পার্টির সদস্যদের উদ্দেশ্য দেয়া ভাষণে এরদোগান বলেন, ইহুদি জাতিরাষ্ট্র আইন পাসের মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হলো যে ইসরাইল বিশ্বের সবচেয়ে জায়নিস্ট, ফ্যাসিবাদী ও বর্ণবাদী একটি দেশ। ইসরাইলি সংসদ এই আইন পাস করে দেশটি তার প্রকৃত উদ্দেশ্য বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরাইলের বিরুদ্ধে একত্রিত হতে হবে। ইহুদি জাতিরাষ্ট্র আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে- তাদের সব বেআইনি কাজ এবং নিপীড়নকে বৈধতা দেয়া। হিটলারের চিন্তা-চেতনা এবং ইসরাইলের মানসিকতার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। হিটলারের আত্মা ইসরাইলের প্রশাসকদের মধ্যে পুনরায় আবির্ভূত হয়েছে।

সুযোগ পেলেই তারা একে অন্যকে অপমান করতে ছাড়েন না। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এই দুই নেতা পরস্পরকে চরম ভাষায় গালমন্দ করেছেন। এরদোগান নেতানিয়াহুকে ‘দখলদারি’, ‘সন্ত্রাসী’ এবং ইসরাইল রাষ্ট্রকে ‘শিশু হত্যাকারী’ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।  অন্যদিকে  নেতানিয়াহু তুরস্কের কুর্দি বিরোধী অভিযান প্রসঙ্গ তুলে একাধিকবার বলেছেন, ‘যে নেতা তাদের নিজের দেশের মানুষের ওপর নির্বিচারে বোমা ফেলতে পারেন, অন্য দেশের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অধিকার তার নেই।’

এদিকে  তুরস্কের সাবেক এ্যাডমিরাল সনার পোলাত মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম ইয়ানি শাফাককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তুরস্ক ইসরাইলের পরবর্তী টার্গেট হতে যাচ্ছে। সিরিয়ায় ইসরাইলের অগ্রগতি মানে তারা তুরস্কের কাছাকাছি চলে আসা।  সিরিয়ায় পিকেকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সিরিয়া ও তুরস্কের বিজয় ফিলিস্তিনি এবং জেরুসালেমকে অবশ্যই প্রভাবিত করছে। এজন্য তুরস্ক ইসরাইলের চূড়ান্ত টার্গেটে পরিণত হয়েছে। ইসরাইল যেভাবে তার সামরিক কৌশল ঠিক করছে, আঞ্চলিক স্থাপনাগুলো যেভাবে সাজাচ্ছে তাকে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে তারা তুরস্ককে টার্গেট করেছে। ইসরাইল, সৌদি আরব, আরব আমিরাত এবং মিসর যে জোট করেছে তা শুধু তাদের জনগণের জন্য হুমকি নয়, বরং মানবতার জন্য হুমকি।


আরো সংবাদ