২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এরদোগান-নেতানিয়াহু বাকযুদ্ধ, ইসরাইলের পরবর্তী টার্গেট তুরস্ক

এরদোগান-নেতানিয়াহু বাকযুদ্ধ, ইসরাইলের পরবর্তী টার্গেট তুরস্ক - সংগৃহীত

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানকে লক্ষ্য করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। টুইটারে তিনি এরদোগানকে ‘সিরিয় এবং কুর্দিদের গণহত্যার’ জন্য দায়ী করেছেন।  এরদোগান ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কের বৈরিতা বহুদিনের হলেও সাম্প্রতিক বাদানুবাদ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ধারালো এবং স্পর্শকাতর। বিবাদের শুরু হয় যখন মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার ক্ষমতাসীন একে পাটির এক সভায় ইসরাইলকে ‘হিটলারের প্রেতাত্মার’ সাথে তুলনা করেন। 

নেতানিয়াহু লিখেছেন, ‘এরদোগানের অধীনে তুরস্ক একটি অন্ধকার একনায়কতান্ত্রিক দেশে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে নতুন আইনের পরও ইসরাইল তাদের সমস্ত নাগরিকের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত রেখেছে।’

সম্প্রতি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর ট্যাঙ্ক ও আর্টিলারি দিয়ে আক্রমণ করে ইসরাইল নিজেই নিজেকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছে। সন্ত্রাসী দেশটির এই পদক্ষেপ এই অঞ্চল ও বিশ্বকে রক্ত ও যন্ত্রণায় ডুবিয়ে দিয়েছে। ইসরাইলের জাতিরাষ্ট্র বিলের উদ্দেশ্য নিপীড়নকে বৈধতা দেয়া। এটি প্রমাণ করে যে ইসরাইল একটি ফ্যাসিবাদী ও বর্ণবাদী রাষ্ট্র যেখানে অ্যাডলফ হিটলারের আত্মা পুনর্জন্ম নিয়েছে। 

পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন একে পার্টির সদস্যদের উদ্দেশ্য দেয়া ভাষণে এরদোগান বলেন, ইহুদি জাতিরাষ্ট্র আইন পাসের মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হলো যে ইসরাইল বিশ্বের সবচেয়ে জায়নিস্ট, ফ্যাসিবাদী ও বর্ণবাদী একটি দেশ। ইসরাইলি সংসদ এই আইন পাস করে দেশটি তার প্রকৃত উদ্দেশ্য বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরাইলের বিরুদ্ধে একত্রিত হতে হবে। ইহুদি জাতিরাষ্ট্র আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে- তাদের সব বেআইনি কাজ এবং নিপীড়নকে বৈধতা দেয়া। হিটলারের চিন্তা-চেতনা এবং ইসরাইলের মানসিকতার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। হিটলারের আত্মা ইসরাইলের প্রশাসকদের মধ্যে পুনরায় আবির্ভূত হয়েছে।

সুযোগ পেলেই তারা একে অন্যকে অপমান করতে ছাড়েন না। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এই দুই নেতা পরস্পরকে চরম ভাষায় গালমন্দ করেছেন। এরদোগান নেতানিয়াহুকে ‘দখলদারি’, ‘সন্ত্রাসী’ এবং ইসরাইল রাষ্ট্রকে ‘শিশু হত্যাকারী’ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।  অন্যদিকে  নেতানিয়াহু তুরস্কের কুর্দি বিরোধী অভিযান প্রসঙ্গ তুলে একাধিকবার বলেছেন, ‘যে নেতা তাদের নিজের দেশের মানুষের ওপর নির্বিচারে বোমা ফেলতে পারেন, অন্য দেশের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অধিকার তার নেই।’

এদিকে  তুরস্কের সাবেক এ্যাডমিরাল সনার পোলাত মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম ইয়ানি শাফাককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তুরস্ক ইসরাইলের পরবর্তী টার্গেট হতে যাচ্ছে। সিরিয়ায় ইসরাইলের অগ্রগতি মানে তারা তুরস্কের কাছাকাছি চলে আসা।  সিরিয়ায় পিকেকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সিরিয়া ও তুরস্কের বিজয় ফিলিস্তিনি এবং জেরুসালেমকে অবশ্যই প্রভাবিত করছে। এজন্য তুরস্ক ইসরাইলের চূড়ান্ত টার্গেটে পরিণত হয়েছে। ইসরাইল যেভাবে তার সামরিক কৌশল ঠিক করছে, আঞ্চলিক স্থাপনাগুলো যেভাবে সাজাচ্ছে তাকে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে তারা তুরস্ককে টার্গেট করেছে। ইসরাইল, সৌদি আরব, আরব আমিরাত এবং মিসর যে জোট করেছে তা শুধু তাদের জনগণের জন্য হুমকি নয়, বরং মানবতার জন্য হুমকি।


আরো সংবাদ