২২ জুলাই ২০১৮

ইরান থেকে তেল কিনবে চীন

ইরান থেকে তেল কিনবে চীন - সংগৃহীত

চীনের বেসরকারি তেল কোম্পানি ডংমিং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপের একজন নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা আমেরিকা থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং ইরান থেকে তেল কিনতে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ‘জাপান টুডে’ পত্রিকা এ খবর দিয়েছে। তিনি বলেছেন, চীন সরকার মার্কিন তেল আমদানির ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে এবং সে কারণে তারা আফ্রিকা ও ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে তেল কিনবেন।

চীনা তেল কোম্পানির এ শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, চীন ও আমেরিকার মধ্যকার বাণিজ্য লড়াইয়ের কারণে তারা এ চিন্তা করতে বাধ্য হয়েছেন। চীন সরকারও মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল কেনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারি পর্যায়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাপান টুডে।

জেটিডি এনার্জির কনসালট্যান্ট জন ড্রিসকলের বরাত দিয়ে জাপানি পত্রিকাটি আরো বলেছে, তেল সরবরাহের ইস্যুটি চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের তেলমন্ত্রী বিজান জাঙ্গানেহ বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও তার দেশের তেল উত্তোলন ও রফতানিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। মার্কিন হুমকি মোকাবেলার জন্য ইরান এরইমধ্যে একটি পরিকল্পনা নিয়েছে এবং সে পরিকল্পনা সফলতার সাথে কাজও করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইরান-বিরোধী নানা তৎপরতার কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।

তেল উত্তোলন বাড়াতে সৌদি আরবের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ইরানি মন্ত্রী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রচেষ্টার কারণে তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। এ ধরনের চাপ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের নীতিমালার বিরোধী। ইরান ও সৌদি আরব- দু দেশই এ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ওপেকের নীতি হচ্ছে রাজনৈতিক চাপের কারণে কখনো আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের গতি পরিবর্তন করা যাবে না।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে দেয়া হবে না এবং দেশটির তেলের উত্তোলন শূণ্যের কোঠায় আনা হবে। এর জবাবে ইরানি প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে কাউকে তেল বিক্রি করতে দেয়া হবে না।

আরাক ভারি পানির পরমাণু চুল্লি নিয়ে চুক্তি করবে ইরান-চীন

বেইজিং বলেছে, ইরানের আরাক ভারি পানির পরমাণু চুল্লির নতুন করে নকশা করার জন্য ইরান এবং চীনা কোম্পানি বাণিজ্যিক চুক্তি করবে। চলতি সপ্তাহে এ চুক্তি করা হবে।

চীনা পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র লু কাং বৃহস্পতিবার দৈনিক প্রেস ব্রিফিংয়ের সময়ে এ কথা বলেন। এ চুক্তি সংক্রান্ত প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে এবং রোববারে ভিয়েনায় চুক্তি সই হতে পারে বলে জানান তিনি।

জিসিপিওএ নামে ২০১৫ সালে সই করা পরিচিত চূড়ান্ত পরমাণু সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এ চুক্তি বলেও জানান তিনি। আরাক প্রকল্পের যৌথ প্রধান চীন এবং আমেরিকা এ কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, পরিকল্পনা ভালোভাবেই এগিয়ে চলেছে। চুক্তি সই করার পর আরাক পরমাণু চুল্লির নতুন করে নকশা প্রণয়নের উপযুক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে বলেও জানান তিনি।

ক্যান্সারসহ অন্যান্য চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত আইসোটোপ তৈরির জন্য আরাকের ৪০ মেগাওয়াট চুল্লির উদ্দেশ্য। প্লুটোনিয়াম উৎপাদন সংক্রান্ত বিষয়ের জন্য ইরান পরিকল্পিত এই গবেষণা  চুল্লির নকশা আবার প্রণয়ন করতে চাইছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবেলায় নৌশক্তি বাড়াচ্ছে চীন : হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নৌমহড়া

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সাম্প্রতিক উত্তেজনায় নিজ নিজ সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও প্রদর্শনে মনোযোগ দিয়েছে এশিয়ার দুই দেশ চীন ও ইরান। সমুদ্রসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্বে ভাগ বসানো ও বিশ্বব্যাপী নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে নৌশক্তি বৃদ্ধিতে মনোযোগী হয়েছে চীন। এ ছাড়া ট্রাম্পকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় উদ্বেগও বেইজিংকে এ পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুগে এ প্রথম হরমুজ প্রণালীতে বিশাল আকারের সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরান।

রয়টার্স জানিয়েছে, নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আসছে প্রতিরক্ষা বাজেটে বড় আকারের বরাদ্দ পাওয়া চেষ্টা করছে চীনা নৌবাহিনী। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের সাথে বেইজিংয়ের সম্পর্কের টানাপড়েন ও ট্রাম্পের মতিগতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় উদ্বেগ চীনকে এ বিষয়ে উদ্যোগী করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর হরমুজ প্রণালীতে বিশাল আকারের মহড়ার মাধ্যমে ইরান মূলত ওয়াশিংটনকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার জানান দিতে চাইছে।

বিগত কয়েক মাস ধরেই চীনা নৌবাহিনী তাদের প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। তাদের বিমানবাহী রণতরী তাইওয়ানের আশপাশে বেশ কয়েকবার টহল দিয়েছে। তাদের নতুন যুদ্ধজাহাজগুলো আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার বিশাল জায়গাজুড়ে টহল দিচ্ছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ বৃদ্ধি এবং তাইওয়ান, দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগর ইস্যুতে চীনকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করছেন। মূলত ট্রাম্পের এসব নীতিকে সামনে রেখেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নৌশক্তির পার্থক্য হ্রাসে উদ্যোগী হয়েছে বেইজিং। এ বিষয়ে বেইজিংভিত্তিক একজন এশিয়ান কূটনীতিক বলেন, চীন আশঙ্কা করছে আনপ্রেডিক্টেবল ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত তাদের ওপর চড়াও হবে এবং তারা সে জন্যই প্রস্তুত হচ্ছে।

আসছে দিনগুলোতে চীন নৌ-খাতে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করবে তার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি বেইজিং। তবে কূটনীতিকেরা মনে করছেন, প্রতিরক্ষা ব্যয়ের যে হিসাব দিচ্ছে প্রকৃত খরচ তার চেয়ে বেশি হতে পারে। প্রসঙ্গত ২০১৬ সালে চীনের প্রতিরক্ষা বাজেট ছিল ১৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

হরমুজ প্রণালীতে বার্ষিক মহড়া শুরু করেছে ইরান। দেশটির নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারিকে উদ্বৃত করে রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, প্রায় ২০ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই মহড়া চলছে। হরমুজ প্রণালী ছাড়িয়েও ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগরের পানিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এ মহড়া। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড অংশ নিচ্ছে না এতে।

কৌশলগত কারণে হরমুজ প্রণালী খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রসীমা। সমুদ্রপথে সম্পাদিত তেল বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশ পরিবাহিত হয় এ প্রাণালী দিয়ে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের বিরোধের সময়ও এটির গুরুত্ব দৃশ্যমান হয়েছে। বাহরাইনে মোতায়েনকৃত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর ইরানের এ মহড়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।


আরো সংবাদ