২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আনারসের অনেক গুণ

আনারস
আনারস - সংগৃহীত

আনারস বাংলাদেশের একটি পুষ্টিকর ফল। আকর্ষণীয় সুগন্ধ ও অম্লমধুর জন্য এ ফল অনেকের কাছেই সমাদৃত। সৌন্দর্যের জন্য অনেক কবি একে ‘স্বর্ণকুমারী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফল। এতে ভিটামিন এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। সারা পৃথিবীতে প্রায় ৮০-৯০ জাতের আনারস চাষ করা হয়। বাংলাদেশে হানিকুইন, জায়েন্ট কিউ (কালেঙ্গা) ও ঘোড়াশাল-এই তিন জাতের আনারস চাষ হয়ে থাকে। হানিকুইন জাতের আনারস সিলেট, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় জন্মে। এর পাকা ফলের খোসা সোনালি-হলুদ, স্বাদে বেশ মিষ্টি ও শাঁস কম আঁশযুক্ত। সিলেট, চট্টগ্রাম ও মধুপুরে জায়েন্ট কিউ জাতের আনারস চাষ হয়। এ জাতের আনারসের কাঁচা ফল গাঢ় কালচে-সবুজ, কিন্তু পাকা ফল কমলা হলুদ বর্ণ ধারণ করে। অম্লমধুর স্বাদ ও আঁশবিহীন কিন্তু গন্ধযুক্ত। ঘোড়াশাল জাতের আনারস ঢাকা জেলার ঘোড়াশালে জন্মে থাকে।

এ জাতের খোসা লালচে, চোখ বেশ চওড়া ও চ্যাপ্টা। স্বাদে টক ও আঁশময়। জাত, স্থান ও ঋতুভেদে আনারসের পুষ্টিমূল্যের তারতম্য হতে পারে। আনারসের ফলে ৮৬% পানি থাকে। আহার উপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম আনারসে রয়েছে প্রোটিন ০.৯ গ্রাম, শ্বেতসার ৬.২ গ্রাম, ০.১১ মি. গ্রাম ভিটামিন বি-১, ০.০৪ মি. গ্রাম ভিটামিন বি-২, ভিটামিন-সি ২১ মি. গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৮ মি. গ্রাম, লৌহ ১.২মি. গ্রাম ও ক্যারোটিন ১৮৩০ মাই. গ্রাম। এ ছাড়াও রয়েছে ৪২ কিলোক্যালোরি খাদ্যশক্তি। কাঁচা ফল স্বাদে অম্ল, আর পাকা ফল মধুরাম্ল। আমাদের দেশে সাধারণত পাকা ফল খাওয়া হয়। তবে কেউ কেউ কাঁচা আনারসের চাটনি রান্না করে খেয়ে থাকেন।

বিশ্বে উৎপাদিত আনারসের বেশির ভাগই প্রক্রিয়াজাত করা হয়। প্রধানত রস, সিরাপ, চিনির দ্রবণে টুকরা ও জ্যাম আকারে এটি প্রক্রিয়াজাত করা হয়। কোনো কোনো সময় ফল থেকে অ্যালকোহল, সাইট্রিক এসিড, ভিনেগার প্রভৃতি উৎপাদন করা হয়। এতে সর্বাধিক ১% সাইট্রিক এসিড থাকে। আনারসের পাতা থেকে আঁশও তৈরি করা যায়, যদিও এর গুণ তেমন ভালো নয়। আনারসের ফলের ছিবড়ে ভালো পশুখাদ্য। পাতার আঁশ থেকে ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জে পিনা নামক কাপড় তৈরি করা হয়।

ফল কফ, পিত্ত ও অরুচিনাশক। এর পাতার রস কৃশিনাশক। পাকা ফলের সদ্য রসে ব্রোমেলিন নামক একজাতীয় জারক রস থাকে বলে পরিপাক ক্রিয়ায় সহায়ক হয়। এর রস জন্ডিস রোগে উপকারী। এখন আনারসের ভরা মৌসুম। তাই দেহে পুষ্টিসাধন এবং দেহকে সুস্থ-সবল ও নিরোগ রাখার জন্য এ সময় ছোট-বড় সবারই আনারস খাওয়া প্রয়োজন।

দেখুন:

আরো সংবাদ