২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

জাতিসঙ্ঘের হতাশায় উচ্ছ্বসিত ইসরাইল

জাতিসঙ্ঘের হতাশায় উচ্ছ্বসিত ইসরাইল -

জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণাকে হতাশাজনক উল্লেখ করে সিন্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ।

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দেশটির প্রশংসা করেছে ইসরাইল।

মানবাধিকার পরিষদকে ভণ্ডামিপূর্ণ এবং পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দিয়ে সংগঠনটি থেকে নিজেদেরকে প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দেন জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি নিকি হ্যালি।

মেক্সিকো সীমান্তে অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অভিযান নিয়ে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদের তীব্র সমালোচনার মধ্যেই মঙ্গলবার সংগঠনটি থেকে নিজেদেরকে প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দেন জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি নিকি হ্যালি।

ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটিকে পক্ষপাতদুষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানবাধিকার পরিষদ অব্যাহতভাবে ইসরাইলবিরোধী বক্তব্য দিয়ে একে ভণ্ডামিপূর্ণ সংগঠনে পরিণত করেছে। সংগঠনটি নিজেদের আখের গোছানোয় ব্যস্ত বলেও মন্তব্য করেন নিকি হ্যালি।

তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার পরিষদের সংস্কারের কথা আমরা অনেকদিন ধরে বলে আসছি, কিন্তু তাতে ভ্রুক্ষেপই করা হয়নি। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনাকারী শাসকরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। মানবাধিকার ইস্যুতে আমাদের অবস্থানের সঙ্গে একমত, এমন অনেক রাষ্ট্র আছে যারা সংগঠনটির অব্যাহত ইসরাইলবিরোধী বক্তব্যে হতাশ। এ সংগঠন মানবাধিকার বিষয়টিকেই এক কৌতুকে পরিণত করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষায় যে দেশটি অব্যাহতভাবে রক্ত ও মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, তারা জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদের মতো একটি ভণ্ডামিপূর্ণ সংগঠনের লেকচার শুনতে বাধ্য নয়। মানবাধিকার পরিষদের বাইরে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে যাবে।

ঈদের দিনও মুসলমানের রক্ত ঝড়িয়েছে ইসরাইল

মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনও (শুক্রবার) গাজায় হামলা চালিয়ে ইসরাইলের সেনারা।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামাসের একটি পর্যবেক্ষণ পোস্টের ওপর ওই হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। সম্প্রতি গাজার ওপর ইসরাইল রাষ্ট্রটি আগ্রাসন জোরদার করেছে। 

ইসরাইলি সেনারা শুক্রবার বিকেলে রাফা শহরের পূর্বে অবস্থিত বুর্জ আল-আহমারের কাছে হামলা চালায়। এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায় নি।

এদিকে, পশ্চিম তীরের নাবি সালিহ এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে ফিলিস্তিনের দুই তরুণ আহত হয়েছে। তারা দুজনই স্থানীয় বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

ফিলিস্তিনের পক্ষে ১২০ দেশ, ক্ষোভে ফুঁসছে ইসরাইল

ফিলিস্তিনিদের ওপর হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটির পর ইসরাইলের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। বিপুল ভোটে একটি নিন্দা প্রস্তাব পাসের পর বিব্রতবোধ করছে ইসরাইল ও দেশটির মিত্ররা।

জাতিসঙ্ঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১২০টি দেশ। মাত্র ৮টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। আর ৪৫টি সদস্য রাষ্ট্র ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল।

ওই প্রস্তাবে ৬০ দিনের মধ্যে অধিকৃত ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায় খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের প্রতি এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানানো হয়েছে।

এই প্রস্তাবে গাজা উপত্যকার ভেতরে এবং বাইরে ফিলিস্তিনিদের অবাধে চলাচলের ওপর ইসরাইল যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা অবসানেরও আহবান জানানো হয়েছে।

গত ৩০ মার্চ থেকে ফিলিস্তিনিরা নিজেদের ভূমিতে ফিরে যেতে গাজা সীমান্তে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। এই বিক্ষোভে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত ১৩১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে আহত হন প্রায় ১৪ হাজার ফিলিস্তিনি। 

অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল অস্ট্রেলিয়া, দ্য মার্শাল আইল্যান্ডস, মাইক্রোনেশিয়া, নওরু, সলোমন আইল্যান্ডস ও টোগো প্রস্তাবনাটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের একই রকম একটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।


আরো সংবাদ