১৯ নভেম্বর ২০১৮

ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তির দুটি বৈশিষ্ট্য

ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তির দুটি বৈশিষ্ট্য - ছবি : সংগৃহীত

ব্যক্তির জীবনে ব্যক্তিত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করে আপনি কিভাবে অন্যের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করছেন। আপনার আচার-আচরণ বা মনমানসিকতার বহিঃপ্রকাশও নির্ভর করে ব্যক্তিত্বের ওপরই। ইতিবাচক ও নেতিবাচক দু’ভাবেই একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়। একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তির জীবনে ব্যক্তিত্বের এই দুটো বৈশিষ্ট্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশিষ্ট মনোচিকিৎসক ও অধ্যাপক ডা: মোহিত কামালের মতে, ব্যক্তিত্ব হলো মানুষের বৈশিষ্ট্যের সমাহার। অর্থাৎ একেকজন মানুষ একেকরকমের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বেড়ে ওঠে। এই বেড়ে ওঠার সময় পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ থেকে তার মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্য জন্ম নেয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর সমন্বয়ই হচ্ছে ব্যক্তিত্ব। কাদামাটিতে যেভাবে ছাপ ফেলা হয়, শিশুকাল থেকে সেভাবেই মানুষের ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে। শিশুরা যা দেখবে সেভাবেই গড়ে উঠবে।

শিশুরা প্রথম শেখে তার পরিবার থেকে। বাবা-মা বা পরিবারের বড়দের যদি তারা উগ্র-উদ্ধৃত আচরণ করতে দেখে, তাহলে তারাও সেরকম আচরণ করা শেখে। কারণ এর একটা প্রভাব তাদের মধ্যে পড়ে। বড় হয়ে তারাও উগ্র মেজাজের হতে পারে। কারণ শিশুকাল থেকেই অর্থাৎ দুই থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে শিশুর ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে থাকে।

যেহেতু এ সময় শিশুর ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটতে থাকে, তাই এ সময় তাদের আচরণের দিকে বিশেষ লক্ষ রাখতে হবে। এই বয়সী শিশুদের সামনে বড়দের আচরণ সুন্দর ও সংযত হওয়া জরুরি। খেলাধুলা ও সমবয়সী শিশুদের সাথে খেলামেশার সুযোগ করে দেয়া প্রয়োজন। তাদের জন্য শিক্ষামূলক কিছু ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। বাসার সাথে সাথে স্কুলেও শিক্ষকেরা আদর, স্নেহ ও জ্ঞান দিয়ে তাদের নীতিগত আদর্শ গড়ে দিতে পারেন, যা পরবর্তী জীবনে তাদের কল্যাণকর ও নীতিসম্পন্ন কাজ করতে শিক্ষা দেবে। সত্যনিষ্ঠা, নিয়মানুবর্তিতা, সংযত আচরণ, উদারতা এগুলো মানুষের ব্যক্তিত্বে থাকা খুবই জরুরি। অন্য দিকে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ, উদ্ধত আচরণ- এসব দেখে বড় হলে শিশুর মধ্যেও এসবের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ব্যক্তিজীবনের শুরু থেকে প্রত্যেক মানুষের মধ্যে নিজেকে উন্নত করা ও নিজেকে জানার প্রচেষ্টা তার পরিবার থেকেই শিক্ষা দেয়া প্রয়োজন। এটাই হচ্ছে মানুষের মূল চালিকাশক্তি। যাদের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাস ভালো হয়, তারা পরবর্তী জীবনে উন্নতির শিখরে উঠতে পারে। তাদের জীবন হয় সফল। অন্য দিকে যারা এই সময় বিভিন্ন ভয় উৎকণ্ঠা ও অপ্রাপ্তিতে ভোগে, এই অতৃপ্তি তাদের পরবর্তী জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে। অস্থিরতা, অল্পতেই টেনশন করা, অল্পতে রেগে যাওয়া ইত্যাদি নেতিবাচক আচরণের বৈশিষ্ট্য তাদের মধ্যে দেখা দিতে পারে। সুতরাং ব্যক্তিত্ব গঠনের ক্ষেত্রে আত্মনিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

জীবনে সাফল্য পেতে হলে ব্যক্তির জীবনে ইতিবাচক ব্যক্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। ইতিবাচক ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে হলে অবশ্যই নিজেকে ইতিবাচক গুণের অধিকারী করে তুলতে হবে। ইতিবাচক গুণ ব্যক্তিকে শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন যাপন করতে শেখায়। তার পড়াশোনা, চাকরি, সামাজিকতা, পারিবারিক অবস্থা সব কিছুই একটি শৃঙ্খল সাফল্যময় জীবনের পথে এগোবে। অন্য দিকে যে ব্যক্তি টেনশন, মানসিক চাপ, অস্থিরতা অর্থাৎ নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য নিয়ে বড় হয়, তার দক্ষতা, সৃজনশীলতা, সামাজিকতা, পড়াশোনা, চাকরি যেকোন ক্ষেত্রেই এই গুণগুলোর যথাযথ বহিঃপ্রকাশ হয় না। মেধা ও মননের বিকাশের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও নেতিবাচক বেশিষ্ট্যগুলোর ওপর নির্ভর করে একজন ব্যক্তি তার জীবনে জয়ী হবেন, না পরাজিত।


আরো পড়ুন :
ছড়িয়ে যাক সুগন্ধ
আফরোজা খানম

ব্যস্ত দিন শেষে ঘরে ঢুকেই যদি নাকে আসে কোনো দুর্গন্ধ, তখন মেজাজ ঠিক রাখাই কঠিন। ডেম্প, ময়লা, পোকামাকড়- বিভিন্ন কারণেই বাড়িতে দুর্গন্ধ হতে পারে। দুর্গন্ধ দূর করে ঘরে ছড়িয়ে দিন সুগন্ধের সুবাস। কিভাবে? জেনে নিন ঘরোয়া কিছু ফ্রেশনারের খোঁজ।
ষ তেজপাতা, দারচিনি, লবঙ্গ, লেবুর টুকরো চমৎকার সুগন্ধি। রুমফেশনার হিসেবেও অসাধারণ। ছোট ছোট বাটিতে করে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় রেখে দিন।
ষ ছোট বাটিতে অল্প বেকিং সোডা রাখুন। এর সাথে সুগন্ধি তেল মেশান। বাথরুমে বা ঘরের কোনায় রাখলে দুর্গন্ধ চলে যাবে।

ষ ন্যাপথলিনও রাখতে পারেন বাথরুম ও রান্নাঘরের ড্রয়ারে। গন্ধ দূর হওয়ার পাশাপাশি পোকামাকড়ও কমবে।
ষ ঘর মোছার সময় পানিতে সুগন্ধিযুক্ত ফ্লোর ক্লিনার মিশিয়ে প্রতিদিন ঘরের মেঝে পরিষ্কার করে নিন। ঘরে চমৎকার সুগন্ধ ছড়িয়ে থাকবে।
ষ অনেক সময় ঘরে ড্যাম্পের গন্ধ হয়। এ ক্ষেত্রে ঘর মোছার সময় পানিতে লেবুর রস বা স্যাভলন মিশিয়ে নিন।
ষ ঘরের কাঁথা, বালিশ, লেপ, তোশক মাঝে মাঝে রোদে দিন। ভ্যাপসা গন্ধ হবে না।
ষ কার্পেট পরিষ্কার করার সময় ট্যালকম পাউডার ছড়িয়ে রাখুন ১০ মিনিট। এবার ভ্যাকুম ক্লিন করলে নোংরা ও দুর্গন্ধ দুই-ই চলে যাবে।
ষ সুগন্ধি ফুল রাখুন ঘরে। তবে প্রতিদিন পানি বদলে দেবেন।
ষ আজকাল সুগন্ধযুক্ত মোম পাওয়া যায়। দ্রুত ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে দিতে এগুলো খুব ভালো কাজ করে।

ষ রান্নাঘরের সব ময়লা প্রতিদিন বাইরে ফেলার ব্যস্থা রাখুন যেন কোনো রকম দুর্গন্ধ না ছড়াতে পারে।
ষ পরিষ্কার থাকা সত্ত্বেও রান্নাঘরে দুর্গন্ধ হলে অল্প দারচিনি, এলাচ ও তেজপাতা পানিতে ফুটিয়ে নিন। ফুটতে শুরু করলে জ্বাল কমিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। এর সুগন্ধ ঘরে ছড়িয়ে পড়বে।
ষ বাঁধাকপি বা মূলা রান্না করলে ঘরে এগুলোর গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তাই এক টুকরো লেবু দিয়ে দিলে গন্ধ ছড়াবে না।
ষ মাছের গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে গন্ধ তাড়াতে অল্প অলিভ অয়েলের মধ্যে এক টুকরো দারচিনি দিয়ে কিছুক্ষণ গ্যাসে বসিয়ে রাখুন।

ষ লেবু চাক চাক করে কেটে তাওয়ায় সেঁকে নিন, ঘরের দুর্গন্ধ চলে যাবে।
ষ সিংকের খোলা মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে এক কাপ ভিনিগার ও বেকিং সোডা মিশিয়ে ঢেলে দিন। গন্ধ চলে যাবে।
ষ বাথরুম শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে বাথরুমে রেখে দিন।

ষ বাথরুমের এক কোনায় অ্যালোভেরা, ইনডোর পাস বা ফার্ন জাতীয় গাছ রাখুন। টক্সিন শুষে নিয়ে বাতাস রাখবে দুর্গন্ধমুক্ত।
ষ আলমারির ভেতরের ভ্যাপসা গন্ধ দূর করতে চন্দনগুঁড়ার সাথে শুকনো নিমপাতা মিশিয়ে আলমারিতে রেখে দিন।
ষ দারচিনিও রাখতে পারেন।


আরো সংবাদ