২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এলো খুশির ঈদ

এলো খুশির ঈদ - ছবি : সংগৃহীত

ঈদ মোবারক। ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ/তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ।/ তোর সোনা-দানা, বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ/দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ/ ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।’

সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে আজ। বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে শুক্রবার । ঈদুল ফিতর আরবি শব্দ যার অর্থ হচ্ছে উৎসব, আনন্দ, খুশি। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানের অবসানে নতুন চাঁদ দেখামাত্র ছোট-বড়, ধনী-গরিব, প্রতিটি মুসলমানের হৃদয় আনন্দে উদ্বেল হয়ে ওঠে। চার দিকে ধ্বনিত হয় ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’।

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য এক সাথে নামাজ আদায় করতে ছেলে-বৃদ্ধ সবাই শামিল হবেন ঈদগাহ ময়দানে। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করবেন একে অপরের সাথে। দোয়া ও মুনাজাত করবেন বিশ্ব মুসলিমের ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম জাহানের উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনায়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, সংযম সাধনার পর ঈদের দিনে রোজাদারেরা শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যান।
আইয়্যামে জাহেলিয়াত বা প্রাক-ইসলামি যুগেও আরবে ‘নওরোজ’ ও ‘মেহেরজান’ নামে দু’টি বার্ষিক উৎসব ছিল অধিক জনপ্রিয়। হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে দেখতে পান, এ দু’টি জাতীয় উৎসবে মদিনার আবালবৃদ্ধবনিতা নানা প্রকার আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেছে। তখন মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: তাদের তাৎপর্যহীন আনন্দ উৎসবের পরিবর্তে মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধির পবিত্র স্পর্শমণ্ডিত এবং বহুবিধ কল্যাণধর্মী ঈদুল ফিতরের কথা ঘোষণা করলেন। তিনি বললেন, লিকুল্লি কওমিন ঈদ, হা-যা ঈদুনা- অর্থাৎ প্রত্যেক জাতির বার্ষিক আনন্দ-ফুর্তির দিন আছে। ঈদের দিন হচ্ছে আমাদের জন্য সেই আনন্দ-উৎসবের দিন। এভাবেই হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে প্রবর্তিত হলো ঈদ। কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় : ‘আজি আরাফাত ময়দান পাতা গায়ে গায়ে/কোলাকুলি করে বাদশাহ ফকিরে, ভায়ে ভায়ে’। এক মাস রোজার শেষে ঈদের আনন্দ প্রতিটি মানুষের মনে খুশির দ্যোতনা ছড়ালেও দরিদ্ররা কি সেই আনন্দ ভেলায় ভাসতে পারছে? কবির কণ্ঠে তাই ধ্বনিত হয়েছে : ‘জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসে না নিঁদ/মুমূর্ষু সেই কৃষকের ঘরে এসেছে কি আজ ঈদ?’

বিত্তবানেরা এগিয়ে এলে এবং দান-খয়রাত করলে, জাকাত ও ফেতরা প্রদান করলে দরিদ্ররা ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারবে বেশি। তাদের মুখেও হাসি ফুটবে এবং ঈদের ভোর আসবে তাদের জন্য আনন্দবার্তা হয়ে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: ঈদের খুতবায় দান-খয়রাতকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করতেন। এ দিকে ঈদের জন্য আজ থেকে তিন দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। অবশ্য শুক্র ও শনিবার এমনিতেই সরকারি অফিসগুলোতে সাপ্তাহিক ছুটি থাকে।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রোগীদের জন্য হাসপাতাল এবং এতিমখানা ও বন্দীদের জন্য জেলখানায় থাকবে বিশেষ খাবারের আয়োজন। সরকারি শিশুসদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে কল্যাণকেন্দ্র এবং দুস্থ কল্যাণকেন্দ্রে থাকবে উন্নত মানের খাবার এবং বিনোদনের ব্যবস্থা। তবে এরই মধ্যে ঈদের আনন্দ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। কাপড়ের মার্কেট থেকে শুরু করে মসলাপাতির বাজারও জমে উঠেছে। চলছে কেনাকাটার ধুম। নাড়ির টানে গ্রামের পানে ছুটছে মানুষ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ এলাকায় জনগণের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। ঈদ মানুষকে কাছে টানে। দৃঢ় করে সামাজিক ও সম্প্রীতির বন্ধন।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাণীতে তারা বিশ্ব মুসলিমের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।

 

বাসস
রাজধানীতে ৪০৯টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশন রাজধানীতে ৪০৯ ঈদ জামাতের আয়োজন করেছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র কার্যালয়ের কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় বাসসকে জানান, ডিএসসিসি’র ৫৭টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটিতে ৪টি করে এবং জাতীয় ঈদগাহ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠসহ মোট ২৩০টি স্থানে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা এএসএম মামুন জানান, এই সিটি কর্পোরেশনের ৩৬টি ওয়ার্ডের মোট ১৭৯টি ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।

দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়াজনিত কারণে কোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ঈদের প্রধান জামাত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।

এই নামাজে ইমামতি করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। বিকল্প ইমাম হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মিরপুর জামেয়া আরাবিয়ার মুহতামিম শায়খুল হাদীস মাওলানা সৈয়দ ওয়াহিদুয্যামান।
এদিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এবারও ৫টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত হবে সকাল ৭টায়। এর পর আরো ৪টি জামাত হবে যথাক্রমে ৮টা, ৯টা, ১০টা ও পৌনে ১১টায়। প্রথম জামায়াতে ইমামতি করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী, দ্বিতীয় জামায়াতে বায়তুল মুকাররম মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম, তৃতীয় জামায়াতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস মুফতি মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান খান, চতুর্থ জামায়াতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মাওলানা জুবাইর আহাম্মদ আল আযহারী এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামায়াতে তেজগাঁও রেলওয়ে জামে মসজিদের খতিব ড. মাওলানা মুশতাক আহমাদ ইমামতি করবেন।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। কারওয়ান বাজারের আম্বর শাহ শাহি মসজিদে ঈদের দুটি জামাত হবে। প্রথমটি সকাল ৮টায়, দ্বিতীয়টি সকাল ৯টায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআয় ঈদের দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৯টায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মেইন গেইট সংলগ্ন মাঠে ও শহীদুল্লাহ হল লনে সকাল ৮টায় পৃথক দু’টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্ব জাকের মঞ্জিল ও বনানী দরবার শরীফে সকাল সাড়ে ১০টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া রাজধানীর আরামবাগে দেওয়ানবাগ শরীফে ঈদের ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমটি সকাল ৮টা, দ্বিতীয়টি সকাল সাড়ে ৯টা এবং শেষ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।
কাজীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তিনটি জামাত যথাক্রমে সকাল ৭টা, পৌনে ৮টা ও সকাল সোয়া ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। ১১ নম্বর মিরপুর মসজিদ বায়তুল ফালাহ কমপ্লেক্সে প্রথম জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় ও দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।

আরমানিটোলা মাঠে জামাত হবে সকাল ৯টায়। মাতুয়াইল দরবারে মোজাদ্দেদিয়ায় সকাল সাড়ে ৮টায় ও ৯টায় দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সায়েদাবাদ চিশতিয়া সাইদিয়া দরবার শরিফে ঈদের জামাত হবে সকাল ৮টায়। পল্লীমা সংসদ মাঠে সকাল পৌনে ৮টায়। মোহাম্মদপুর জয়েন্ট কোয়ার্টার জামে মসজিদে ঈদের দুটি জামাত হবে। প্রথমটি সকাল ৮টায়, দ্বিতীয়টি ৯টায়। ধলপুর নারিকেলবাগান বড় জামে মসজিদে দুটি জামাত হবে। প্রথমটি সকাল ৭টায়, দ্বিতীয়টি ৮টায়। সায়েদাবাদ আরজুশাহ দরবার শরিফে তিনটি জামাত হবে। প্রথমে সকাল সাড়ে ৭টায়, এরপর সাড়ে ৮টায়, সর্বশেষ সকাল সাড়ে ৯টায়।

খিলক্ষেত কুর্মিটোলা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টা ও সকাল পৌনে ৯টায় দুটি জামাত হবে। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের হারুন মোল্লাহ্ ঈদগাহ, পার্ক ও খেলার মাঠে ও লক্ষ্মীবাজারের মিয়া সাহেবের ময়দান খানকা শরিফ জামে মসজিদে সকাল সোয়া ৭টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মোহাম্মদপুরের মসজিদ-এ-তৈয়্যেবিয়ায় সকাল ৮টা ও সকাল ৯টায় দুটি জামাত হবে। মীরবাড়ী আদি জামে মসজিদ ও যাত্রাবাড়ীর উত্তর কুতুবখালী জামে মসজিদে ঈদের জামাত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। যাত্রাবাড়ীর উত্তর কুতুবখালী জামে মসজিদে দুটি জামাত হবে। প্রথমটি সাড়ে ৭টায়, দ্বিতীয়টি সাড়ে ৮টায়।

মীরবাগ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়, এলিফ্যান্ট রোডের অ্যারোপ্লেন মসজিদ, মালিবাগের আবুজর গিফারী কলেজ মাঠ, পশ্চিম আগারগাঁও দারুল ইমান জামে মসজিদ, গেন্ডারিয়া ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠে সকাল ৮টায়, কলাবাগানের বশিরউদ্দিন রোড জামে মসজিদ, ২/২ দারুস সালাম মিরপুর ফুরফুরা দরবারের মারকাজে ইশাআতে ইসলাম মসজিদ কমপ্লেক্স, কামরাঙ্গীরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান, নারিন্দার মশুরীখোলা শাহ্ সাহেব বাড়ি জামে মসজিদ, লক্ষ্মীবাজার নুরানি জামে মসজিদ এবং বনানী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

 


আরো সংবাদ