২২ জুন ২০১৮

উত্তর কোরিয়াকে যা বললো ইরান

উত্তর কোরিয়াকে যা বললো ইরান - সংগৃহীত

মার্কিন প্রশাসনকে বিশ্বাস করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি। উত্তর কোরিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মার্কিন সরকারের আচরণই এমন যে তাদের ওপর ভরসা করা যায় না।

তার কথাকে অবশ্য ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ, ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে এসেছেন ট্রাম্প। অন্য দেশগুলো চুক্তি থেকে বের হতে না চাইলেও ট্রাম্প কারো কথা রাখেননি। সে কারণে উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক করে দিয়ে ইরানের এই কর্মকর্তা বলেন, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস না করে।

মঙ্গলবার সেন্তোসা দ্বীপের ক্যাপেল্লা হোটেলে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকের পর শিডিউল অনুযায়ী সাংবাদিকদের সামনে আসেন ট্রাম্প। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, প্রকৃত পরিবর্তন যে সম্ভব তা প্রমাণ হয়েছে। কিমের সঙ্গে তার ওই বৈঠককে আন্তরিক, খোলামেলা ও ফলপ্রসূ হিসেবেও  বর্ণনা করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমরা একটি নতুন ইতিহাস, একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য প্রস্তুত। আমরা একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছি; যাতে কোরীয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে উত্তর কোরিয়ার দ্বিধাহীন অঙ্গীকার রয়েছে। চেয়ারম্যান কিম আমাকে বলেছেন, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার একটি স্থাপনা ধ্বংস করতে শুরু করেছে।

ট্রাম্প অারো বলেন, আমরা এমন একটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি; যেখানে সব কোরীয় ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করবেন। যেখানে যুদ্ধে অন্ধকারকে দূর করবে শান্তির আলো। এটাই হবে যৌক্তিক এবং এটা আমাদের নাগালের কাছে। মানুষ মনে করেছিল, এটা কখনই হবে না।

দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়া বন্ধের ঘোষণা

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার অবসান ঘটানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, কোরীয় উপদ্বীপের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন করতে ব্যয়বহুল ও খুবই উসকানিমূলক মহড়ার অবসান ঘটানো হবে।

তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন যে স্বাক্ষরিত বিবৃতির শর্ত অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র এখনই সেনাবাহিনী সরিয়ে নেবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়ে আসছে যা উত্তর কোরিয়াকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। এ মহড়াকে তাদের ওপর সামরিক আগ্রাসনের প্রস্তুতি হিসেবে দেখতো উত্তর কোরিয়া।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো বলেন, সামরিক মহড়া অনেক ব্যয়বহুল। আমরা এর বেশিরভাগ ব্যয় বহন করতাম। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। আমি মনে এ ধরনের সামরিক মহড়া চালানো ঠিক হবে না।

শীর্ষ বৈঠকের পর ট্রাম্প ও কিম একটি যৌথ ঘোষণায় সই করেছেন যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে নতুন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে কিম জানান যে, উত্তর কোরিয়া সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে রাজি। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি দ্বিপাক্ষিক ‘সমন্বিত’ দলিলে সই করেছেন।

বিবিসি

উ. কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে : ট্রাম্প

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

তিনি আরো বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি তিনি কমাবেন না; তবে যুদ্ধের খেলা বন্ধ করবেন। এছাড়া শিগগিরই কোরীয় যুদ্ধের অবসান ঘটানো হবে। 'আমরা এই চুক্তি নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছি। বিস্তারিত জানার জন্য আগামী সপ্তাহে জন বোল্টনের সঙ্গে আমরা বসবো। আমরা ক্ষুদ্র পরিসরে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও চীনের সঙ্গে কাজ করছি' বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প আরো বলেন, আনন্দের সঙ্গে এই দেশে আমি আবারো আসবো। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী চমৎকার ভালো মানুষ। তিনি খুবই অতিথিপরায়ণ। তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে আরো বিশদ আলোচনা হবে। নিষ্ঠুর কোরীয় যুদ্ধে আটকে পড়াদের ফেরত পাওয়ার আকুতি জানিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার অসংখ্য মানুষের কল, চিঠি ও টুইট আমার কাছে আসে। তারা তাদের ছেলে-মেয়ে, বাবা-মাকে ফেরত চান। সে ব্যাপারেও কথা বলেছি।


আরো সংবাদ