২৩ জুন ২০১৮

ফাটল ধরেছে পশ্চিমা বিশ্বে, দ্রুতই ভাগের ইঙ্গিত!

ফাটল ধরেছে পশ্চিমা বিশ্বে, দ্রুতই ভাগের ইঙ্গিত! - সংগৃহীত

কানাডার কুইবেক শহরে অনুষ্ঠিত শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি-সেভেনের চূড়ান্ত ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সই করতে অস্বীকৃতি জানানোর মধ্যদিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে ফাটল স্পষ্ট হয়েছে। একথা বলেছেন মার্কিন খ্যাতিমান রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিটার কোনিং।

তিনি বলেন, শেষ মুহূর্তে জি-সেভেনের চূড়ান্ত ঘোষণায় সই করা থেকে বিরত থেকে ট্রাম্প পরিষ্কার করেছেন যে, পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে মতভদ সৃষ্টি হয়েছে এবং তা বাড়ছে। ইরানের প্রেস টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পিটার কোনিং সম্প্রতি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে যা ঘটছে তা হলো আমেরিকা এবং জি-সেভেনের মিত্রদের মধ্যে ফাটল দ্রুত বড় হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অবশ্যই এই সংগঠন টিকবে না।

কোনিং আরো বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কুইবেকে যা ঘটিয়েছেন সেটাই প্রথম ঘটনা নয় বরং তিনি ইরানের সাথে পরমাণু সমঝোতা বাতিল করেছেন, উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে বৈঠক থেকে তিনি নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন এবং শূল্ক নিয়ে তিনি চীন ও পশ্চিমা মিত্রদের সাথে বিতর্কে জড়িয়েছেন।

রাশিয়াকে জি-৭ জোটে ফিরিয়ে আনতে চান ট্রাম্প : ইউরোপ-কানাডা নারাজ
গার্ডিয়ান

কানাডায় জি-৭ বৈঠকের প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউরোপীয় নেতাদের অবস্থানগত পার্থক্য বেশ ফুটে উঠেছে। ট্রাম্প জি-৭ এর সদস্য হিসেবে রাশিয়াকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি কানাডাও ওই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ‘না’ বলে দেয়। ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কের বিষয়ে হওয়া আলোচনায়ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভিন্ন মত পোষণ করে বাকি সদস্যরা। ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর আরোপ করা শুল্কের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করার পর জি-৭ থেকে রাশিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আর এখন ট্রাম্প চাইছেন তাকে ফিরিয়ে আনতে। ট্রাম্প বলছিলেন, ‘আপনাদের ভালো লাগুক আর না লাগুক, এমন কি বিষয়টি যদি রাজনৈতিক দিক থেকে ভুল হয়েও থাকে তাহলেও বিশ্ব পরিচালনার স্বার্থে এখন যেটা জি-৭, রাশিয়াকে ফিরিয়ে এনে সেটাকে আবার জি-৮ হিসেবে গড়ে তোলা উচিত।’ কিন্তু সম্মেলনের সভায় জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেল জানিয়ে দেন, ইউক্রেনের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হলে জি-৭ জোটে রাশিয়াকে ফিরিয়ে আনার পক্ষপাতী নন তারা। কানাডাসহ অন্য দেশগুলোও জার্মানির কথায় সমর্থন দেয়।

ট্রাম্প হঠাৎ রাশিয়াকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছেন এ জন্য যে, ট্রাম্প ভালো করেই জানতেন ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়াকে ফেরত আনার বিষয়ে রাজি হবেন না। আর রাশিয়াও জানিয়ে দিয়েছে তারা জি-৭ টাইপের কোনো সংগঠনে যেতে ইচ্ছুক নয়, অন্য কোনো সংগঠনে যেতে আগ্রহী তারা। এরকম পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের রাশিয়াপ্রীতিকে নিছকই দৃষ্টি অন্য দিকে ঘোরানোর চাল হতে পারে। 

ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর আরোপ করা শুল্কের বিষয়েও সদস্যরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ বলেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো। অন্য দিকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, শুল্ক, জলবায়ু পরিবর্তন ও ইরান বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান বিপজ্জনক। তার ভাষ্য, ‘যা আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলেছে তা হলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক হুমকির মুখে পড়েছে। আর তা সাধারণত যাদের সন্দেহ করা হয় তাদের মাধ্যমে নয় বরং এই ব্যবস্থার মূল আর্কিটেক্ট ও গ্যারান্টার যুক্তরাষ্ট্রের কারণে।’

ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ট্রাম্প তাকে বলেছেন, শুল্কের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিল তবে এখন তারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছে। জবাবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেন, তারা সবাই একটি সমঝোতাই চাইছেন।


আরো সংবাদ