২৩ জুন ২০১৮

ট্রাম্পের মিশন ভেস্তে দেবেন পুতিন, আমেরিকায় আমন্ত্রিত হতে পারেন কিম

ট্রাম্পের মিশন ভেস্তে দেবেন পুতিন, আমেরিকায় আমন্ত্রিত হতে পারেন কিম - সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জন-উনের ১২ জুন বৈঠকের সিদ্ধান্ত, দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে চলমান যুদ্ধাবস্থার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানা এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ভালোই বোঝাপড়া হয়েছে। ঠিক এ রকম একটি সময়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার খেলার মধ্যে রাশিয়া ঢুকে পড়েছে এবং চমকে ওঠার কিছু নেই, রাশিয়া পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষেই থাকছে।

গত সপ্তাহে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ হঠাৎই পিয়ংইয়ং সফর করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর কোরিয়া নীতিকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং সম্ভব হলে ব্যর্থ করে দিতে ক্রেমলিন চেষ্টা চালানো শুরু করে দিয়েছে। কিম জং–উনের হাতে লাভরভ পুতিনের লেখা একটি চিঠি তুলে দিয়েছেন এবং উনকে জানিয়ে দিয়েছেন, পুতিন এ বছরের শেষের দিকে পিয়ংইয়ং সফর করতে যাবেন। কিমকে দেয়া মস্কোর প্রধান উপদেশ হচ্ছে- খবরদার, উত্তর কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ উঠিয়ে না নেয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র কিংবা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম নষ্ট করবেন না।

লাভরভের উত্তর কোরিয়া সফরের মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট হয়েছে, আমেরিকার সাথে রাশিয়ার বৈরিতা একটি নতুন পর্যায়ে যাচ্ছে। এই অঞ্চলে দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র। তাদের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্যিক নির্ভরতার সম্পর্ক রয়েছে। তাই চাইলেও তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গিয়ে উত্তর কোরিয়াকে বেশি সহায়তা দিতে পারবে না। কিন্তু রাশিয়ার সেই পিছুটান নেই। এ কারণে সে ট্রাম্পের উত্তর কোরিয়া মিশনকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করবে।

উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র যা চায়, তার সাথে রাশিয়ার দেয়া এই উপদেশ সরাসরি সাংঘর্ষিক। যুক্তরাষ্ট্র চায়, উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেয়ার আগে অবশ্যই পিয়ংইয়ংকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পেশ করতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ১২ জুন সিঙ্গাপুরে বৈঠকে বসবেন। আলোচনা ঠিকঠাক হলে কিম জং-উনকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ...আলোচনা ঠিকঠাক হলে এটা সম্ভব।’

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা ইতিবাচক হলে কিমকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।সবকিছু সুন্দরভাবে শেষ হলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে এটাই আশা করছি। আমরা সত্যিকারভাবেই চাচ্ছি সম্পর্কটা স্বাভাবিক হোক। আলোচনা সফল হলে উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সাহায্য করবে। চিঠিটা খুব আকর্ষণীয় ও সুন্দর ছিল। তবে খুব বেশি কিছু লেখা ছিল না এতে।


আরো সংবাদ