১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

মওসুমী বৃষ্টিপাতে চলতি মাসেই বন্যার শঙ্কা

মওসুমী বৃষ্টিপাতের ফলে চলতি মাসেই দেশের কোথাও কোথাও বন্যা হতে পারে। দেশের উত্তর, উত্তর পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের কিছু কিছু স্থানে বন্যা হয়ে যেতে পারে ভারী বর্ষণ ও অন্যান্য কারণে। এই অঞ্চলগুলো প্রতিবেশী দেশের সাথে লাগোয়া। এই অঞ্চলে যেসব নদী রয়েছে এগুলো সীমান্তের ওপারের নদীর সাথেও যুক্ত। এছাড়া এসব অঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে সীমান্তের ওপার থেকে হঠাৎ অতিদ্রুত গতিতে নিচে নেমে আসা পাহাড়িয়া ঢল।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ‘চলতি মাসে বন্যা যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে তা স্বল্প ও মধ্য মেয়াদী।’ স্বল্প মেয়াদী বন্যার পানি খুব দ্রুত শুকিয়ে যাবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেই। কিন্তু মধ্য মেয়াদী পানি কিছুদিন থেকে যেতে পারে। সবই নির্ভর করবে আবহাওয়ার ওপর। এ সময়ের মধ্যে মওসুমী বায়ু প্রবল থাকলে হয়তো বন্যার পানি দীর্ঘায়িত হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর পূর্বাঞ্চলের মেঘনা নদীর উপরের অঞ্চলগুলোর নদীগুলোতে পানি এখনো বাড়ছে না, স্থিতিশীল রয়েছে। অপরদিকে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে ধীরে ধীরে।

মওসুমী বায়ুর দেশ বাংলাদেশে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি বছর জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশে মওসুমী বায়ু প্রবেশ করে। কোনো কোনো সময় জুন মাসের মাঝামাঝিতে প্রবেশ করে। কক্সবাজার জেলার টেকনাফ অঞ্চল দিয়ে তা প্রবেশ করতে শুরু করে। পরে চট্টগ্রাম বিভাগ ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোর আকাশে আসে। পরে কয়েক দিনের মধ্যে দেশের অন্যান্য স্থানে প্রচুর জলীয় বাষ্প নিয়ে আসা বায়ু প্রবেশ করে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত মওসুমী বায়ু চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগসহ ঢাকা বিভাগের পূর্বাংশ পর্যন্ত প্রবেশ করেছে। আবহাওয়া যথেষ্ট অনুকূলে থাকায় সামনের দিনগুলোতে এটা বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিস্তার লাভ করবে। আশা করা হচ্ছে, এ মাসের প্রথমার্ধের মধ্যে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। জুন মাসের প্রথমে বঙ্গোপসাগরে কোনো ঝড় থাকলে মওসুমী বায়ু আসতে দেরি করে। গত এপ্রিল ও মে মাসে দেশে দুইটি করে চারটি নিম্নচাপের পূর্বাভাস ছিল। এপ্রিলে একটি ও মে মাসে একটি করে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসও দেয়া হয়েছিল আবহাওয়া অফিস থেকে। তবে মে মাসের ৩০ তারিখে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়ে ৩১ মে মিয়ানমারের রাখাইন উপকূলে উঠে গিয়ে তা দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু চলতি মাসে আর কোনো ঘূর্ণিঝড় হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। হতে পারে দুইটি মওসুমি নিম্নচাপ। এ নিম্নচাপ দেশে বৃষ্টিপাত বাড়িয়ে দেবে এবং ভারী বর্ষণ দীর্ঘায়িত করবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী নিম্নচাপ হওয়ার পর থেকে যে ভারী বর্ষণ হবে তাতে দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদীগুলো ভরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে উত্তর, উত্তর পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিন পূর্বাঞ্চলে হতে পারে বন্যা।
রোববার দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হয়েছে। মওসুমী বায়ু ও পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে দেশের সর্বত্র বৃষ্টিপাত হয়ে গেছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্ববতী ২৪ ঘন্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল সিলেটে ৯১ মিলিমিটার। রাজধানীতে একই সময় ৪০ মিলিমিটার বর্ষণ হয়েছে।


আরো সংবাদ