২৩ জুন ২০১৮

ট্রাম্পের কাছে কিমের লেখা চিরকুট হোয়াইট হাউজে

ট্রাম্পের কাছে কিমের লেখা চিরকুট হোয়াইট হাউজে - সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের লেখা একটি চিরকটু নিয়ে হোয়াইট হাউজে হাজির হয়েছেন দেশটির কূটনীতিকরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদল তাদের নেতা কিম জং উনের লেখা ওই চিরকূট হস্তান্তর করবেন বলে জানা গেছে।

কিমের খুবই আস্থাভাজন জেনারেল কিম ইয়ং চোল নেতৃত্বাধীন উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদলটি বুধবার চীন থেকে ওয়াশিংটন পৌঁছায়। সেখানে তারা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। শুক্রবার চোল নেতৃত্বাধীন দলটির হোয়াইট হাউজে যাওয়ার কথা রয়েছে।

চোলের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেই বলেছেন, দ্রুত অগ্রগতি আসবে না। এ ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগবে। এ দিকে সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প ও কিংয়ের বৈঠকের সম্ভাব্য বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করতেই উত্তর কোরিয়ার এই কূটনীতিক দল ওয়াশিংটনে পৌঁছায়। এর আগে মার্কিন কূটনীতিক দলও উত্তর কোরিয়ায় সফর করেন।

সিঙ্গাপুরে কিমের শীর্ষ সহযোগী : ট্রাম্প-কিম বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে
রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শীর্ষ বৈঠক নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। তবে বৈঠকের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সোমবার রাতে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা কিম চ্যাং সন সিঙ্গাপুরে গিয়েছেন। এমনটাই জানিয়েছে জাপানি সংবাদ মাধ্যম এনএইচকে।

আগামী ১২ জুন সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প-কিমের শীর্ষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিম চ্যাং সন উত্তর কোরীয় নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন। সোমবার রাতে তিনি বেইজিং হয়ে সিঙ্গাপুরে যান বলে এনএইচকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এদিকে সোমবার রাতেই যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তাদের একটি দলও জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ঘাঁটি ইয়োকোতা থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয় বলে জানিয়েছে এনএইচকে। মার্কিন কর্মকর্তাদের এই দলটিতে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ফর অপারেশন্স জো হ্যাগিন রয়েছেন।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, উত্তর কোরীয়দের সাথে সাক্ষাতের জন্য ‘প্রাক-অগ্রবর্তী’ দল সিঙ্গাপুরে গিয়েছে। কাজেই বোঝা যাচ্ছে যে, ট্রাম্পের মনোভাব যেমনই হোক, আয়োজনের সাথে যুক্ত কর্মকর্তার ঠিকভাবেই বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সোমবার সিঙ্গাপুরে যাওয়া উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল পরস্পরের সাথে সাক্ষাৎ করে বৈঠকের বিস্তারিত খুঁটিনাটি ঠিক করতে ব্যস্ত রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হঠাৎ করেই গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুর বৈঠক বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। আর এর আগে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত চাপ দিচ্ছে অভিযোগ তুলে কিমও সম্মেলন বাতিলের হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পের ঘোষণার পর উত্তর কোরিয়া সংহতির সুরে বলেছিল, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘যে কোনো সময়’ কথা বলতে প্রস্তুত।

উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র আবারও মুখোমুখি অবস্থানে চলে যাওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালনের প্রস্তাব দেন। গত শনিবার দুই কোরিয়ার শীর্ষ দুই নেতার আকস্মিক বৈঠকে উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ বৈঠক ‘অবশ্যই হওয়া দরকার’, কিম-মুনের এমন মনোভাবে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে ট্রাম্প ‘যথা সময়ে যথা স্থানে’ কিমের সঙ্গে তার বৈঠক হবে বলে জানান।

সম্মেলনে কী নিয়ে আলোচনা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে কোরীয় উপদ্বীপ পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করা এবং উত্তেজনা প্রশমণই মূল আলোচ্য বিষয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিপরীতে উত্তর কোরিয়া চাইছে তাদের ওপর থেকে সব ধরনের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।


আরো সংবাদ