২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

চকোলেটপ্রেমীদের জন্য দুঃসংবাদ

-

ঘানার বিস্তীর্ণ অঞ্চল-জুড়ে কোনো গাছ নেই। এই স্থানে এক সময় ছিল কোকো গাছ। বলতে গেলে বনের মত ছিল এর বিস্তার।

একসময় সেখানকার নারীদের জীবিকার প্রধান উৎস এই কোকো হলেও এখন সেলাই মেশিনে কাপড় সেলাই করে জীবন চালাতে হচ্ছে।

কেননা আগে যেখানে কোকো চাষ হতো সেখানে এখন বিশাল এলাকাজুড়ে গর্ত খোড়া হয়েছে স্বর্ণখনির জন্য। এখন প্রশ্ন উঠেছে এই অবৈধভাবে গড়ে তোলা গর্ত কি চকলেটকে স্বর্ণে রূপান্তরিত করবে?

ঘানায় যে কোকোর চাষ হয় একে স্থানীয়ভাবে বলা হয় গ্যালামসে। পরে এই বনাঞ্চলে চীনা বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে অবৈধ স্বর্ণ খনি স্থাপন করা হয়।

কাওয়া বারফোর ২৫ বছর ধরে কোকো চাষ করছেন। তবে এখন তিনি নিজের কষ্টে গড়া এই কোকো বনের একটি অংশ বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। দরিদ্রতার কারণে নিজেকে নিরুপায় বলে আক্ষেপ তিনি।

বারফোর যদি তার জমিতে কোকো চাষ করেন তাহলে বছরে এক হাজার ডলার আয় হতো। তবে জমি বিক্রি করে দেয়ায় তিনি ৪৫ হাজার ডলার একসাথে পাবেন।

তবে ঘানার এই অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের কারণে চকোলেটের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কিন্তু এর আরেকটা ক্ষতির দিকও রয়েছে।

মারাত্মক দূষণের মুখে পড়েছে সেখানকার পরিবেশ। সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আর খনির পিটগুলো থাকা পানিতে যে ক্ষতিকর মারকারি, লেড, সায়ানাইড আছে সেই বিষাক্ত পানি গিয়ে মিশছে পার্শ্ববর্তী নদীতে।

ঘানার একটি কোকো বাগান কেটে ফেলা হয়েছে

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ এসব খই খনি বন উজাড় করার পাশাপাশি তাদের পানির উৎস ধ্বংস করে দিচ্ছে। দুষণের কারণে মাটিতে কোনো ফসল ফলানো যাচ্ছে না।

বিশ্বে যত কোকো উৎপাদন হয় তার ২০ শতাংশ উৎপাদন হয় ঘানায়।

ইউনিভার্সিটি অব ঘানার একজন অধ্যাপক ড্যানিয়েল সারপং জানান, যদি এই খনি এখনই এটা বন্ধ করা না হয় তাহলে আগামী তিন থেকে ৫ বছরের মধ্যে ৫০ শতাংশ কোকো উৎপাদন করা সম্ভব হবে না।

সুতরাং যারা চকোলেট পছন্দ করেন তাদের উপরেও প্রভাব ফেলবে এই সঙ্কট।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme