১৬ অক্টোবর ২০১৯

নেতানিয়াহুর দিন শেষ!

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। এই সময়কালে ইসরায়েলের মানুষকে নিরাপত্তা নিয়ে প্রায় কোনো দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। আত্মঘাতী হামলা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্তব্ধ করে দেয়নি।

অন্যদিকে চরম বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন এই নেতা। তার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রতারণাসহ একাধিক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে, সেগুলির ভিত্তিতে তদন্তও চলছে। ক্ষমতা হারালে ও সংসদ সদস্য হিসেবে রক্ষাকবচ উঠে গেলে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

এই অবস্থায় নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নির্বাচনকেই হাতিয়ার করেছিলেন নেতানিয়াহু। গত এপ্রিল মাসে নির্বাচনে কোনোরকমে জিতে জোট সরকার গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় আবার নির্বাচন আয়োজন করতে হয়েছে। মঙ্গলবার ইসরায়েলের মানুষ আবার ভোট দিয়েছেন।

এখনো ফলাফল জানা না গেলেও বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী এবারও নেতানিয়াহুর পক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। বুথ ফেরত জরিপে দেশটির ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী লিকুদ পার্টি ৩০ থেকে ৩৩ আসনে জয় পেতে পারে। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান ও মধ্যপন্থী নীল এবং সাদা জোটের বেনি গ্যান্তেজ ৩২ থেকে ৩৪ আসনে জয়ী হতে যাচ্ছেন।

এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিপক্ষ সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন প্রধান ও মধ্যপন্থি ‘নীল ও সাদা' দলের নেতা বেনি গানৎস। দুজনের মধ্যে কেউই জয়ের দাবি করতে পারছেন না। মঙ্গলবার রাতে লিকুদ দলের সদর দপ্তরে নেতানিয়াহুকে কিছুটা বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।

অন্যদিকে গানৎস আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ছিলেন। শেষ পর্যন্ত যে দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাক না কেন, জোট গড়তে অন্যান্য দলের সমর্থনের প্রয়োজন হবে। ধর্মীয় ভবাদর্শে উদ্বুদ্ধ ও ধর্মনিরপক্ষ দলগুলির মতিগতির উপর সেই জোটগঠন অনেকটাই নির্ভর করবে। ধর্মভিত্তিক দলগুলি নেতানিয়াহু ও ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলি গানৎস-এর প্রতি সমর্থন জানাতে পারে। তবে সরকার গড়ার উদ্যোগ আবার বিফল হলে জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। ডয়েচে ভেলে।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum