১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ইয়েমেনের জেলে সৌদি বিমান হামলা : নিহত ৬০

ইয়েমেনের জেলে সৌদি বিমান হামলা : নিহত ৬০ - ছবি : সংগৃহীত

হাউছি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিমান হামলায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের একটি কারাগারে ৬০ জন মানুষ নিহত হয়েছে। রোববার ইয়েমেনের বিদ্রোহীগোষ্ঠী হাউছির এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাউছিদের স্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র ইউসুফ আল-হাদরি বলেছেন, রোববার ইয়েমেনের ধামার শহরের একটি কারাগারে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি ও আরব আমিরাত নেতৃত্বাধীন জোট। এতে কমপক্ষে ৬০ জন নিহত হয়েছেন। বোমায় বিধ্বস্ত ভবনটি ধামর শহরের উত্তরে আটক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বিদ্রোহীদের পরিচালিত টেলিভিশন চ্যানেল আল-মাসিরাহকে তিনি বলেছেন, ধামার কমিউনিটি কলেজে মোট ১৮৫ জন যুদ্ধবন্দী ছিল। ধামার কমিউনিটি কলেজকে কারাগার হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

এর আগে হাউছির মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুস সালাম টুইটার এক বার্তায় বলেছিলেন, সৌদি জোটের বিমান হামলায় ওই কারাগারে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৫০ জন এবং আহত হয়েছেন আরো শতাধিক। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত সামরিক জোটের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ধামারে হাউছি বিদ্রোহীদের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। এতে হাউছিদের মজুদকৃত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস হয়েছে।
পাশ্চাত্য-সমর্থিত জোটটির বিমান হামলায় বেসামরিক লোকদের নিহত হওয়ার কারণে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো তীব্র সমালোচনা করছে। তবে জোটটি বলেছে যে, তারা ধামরে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলছে।

হাউছির একজন মুখপাত্র মোহাম্মদ আল-বুখাইতি আল জাজিরাকে বলেছেন, ধামারে প্রতিষ্ঠানে যারা বন্দী ছিলেন তারা মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন। প্রেসিডেন্ট আবদু-রাব্বিহ মনসুর হাদির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সাথে বন্দী বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে তারা মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন। 
কারাবন্দী বিষয়ক হাউছি জাতীয় কমিটির প্রধান আবদুল কাদের আল-মুর্তজা আল মাসিরাহ টিভিকে বলেছেন, অনেক কারাবন্দীর ভাগ্যে কী ঘটেছে সে সম্পর্কে এখনো জানা যায়নি। অব্যাহত বোমা বর্ষণের কারণে উদ্ধারকারী দলগুলো ওই এলাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি। আটক কেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে আগে থেকেই জোটের পাশাপাশি রেডক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটিরও জানা ছিল।

আইসিআরসি একটি টুইটার পোস্টে বলেছে যে, তারা একটি দলকে উভয়পক্ষের হতাহতদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য পাঠিয়েছে। তারা ধামরে ১০০ জন গুরুতর আহত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করবে। ২০০ লাশ বহনকারী ব্যাগও সরবরাহ করতে পারবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, রোববার রাতভর ধামারে কমপক্ষে ছয়বার বিমান হামলা চালানো হয়েছে। একজন বাসিন্দা বলেছেন, বিস্ফোরণগুলো প্রবল ছিল এবং পুরো শহর কেঁপে উঠেছিল। এর পরে সকালের আগে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দ পাওয়া যায়নি।
২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্ট আব্দু রাব্বিহ মানসুর হাদিকে ক্ষমতাচ্যুত করে হাউছি বিদ্রোহীরা। পরে আব্দু রাব্বিহ মানসুর দেশ ছেড়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে চলে যান। এখনো দেশের বাইরে তিনি। 

মানসুর হাদি চলে যাওয়ার পরই ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি সামরিক জোট। ইয়েমেনে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত এক দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হাদি সরকারকে সমর্থন করছে, অন্য দিকে দক্ষিণে তার বিরোধীদের সহায়তা অব্যাহত রেখেছে এবং মূল ভূখণ্ড থেকে দক্ষিণাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করার পথ প্রশস্ত করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সৌদি-আমিরাত নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হাউছিদের অধিকৃত অঞ্চলে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ হাজারেরও বেশি বার বিমান হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সানা ও অন্যান্য অঞ্চলে ঘাঁটি গেড়ে থাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাউছিরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির আরো কয়েকটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আন্তঃসীমান্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। 

বর্তমানে ইয়েমেন যুদ্ধের পঞ্চম বছর চলছে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এই প্রাণহানির কারণে ইয়েমেনের যুদ্ধকে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ মানবিক সঙ্কট বলে অভিহিত করেছে জাতিসঙ্ঘ। কয়েক বছর ধরে চলে আসা এই যুদ্ধের অবসানে দেশটির বিদ্রোহীদের সাথে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে জাতিসঙ্ঘ।

সূত্র : আল জাজিরা ও রয়টার্স


আরো সংবাদ